অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : চট্টগ্রামের ভুজপুরে শ্যালিকাকে হত্যার ১৩ বছর পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শাহ পরানকে (৩২) গ্রেফতার করেছে র্যাব। শুক্রবার (২৬ মে) রাতে জেলার রাউজান থানাধীন নোয়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। সে ভুজপুর থানাধীন পূর্ব হাসনাবাদ এলাকার নূর মোহাম্মদের ছেলে। গ্রেফতার এড়াতে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে চট্টগ্রাম নগরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন ছিল।
র্যাব জানায়, ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে দেলোয়ারা বেগমের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় তার। বিয়ের পর শাহ পরান সংসারের অভাব অনটন এবং পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতো। স্ত্রী নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে স্বামীকে তালাক দিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। এতে সে বিভিন্ন সময় স্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দিতো।
র্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মো. নূরুল আবছার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ২০১০ সালের ১ এপ্রিল দেলোয়ারা বেগম ও তার ১০ বছর বয়সী ছোট বোন ফারহানা ইয়াছমিন রাতে খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। শাহ পরান তার ভগ্নীপতি নাসিমকে নিয়ে হত্যার উদ্দেশে ঘরে প্রবেশ করে। পরে ঘুমন্ত দেলোয়ারার বুকের ডান পাশে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে। এ সময় আহত অবস্থায় চিৎকার করলে তার মা ও ছোট বোন ঘুম থেকে জেগে ওঠেন। তাদের বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে হাতে থাকা ছোরা দিয়ে শ্যালিকার পেটে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
র্যাবের এই কর্মকর্তা আরও জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে ভুজপুর থানায় দুজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। ঘটনার পরপরই মূল আসামি গ্রেফতার হলেও মামলা চলাকালে জামিন নিয়ে পলাতক যায়। দীর্ঘদিন পলাতক ও আদালতে হাজিরা না দেওয়ার আসামির অনুপস্থিতে চট্টগ্রাম দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন।