28 Feb 2025, 01:14 am

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি বলেছেন, রাজনৈতিক অভিলাস চরিতার্থ করার কাজে মানবাধিকারের ব্যবহার এই অধিকার রক্ষা করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে।

তিনি বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে নিজের অফিসিয়াল এক্স পেজে দেয়া এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন। পোস্টে তিনি বলেন: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস হিসেবে বছরের একটি দিন ঘোষণা করার যে পদক্ষেপ নিয়েছিল তা নিয়ে মানব সভ্যতা গর্ব করতেই পারে।  কিন্তু রাজনৈতিক অভিলাস চরিতার্থ করার কাজে মানবাধিকারকে ব্যবহার এবং এই অধিকার রক্ষা করার ক্ষেত্রে দ্বৈত নীতি মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে, মানবাধিকার নামক পরিভাষার গ্রহণযোগ্যতাই এখন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।

১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ মানবাধিকার বিষয়ক সর্বজনীন ঘোষণা অনুমোদন করে। এই ঘোষণায় ৩০টি ধারা রয়েছে যা মানবাধিকার সম্পর্কে জাতিসংঘের দৃষ্টিভঙ্গি বর্ণনা করে। এই ঘোষণার ধারাগুলি মানুষের মৌলিক নাগরিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং সামাজিক অধিকারগুলি নির্দিষ্ট করে দিয়েছে যা প্রতিটি দেশের সমস্ত মানুষকে উপভোগ করতে দেয়ার কথা বলা হয়েছে। যদিও মানবাধিকারের ধারণাটি বৈশ্বিক পর্যায়ে এবং আন্তর্জাতিক সমাজে স্বীকৃত, কিন্তু আমেরিকার নেতৃত্বাধীন পশ্চিমাদের দৃষ্টিভঙ্গি, অবস্থান ও কর্মের দিকে তাকালে দেখা যায় যে, মানবাধিকারের বিষয়ে পশ্চিমাদের নিজস্ব নির্দিষ্ট ও সীমিত সংজ্ঞা রয়েছে।  এই সংজ্ঞা অনুযায়ী তারা যে দেশগুলি পাশ্চাত্যের আধিপত্যের বিরোধিতা করে সেসব দেশের কথিত মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত শুরু করে এবং এ কাজে তারা তাদের নিজস্ব একদেশদর্শী মানদণ্ড কাজে লাগায়।

অথচ, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিভিন্ন দেশে এবং বৈশ্বিক পরিমণ্ডলেও মানবাধিকার ইস্যুটির ভিন্ন ভিন্ন মাত্রা রয়েছে; কাজেই পাশ্চাত্যের পক্ষ থেকে মানবাধিকারের নিজস্ব সংজ্ঞার ভিত্তিতে অন্যান্য দেশকে বিচার করা সম্পূর্ণ অন্যায়। মানবাধিকারের ক্ষেত্রে পশ্চিমাদের দ্বৈত মানদণ্ডের বিষয়টি বহুবার ইরানের মতো পশ্চিমা আধিপত্যের বিরুদ্ধাচরণকারী দেশগুলোর পাশাপাশি পাশ্চাত্যের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ চীন ও রাশিয়ার পক্ষ থেকে উত্থাপন করা হয়েছে।

বহু বছর যাবত, পশ্চিমা আধিপত্যের বিরোধী দেশগুলোর বিরুদ্ধে প্রচারণাগত হামলা ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ শুরু করার হাতিয়ার হিসেবে মানবাধিকারকে ব্যবহার করে আসছে পাশ্চাত্য।  উদাহরণ হিসেবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ করার অভিযোগের কথা উল্লেখ করা যায়।  বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত বা আইসিসি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে যে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে তাকে আমেরিকা ও ইউরোপীয় দেশগুলো স্বাগত জানিয়েছে। অথচ মজার ব্যাপার হচ্ছে, ওই একই আদালত যখন গাজায় যুদ্ধাপরাধ করার দায়ে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার সাবেক যুদ্ধমন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে তখন পশ্চিমা দেশগুলো বিশেষ করে আমেরিকা তার তীব্র বিরোধিতা করেছে। বেশিরভাগ ইউরোপীয় দেশ আইসিসির সদস্য হওয়ার কারণে এসব দেশ ওই আদালতের যেকোনো রায় মেনে চলতে বাধ্য; কিন্তু তা সত্ত্বেও বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ নানা অজুহাত তুলে ধরে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা মেনে চলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। মার্কিন সরকার আদালতের রায় মানা দূরে থাক, উল্টো আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দিয়েছে।

মার্কিন কংগ্রেসের মুসলিম ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ইলহান ওমর এ সম্পর্কে বলেন: বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপারে ওয়াশিংটন যেসব দাবি করে তা কপটতায় পরিপূর্ণ।

আরেকটি বিষয় হচ্ছে, পশ্চিমারা মনে করে তাদের দেশগুলোতে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয় না এবং এ কারণে, তারা তাদের দেশগুলোর বিশেষ করে আমেরিকার মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের মতো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলির প্রতিবেদন, বিবৃতি বা প্রস্তাবের প্রতি কোন ভ্রুক্ষেপ করে না।

আমেরিকার মানবাধিকার পরিস্থিতির দিকে দৃষ্টি দিলে দেখা যাবে সেদেশে ভয়ঙ্করভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। আমেরিকার ইতিহাস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অশ্বেতাঙ্গ নাগরিকদের প্রতি চরম বৈষম্যমূলক আচরণ, তাদের প্রতি মার্কিন পুলিশের ভয়ানক সহিংসতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ, হামলা ও যুদ্ধাপরাধের রেকর্ডে ভরপুর।  ভিয়েতনাম, আফগানিস্তান, ইরাক ও সিরিয়ায় সামরিক হস্তক্ষেপ, এসব দেশে কুখ্যাত বন্দিশিবির নির্মাণ করে স্থানীয় বন্দিদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালানো ইত্যাদি ঘটনায় মানবাধিকার রক্ষা করার বিষয়ে আমেরিকার ভয়ঙ্কর মিথ্যাচার এখন একটি প্রমাণিত বিষয়।

মানবাধিকার রক্ষার দাবিদার ইউরোপীয় দেশগুলোর পরিস্থিতিও আমেরিকার তুলনায় কোনো অংশে ভালো নয়। ফ্রান্স, জার্মানি ও ব্রিটেনের মতো দেশগুলোতেও অভিবাসীদের পাশাপাশি অশ্বেতাঙ্গ নাগরিকদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক ও সহিংস আচরণের বিষয়টি এখন আর কারো অজানা নয়। ইউরোপীয় দেশগুলোতে মানবাধিকার লঙ্ঘন এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও এসব দেশই নির্লজ্জের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে বিশেষ করে পাশ্চাত্যের আধিপত্যবিরোধী দেশগুলোতে মানবাধিকার রক্ষা করার সবক দিতে আসে যা অত্যন্ত হাস্যকর।

 

মানবাধিকারকে কালো হাতিয়ারে পরিণত করেছে পাশ্চাত্যের শাসকেরা

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক :  ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার নুসাইরাত শরণার্থী শিবিরে ইহুদিবাদী ইসরাইলি সেনারা গানবোট থেকে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে যাতে অন্তত ৩০ জন ফিলিস্তিনি শহীদ হয়েছেন।

গাজার যে শরণার্থী শিবিরে ইসরাইল এই বীভৎস্য হামলা চালিয়েছে সেটি তেল আবিবের ঘোষণা করা নিরাপদ অঞ্চলে অবস্থিত। অর্থাৎ ইহুদিবাদী বাহিনী তাদের ঘোষণা করা নিরাপদ অঞ্চলেও বিভৎস্য হামলা চালিয়ে ফিলিস্তিনিদেরকে হতাহত করছে। নুসাইরাত শরণার্থী শিবিরের এই বর্বর হামলায় বহু মানুষ আহত হয়েছেন এবং অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন। এই হামলায় সেখানকার একটি পোস্ট অফিসও ধ্বংস হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার ইহুদিবাদী বাহিনী এই শিবিরের একটি আবাসিক ভবনকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় যাতে অন্তত ৪০ জন শহীদ এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। বলা হচ্ছে- এখনো বিধ্বস্ত ভবনের নিচে অনেকে চাপা পড়ে রয়েছেন, তাদেরকে উদ্ধারের ব্যবস্থা করা যায়নি।

এদিকে, গতকাল ইহুদিবাদী ইসরাইলি বাহিনী গাজা শহরের মধ্যাঞ্চলের শিল্প এলাকায় একজন ফিলিস্তিনি ফটো সাংবাদিক এবং অন্য এক তরুণকে বিমান হামলার মাধ্যমে হত্যা করেছে। এর পাশাপাশি গাজা শহরের উত্তরাঞ্চলের শেখ রাদোয়ান মহল্লায় বিমান হামলা চালিয়ে আল-আকসা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আব্দুস সালাম এবং তার স্ত্রীকে হত্যা করেছে। খান ইউনুস শহরে অন্য এক হামলায় তিন ব্যক্তি শহীদ হয়েছেন।

 

গাজার নিরাপদ অঞ্চলের শরণার্থী শিবিরে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় ৩৪ জন নিহত

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক :  মার্কিন দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্ট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সিরিয়ার সন্ত্রাসী ও বিদ্রোহীরা সিরিয়ায় তাদের সাম্প্রতিক অভিযানের জন্য ইউক্রেনের কাছ থেকে ড্রোন এবং অন্যান্য সাহায্য সমর্থন পেয়েছে।

ইউক্রেনের সামরিক তৎপরতার সাথে পরিচিত একটি সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন দৈনিক “ওয়াশিংটন পোস্ট” লিখেছে, এই দেশের গোয়েন্দা সংস্থা উত্তর সিরিয়ার ইদলিব শহরে হায়াত তাহরির আশ-শাম সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সাহায্য করার জন্য প্রায় চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ আগে ড্রোন চালানোর অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ২০ জন অপারেটর এবং ক্যামেরাসহ প্রায় ১৫০টি ড্রোন পাঠিয়েছিল। পার্সটুডে জানায়, পশ্চিমা গোয়েন্দা সূত্রগুলো এও জানিয়েছে, কিয়েভের সহায়তা দামেস্কে সন্ত্রাসীদের আধিপত্য বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

এই প্রতিবেদন আরো এসেছে, সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের জন্য ইউক্রেনের সাহায্যের বিষয়টি সবার কাছে স্পষ্ট; তবে বাইডেন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একাধিকবার দাবি করেছেন যে তারা এ বিষয়ে কিছু জানেন না। কিয়েভের উদ্দেশ্য পরিষ্কার; আর তা হলো তারা ইউক্রেনের ভূখণ্ডে রুশ আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য, ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থা এমন এক ফ্রন্ট খুঁজছিল যেখানে রাশিয়াকে তারা আঘাত করতে পারে এবং তার মিত্রদের দুর্বল করতে পারে। খোদ ইউক্রেনীয়রা ইতিমধ্যে এই পরিকল্পনার কথা ফাঁস করেছে দিয়েছে।

দৈনিক ‘কিয়েভ পোস্ট’ গত ৩ জুনে এক নিবন্ধে, “JUR” নামে পরিচিত ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থার একটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছিল, এই বছরের শুরু থেকে, ইউক্রেন সমর্থিত সিরিয়ার সন্ত্রাসী এবং বিদ্রোহীরা এ অঞ্চলে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী ওপর অসংখ্যবার হামলা চালিয়েছে।

এছাড়াও, এই দৈনিকটি আরো লিখেছে: সিরিয়ায় বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর  পরিচালিত একের পর এক হামলাগুলো “JUR” নামে পরিচিত ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে ঘটেছিল।

রাশিয়ার কর্মকর্তারাও কয়েক মাস ধরে সিরিয়ায় মিলিশিয়াদের ছদ্মবেশে ইউক্রেনের এজেন্টদের কাজ করার কথা জানিয়েছেন।

সিরিয়া বিষয়ক রাশিয়ার বিশেষ দূত আলেকজান্ডার লাভরেন্টিয়েভ নভেম্বর মাসে TASS নিউজ এজেন্সিকে বলেছিলেন: “আমাদের কাছে তথ্য আছে যে ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থার বিশেষজ্ঞরা সিরিয়ার ইদলিবে অবস্থান করছে।”

সেপ্টেম্বরে, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ সিরিয়ার ইদলিবে “ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা এজেন্টদের” উপস্থিতি সম্পর্কে একই মন্তব্যে বলেছিলেন: তারা “নোংরামিপূর্ণ অপারেশন”-এর সাথে জড়িত এবং হায়াত তাহরির আশ-শামের সাথে JUR প্রধান ক্রিলো বুদানভের ব্যক্তিগতভাবে সম্পর্ক রয়েছে।

সন্ত্রাসীরা এবং সশস্ত্র বিরোধীরা সিরিয়া দখল করার আগে, রাশিয়ান কর্মকর্তারা বলেছিলেন যে এই গ্রুপগুলোর সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে ইউক্রেন মস্কোর বিরুদ্ধে যুদ্ধে সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দেয়ার চিন্তায় রয়েছে।

“ক্রিডেল” ওয়েবসাইট সেপ্টেম্বরে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, একটি চুক্তিতে, সেনা সদস্য দেয়ার বিনিময়ে হায়াত তাহরির আশ-শামকে ৭৫টি ড্রোন সরবরাহের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সিরিয়ায় আসাদ বিরোধী সন্ত্রাসী গ্রুপের সঙ্গে ইউক্রেনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা ফাঁস

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর কথিত নির্যাতনের অভিযোগ তুলে একাধিকবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্রিফিংয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে। এবার এ বিষয়টি নিয়ে হোয়াইট হাউসের ব্রিফিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের অবস্থানও জানতে চাওয়া হয়েছে। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার বিষয়ে আমেরিকার অবস্থান জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) হোয়াইট হাউসের বিফ্রিংয়ে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়।

ব্রিফিংয়ে জানতে চাওয়া হয়, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশজুড়ে কয়েকটি আমেরিকান হিন্দু গোষ্ঠী হোয়াইট হাউসের বাইরে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। তারা শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশে হিন্দুদের হত্যা ও মন্দিরে হামলার অভিযোগ করে আসছে। এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট অবগত কিনা। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে জাতিসংঘ সম্মেলনে সাইডলাইন বৈঠকে এ বিষয়টি তিনি উত্থাপন করেছেন কিনা।

এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশন পরিচালক অ্যাডমিরাল জন কিরবি বলেন, আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। এমনকি প্রেসিডেন্টও এ বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

কিরবি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়েছে। আমরা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য তাদের আইন প্রয়োগকারী এবং নিরাপত্তা পরিসেবার সক্ষমতা বাড়াতে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি।

তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশি নেতাদের সঙ্গে আমাদের আলোচনার সময় ধর্মীয় এবং জাতিগত সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার বিষয়টি যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তা স্পষ্ট করে উল্লেখ করছি। অন্তর্বর্তী সরকারও বারবার ধর্ম বা জাতি নির্বিশেষে সবার নিরাপত্তার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে।

এর আগে মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্রিফিংয়ে ভারতে বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। ব্রিফিংয়ে জানতে চাওয়া হয়, ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বাংলাদেশ সফর করেছেন। বাংলাদেশ ও ভারত উভয়ই ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের একটি কূটনৈতিক মিশনে সহিংস হামলার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এ হামলার ঘটনা এবং বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে ভারতের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসী বক্তব্য নিয়ে আপনার কোনো মন্তব্য আছে কিনা।

জবাবে পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেন, আমরা চাই শান্তিপূর্ণভাবে সব পক্ষ তাদের মধ্যকার বিরোধ সমাধান করবে। তিনি বলেন, আমরা বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। আমরা আশা করছি, অঞ্চলের প্রতিটি ব্যক্তি তাদের ধর্ম ও বিশ্বাস অনুযায়ী জীবনযাপন করতে পারবে।

বাংলাদেশের সংখ্যালঘু ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান জানালো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক :  ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলের বিমান হামলায় কমপক্ষে আরও ৩০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৯৯ জন। এ নিয়ে গাজায় নিহতের মোট সংখ্যা ৪৪ হাজার ৮৩০ ছাড়ালো।

বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তিনটি স্থানে হামলায় চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে এ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অনেক মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন। প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে উদ্ধারকারীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, উপত্যকাজুড়ে ধ্বংস হওয়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো ১০ হাজারেরও বেশি লোক আটকে রয়েছেন।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে চলা এ হামলায় গাজায় মোট ৪৪ হাজার ৮৩৫ জন নিহত হয়েছেন। এ সময়ে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১ লাখ ছয় হাজার ৩৫৬ জন। এছাড়া অনেকে পাথরের নিচে আটকে রয়েছেন, ফলে তাদের উদ্ধার করা সম্ভব নয়।

এদিকে, গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে জাতিসংঘে প্রস্তাব পাস হয়েছে। জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের প্রতিনিধি রিয়াদ মানসুর এই প্রস্তাব পাসের পর এক বক্তব্যে বলেন, গাজা এখন মানবতার জন্য এক যন্ত্রণার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সেখানে লাখ লাখ মানুষের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে ও সেখানে এখন মানবিক সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

স্লোভেনিয়ার জাতিসংঘে নিযুক্ত প্রতিনিধি বলেন, গাজা আর নেই, ধ্বংস হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতি মানবতার জন্য একটি বড় প্রশ্নবোধক চিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাছাড়া আলজেরিয়ার ডেপুটি অ্যাম্বাসেডর বলেন, ফিলিস্তিনের দুর্দশা নিয়ে চুপ করে থাকার জন্য বিশ্বকে বড় মূল্য দিতে হবে। সূত্র: আল জাজিরা

গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত আরও ৩০ ফিলিস্তিনি