অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : সম্প্রতি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের ওপর আবারও হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইহুদিবাদী ইসরাইল।
ইসরাইলি দৈনিক ইয়োদইয়ুত অহরোনোত লিখেছে, ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে গড়ে তোলা ৫৪ নম্বর ইউনিটকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর তৎপরতা বা গতিবিধির ওপর নজরদারি করার!
ইরানের সঙ্গে আগামী দিনগুলোতে কোনো যুদ্ধ বেঁধে গেলে যাতে আগেভাগেই প্রস্তুতি নিতে পারে ইসরাইল সে জন্যই এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
ইসরাইল ইরানে হামলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন খবর খুবই হাস্যকর বা শিশু-সুলভ কল্পনা মাত্র! ইসরাইলের গড ফাদাররাও যেখানে ইরানে হামলার কথা চিন্তা করছে না সেখানে হামলার জন্য ইসরাইলের প্রস্তুতির দাবি আষাঢ়ে গল্প মাত্র।
সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করে আসছে যে ইরান কখনই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করবে না তা নিশ্চিত করতে কূটনীতিই সর্বোত্তম উপায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাথে এ সংক্রান্ত যোগাযোগ ও বার্তা পাঠানোকে নিজের স্বার্থের অনুকূল বলে মনে করে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।
আসলে ইসরাইল ইরানের সঙ্গে তো দূরের কথা লেবাননের হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধে জড়ালেও প্রায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাবে। আর ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ালে ইসরাইল ফিলিস্তিন, সিরিয়া ও লেবানন থেকেও হামলার শিকার হয়ে কয়েক দিনের মধ্যেই তার অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
ইসরাইলের সাম্প্রতিক এইসব হুঁশিয়ারির আসল কারণ হল মার্কিন সরকার ইরানের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনায় বসে পরমাণু চুক্তি পুনরুজ্জীবনের অথবা এ ধরনের কোনো নতুন চুক্তি স্বাক্ষরের চেষ্টা করছে। ইসরাইল এ ধরনের কোনো নতুন চুক্তি বানচাল করতে চায়।
ইরান অল্প ক’দিনের মধ্যেই পরমাণু অস্ত্র বানিয়ে ফেলবে বা তা নির্মাণ প্রায় সম্পন্ন –এমন দাবি ইসরাইল বহু বছর আগে থেকেই করে আসছে। এইসব দাবির ও বর্তমান দাবিগুলোরও উদ্দেশ্য হল মার্কিন সরকার থেকে বাড়তি সাহায্য পাওয়া!
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ইরান ইস্যুকে গরম করার চেষ্টা করছেন অন্য যে কারণে তা হল মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন এখনও নেতানিয়াহুকে ওয়াশিংটন সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানাননি। নেতানিয়াহুর মন্ত্রীসভায় অতি উগ্র ইহুদিবাদী সদস্য নিয়োগ নিয়ে সন্তুষ্ট নয় বাইডেন সরকার! এ ছাড়াও ইসরাইলি বিচারবিভাগের ওপর দুর্নীতিবাজ নেতানিয়াহুর সংস্কার চাপিয়ে দেয়ার বিরুদ্ধে খোদ ইসরাইলেই প্রায় প্রতি সপ্তায় লাখ লাখ ইসরাইলি বিক্ষোভ করে আসছে। এ অবস্থায় সম্প্রতি বাইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৌদি আরবে সফর করলেও ইসরাইল সফর করা থেকে বিরত ছিলেন!#