28 Feb 2025, 11:34 am

অনলাইন সমিান্তবাণী ডেস্ক :  ভারতে কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের মশাল মিছিল থামিয়ে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি রাহুল গান্ধীকে এমপি পদে অযোগ্য ঘোষণা এবং শিল্পপতি আদানির বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে সরকারের নীরবতার বিরুদ্ধে কংগ্রেস সর্বাত্মকভাবে মাঠে নেমেছে। এই পদক্ষেপকে গণতন্ত্রের ওপর আক্রমণ বলে অভিহিত করেছে কংগ্রেস। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারে ক্ষমতাসীন  বিজেপির অভিযোগ, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ‘ওবিসি’ সমাজকে অপমান করেছেন।

গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে দিল্লির লাল কেল্লা থেকে শুরু হওয়া মশাল মিছিলে জড়িত অনেক কংগ্রেস এমপি, নেতা ও কর্মীকে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। তাদের হেফাজতে নিতে পুলিশ তাদের রাস্তায় টেনে গাড়িতে তোলে বলে অভিযোগ।  কংগ্রেসের এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে কেসিআরের দল বিআরএস-এর এমপিও শামিল  হয়েছিলেন।

মশাল মিছিল বন্ধ করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করে কংগ্রেস বলেছে, ‘প্রতি পদক্ষেপে আমাদের থামানোর এবং আমাদের কণ্ঠকে দমন করার ফাঁপা  প্রচেষ্টা প্রমাণ করে যে স্বৈরশাসক ভীত এবং নার্ভাস। আমাদের সত্য দেখে বিচলিত হয়েছে। তবে আমরা কোনো মূল্যে হাল ছাড়ব না। স্বৈরশাসক হারবে, গণতন্ত্র জিতবে।

মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অন্য একটি বার্তায় কংগ্রেস বলেছে, এই স্বৈরশাসকের ভয় দেখুন, আদানির নাম এলেই তারা সংসদ নিঃশব্দ করে দেন। সড়কে বিক্ষোভ হলে পুলিশ বসিয়ে দেয়।

জানা গেছে কংগ্রেসের বিক্ষোভস্থলে পুলিশ ব্যারিকেড বসিয়ে দেয়। এবং কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা জড়ো হলে পুলিশ তাদের হেফাজতে নিতে শুরু করে। কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা পি চিদাম্বরম, যিনি প্রতিবাদে শামিল হতে যাচ্ছিলেন, তাকেও থামিয়ে দেওয়া হয়। এর বিরুদ্ধে দিল্লির লাল কেল্লার সামনে ধর্নায় বসেন কংগ্রেস এমপি জয়রাম রমেশ, ইমরান প্রতাপগড়ি এবং অধীর রঞ্জন চৌধুরী।

জয়রাম রমেশ বলেন, এটা গণতন্ত্রের হত্যা! সংসদের ভেতরে ও বাইরে আমাদের কণ্ঠ স্তব্ধ করা হচ্ছে। আমাদের নেতাকে অযোগ্য ঘোষণা করছে এবং এখন আমাদের চলতে দিচ্ছে না। এটা কোন গণতন্ত্র?

কংগ্রেস কর্মীরা বিক্ষোভকারীদের বহনকারী বাস থামিয়ে দিলে এ সময়ে পুলিশ ও কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেসি ভেনুগোপাল দিল্লিতে কংগ্রেস কর্মীদের ‘মশাল মিছিল’ থামানোর বিষয়ে বলেন, দেশে গণতন্ত্রের দুর্দশা দেখা উচিত। আমরা শান্তিপূর্ণ মশাল মিছিল করছি। গতকাল আমরা পুলিশ ও কমিশনারদের সঙ্গে আলোচনা করেছি এবং তারা রাজি হয়েছিলেন। আজ তারা আমাদের কর্মীদের যত্রতত্র থামিয়ে আটক করেছে।

কংগ্রেস মুখপাত্র জয়রাম রমেশ বলেন, রাহুল গান্ধী ইস্যুতে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি মোদী সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াইও চলবে। বুঝিয়ে দেব, ‘ওবিসি’র (অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি) অজুহাত দিয়ে মিথ্যাচার করছে বিজেপি। রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করা পূর্ণেশ মোদি ‘ওবিসি’ নন। নীরব মোদিও জৈন। ললিত মোদি বানিয়া। তাহলে রাহুল গান্ধী কাকে অপমান করলেন?

কংগ্রেসের লোকসভার দলনেতা অধীররঞ্জন চৌধুরীর দাবি, মোদীজি দয়া করে  ওবিসিদের ঠিকাদার হওয়ার চেষ্টা না করলেই মঙ্গল। ওবিসিদের জন্য কংগ্রেসই ১৯৯২ সালে মণ্ডল কমিশন কার্যকর করেছে। ২০০৬ সালে উচ্চশিক্ষায় ওবিসি সংরক্ষণ দিয়েছে। ২০১১-১২তে কংগ্রেস সরকারই জাতি গণনা করেছে। তাই হিম্মত থাকলে মিথ্যা ওবিসি ইস্যু না তুলে স্রেফ সংবাদ সম্মেলন ডেকে রাহুল গান্ধীর তোলা ইস্যুতে সাফাই দিন নরেন্দ্র মোদি। তবেই বুঝব।

অন্যদিকে, বিজেপি মনে করছে ‘মোদী’ পদবি নিয়ে মন্তব্য করে রাহুল গান্ধী দেশের অনগ্রসর শ্রেণির মানুষদেরই অপমান করেছেন। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নড্ডা বলেছিলেন,  ‘ওবিসি সম্প্রদায়কে ‘চোরের সঙ্গে তুলনা’ করে রাহুল গান্ধী আসলে তার জাতপাত সংক্রান্ত নোংরা মনোভাব স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তবে  একেবারে সম্প্রতি তিনি যা করেছেন, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ তিনি দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক কার্যকলাপকে এই নিম্নমানে নামিয়ে এনেছেন।’

গুজরাট বিজেপির সভাপতি সিআর পাটিল বলেছেন, ‘রাহুল যে কোনও জায়গায় যেকোনো কথা বলেন। উনি গোটা সমাজকে সে অপমান করেছে। এতে ‘মোদী সম্প্রদায়’ ক্ষুব্ধ।। এ কারণে আদালত তাকে দোষী ঘোষণা করেছে।’

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময়ে কর্ণাটকে প্রচারে গিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী প্রশ্ন তুলেছিলেন, ‘সব চোরেদের পদবি ‘মোদী’ হয় কেন?’ আইপিএল  দুর্নীতিতে অভিযুক্ত ললিত ‘মোদী’, ব্যাঙ্ক-ঋণ মামলায় পলাতক  নীরব ‘মোদী’র সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর তুলনা টেনেছিলেন তিনি। ওই ঘটনায় রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে ‘পদবি অবমাননার’ অভিযোগে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৯ ও ৫০০ ধারায় অপরাধমূলক মানহানির মামলা করেছিলেন গুজরাটে বিজেপি নেতা পূর্ণেশ মোদী। সেই মামলায় সাজার মুখে পড়েন রাহুল গান্ধী। পরবর্তীতে আদালত থেকে জামিন পেলেও ২ বছরের কারাদণ্ডের ঘোষণার জেরে তার এমপি পদ খারিজ করে দেন সংসদের স্পিকার ওম বিড়লা। এরপর থেকে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে  বিরোধীরা একজোট হয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছেন।

কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের মশাল মিছিল থামিয়ে দিল পুলিশ ; অনেক নেতা-কর্মী আটক

অনলাইন সমিান্তবাণী ডেস্ক :  ইহুদিবাদী ইসরাইলে চলমান উত্তাল বিক্ষোভে উদ্বেগ প্রকাশ করে মার্কিন প্রশাসন যে বক্তব্য দিয়েছে তাকে ভর্ৎসনা করেছে ইরান। তেহরান বলেছে, আমেরিকা একমাত্র যার নিরাপত্তা রক্ষায় সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সে হচ্ছে ইহুদিবাদী ইসরাইল।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসের কানয়ানি এক টুইটার বার্তায় তার দেশের এ অবস্থান তুলে ধরেছেন। এর আগে মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজ জনগণের দাবি মেনে নিয়ে তাদের সঙ্গে একটি বোঝাপড়ায় আসতে তেলআবিব সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়।

হোয়াইট হাউজের ওই আহ্বানের প্রতিক্রিয়ায় কানয়ানির টুইটার বার্তায় বলা হয়, “ইসরাইলে সংকট ঘনীভূত হওয়ায় এটির গডফাদার [আমেরিকা] চিন্তিত হয়ে পেড়েছে। এ কারণে হোয়াইট হাউজ অবিলম্বে ইহুদিবাদী নেতাদের সমঝোতায় বসার আহ্বান জানিয়েছে।মার্কিন সরকার মনে করছে, এভাবেই ইসরাইল ও তার জনগণকে রক্ষা করা যাবে।”

বিচারব্যবস্থা সংস্কারের বিতর্কিত পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ইসরাইলজুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদ-বিক্ষোভের মুখে ইহুদিবাদী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সোমবার এ পরিকল্পনা সংক্রান্ত বিল কয়েক সপ্তাহ পিছিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

ইসরাইলে বিক্ষোভ তুঙ্গে

কিন্তু তারপরও দখলদার ইসরাইলের জনগণ রাজপথ ছাড়েনি। তারা মঙ্গলবার প্রচণ্ড বিক্ষোভ প্রদর্শন করে বলেছে, বিল পাসের প্রক্রিয়া স্থগিত রাখলে হবে না বরং বিষয়টিকে বাতিল ঘোষণা করতে হবে।

ইহুদিবাদী ইসরাইলের কয়েক দশকের ইতিহাসে সবচেয়ে কট্টর-ডানপন্থি সরকার বিচারক নিয়োগ কমিটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজের করায়ত্ব করতে চায়।

নেতানিয়াহু বলছেন, বিচারব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হলে আদালতকে এর এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত দেয়া থেকে নিবৃত করা যাবে। কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, এ পদক্ষেপ নেতানিয়াহুর জন্য সহায়ক হবে। কারণ, তিনি দুর্নীতির দায়ে বিচারের মুখে আছেন এবং আইনটি করা সম্ভব হলে তিনি নিজেকে বিচারের হাত থেকে বাঁচাতে পারবেন।

ইসরাইলের উত্তাল পরিস্থিতিতে আমেরিকার উদ্বেগ ; ভর্ৎসনা করল ইরান

অনলাইন সমিান্তবাণী ডেস্ক :  জাপান সাগরে শত্রুর একটি কল্পিত টার্গেট লক্ষ্য করে দু’টি সুপারসনিক জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে রাশিয়া। আমেরিকার সঙ্গে জাপানের সামরিক সহযোগিতা নিয়ে যখন রাশিয়ার সঙ্গে জাপানের সম্পর্কে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে তখন রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ খবর জানাল।

ওই মন্ত্রণালয় বলেছে, দু’টি রুশ যুদ্ধজাহাজ থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরবর্তী শত্রুর একটি কল্পিত কৃত্রিম যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। ‘মস্কিট’ নামক ওই সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রচলিত যুদ্ধাস্ত্রের পাশাপাশি পরমাণু অস্ত্র বহন করতে সক্ষম বলে মস্কো জানিয়েছে।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শব্দের চেয়ে দ্রুত গতিসম্পন্ন পি-২৭০ মস্কিট ক্ষেপণাস্ত্র ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বের যেকোনো যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করতে পারে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের আরো কয়েকটি জাহজ, যুদ্ধবিমান ও ড্রোন এই মহড়ায় অংশ নিয়েছে।

জাপানের সাগরে সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করল রাশিয়া

অনলাইন সমিান্তবাণী ডেস্ক :  রাশিয়ার দুটি যুদ্ধবিমান কৃষ্ণ সাগরের আকাশসীমায় মার্কিন গোয়েন্দা ড্রোন এম কিউ-৯ রিপার ভূপতিত করার পর থেকে আমেরিকা গোয়েন্দা তথ্য পেতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল সিএনএনকে এ কথা বলেছেন একজন শীর্ষ পর্যায়ের সামরিক সামরিক কর্মকর্তা।

ড্রোন বিধ্বস্তের ঘটনার পর প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন রাশিয়ার সাথে সংঘাত এড়ানোর জন্য কৃষ্ণ সাগরের আকাশে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে ড্রোন পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে। এর ফলে মার্কিন ড্রোন আর আগের মতো রাশিয়ার ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করতে পারছে না।
চলতি মাসের ১৪ তারিখে রাশিয়ার দুটি সুখোই এসইউ-২৭ বিমান আমেরিকার এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন বিধ্বস্ত করে। এরপর থেকে মার্কিন বিমানবাহিনী রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধস্থল থেকে অনেক বেশি দূরে এবং উচ্চতা বজায় থেকে ড্রোন পরিচালনা করছে। এতে গোয়েন্দা তথ্যচিত্রের মান যেমন কমে যাচ্ছে, তেমনি যথেষ্ট পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করাও যাচ্ছে না।
রাশিয়ার বিমানের ধাওয়ায় মার্কিন ড্রোনটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর আমেরিকা কৃষ্ণ সাগরের আকাশে ড্রোন পরিচালনা বহাল রাখবে বলে ঘোষণা করেছিল কিন্তু তারা নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে ড্রোন পরিচালনা করছে।

কৃষ্ণ সাগরে সংঘাতের পর গোয়েন্দা তথ্য পেতে বাধার মুখে আমেরিকা ; নিরাপদ দূরত্বে উড়ছে ড্রোন

অনলাইন সমিান্তবাণী ডেস্ক :  মিনস্কের সঙ্গে মস্কোর ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের ব্যাপারে পাশ্চাত্যের ‘বিভ্রান্তিকর’ প্রতিক্রিয়ার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া। মস্কো বলেছে, নিজের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার রাশিয়ার রয়েছে।

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা আজ এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানান। তিনি রাশিয়া ও বেলারুশের মধ্যকার সামরিক-পারমাণবিক সহযোগিতার সমালোচনা করে পাশ্চাত্য যে বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে তাকে ‘অসঙ্গত’ বলে মন্তব্য করেন। মারিয়া বলেন, মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোট রাশিয়ার বিরুদ্ধে হাইব্রিড যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট চলতি সপ্তাহের গোড়ার দিকে ঘোষণা করেন, তার দেশ বেলারুশে কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটি লঙ্ঘিত হবে না।

রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, মার্কিন সরকার বহুকাল ধরে ইউরোপীয় দেশগুলোতে তার পরমাণু অস্ত্র মোতায়েন করে রেখেছে। এর ফলে যদি এনপিটি লঙ্ঘিত না হয় তাহলে বেলারুশে রাশিয়ার পরমাণু অস্ত্র মোতায়েন করলেও তাতে ওই চুক্তি লঙ্ঘিত হবে না।

তবে আমেরিকাসহ ইউরোপীয় দেশগুলো প্রেসিডেন্ট পুতিনের এ ঘোষণার তীব্র সমালোচনা করেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় মারিয়া জাখারোভা আরো বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো মস্কোর বিরুদ্ধে যে হাইব্রিড যুদ্ধ শুরু করেছে তার প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়া যেকোনো ধরনের সামরিক ব্যবস্থা নেয়ার অধিকার সংরক্ষণ করে।

বেলারুশের সাথে সম্পর্কের ব্যাপারে পাশ্চাত্যের প্রতিক্রিয়া বিভ্রান্তিকর : রাশিয়া

অনলাইন সমিান্তবাণী ডেস্ক :  হাজার হাজার বছর ধরে পশ্চিম এশিয়ার উত্তরাঞ্চলের পাহাড় থেকে নেমে আসা খরস্রোতা নদীর পানি দক্ষিণের অঞ্চলগুলোকে সমৃদ্ধ করেছে। নদীকেন্দ্রিক মানব বসতি গড়ে উঠেছে এবং বহু সভ্যতার জন্ম হয়েছে। এ অঞ্চলের নদী ও পানির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎস হচ্ছে তুরস্ক এবং এসব নদী দক্ষিণের অন্যান্য অঞ্চলের উপর দিয়ে বয়ে গেছে। কৃষি, শিল্প সব কিছুই এ পানির ওপর নির্ভরশীল।

বলা যায়, এ অঞ্চলের জাতি ও সভ্যতাগুলোর অস্তিত্বের সঙ্গে নদীর পনির সম্পর্ক রয়েছে। তবে এই পানি সরবরাহের ক্ষেত্রে তুরস্কের সাম্প্রতিক ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা জোরদার হচ্ছে। আজকের অনুষ্ঠানে আমরা এ বিষয়ে কথা বলবো। আশা করি শেষ পর্যন্ত আপনাদের সঙ্গ পাব।

পৃথিবীর কিছু দেশ পানি সংকটকে অপব্যবহার করে পাহাড় থেকে প্রবাহিত পানিকে অভ্যন্তরীণ ভূমিতে ব্যবহার করে তবে একই সাথে তারা অন্য দেশকে এ মিষ্টি পানির ব্যবহার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করে যা খুবই অমানবিক। কেননা এতে করে ভাটি অঞ্চলের দেশগুলোর শহর ও গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রা ব্যহত হয়।

পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে তুরস্ক অসংখ্য পাহাড় ও নদীতে ভরপুর। দজলা, ফোরাত, আরাস ও আরভান্দের মতো গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলোর উৎসভূমি হচ্ছে তুরস্ক। এই নদীগুলো তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় মুসলিম দেশগুলোর বিশাল জনপদের শিল্প, কৃষি ও বেঁচে থাকার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গত বেশ ক’বছর হলো পশ্চিম এশিয়াসহ বিশ্বব্যাপী পানি সংকট দেখা দিয়েছে। তুরস্ক সরকার নদীগুলোর ওপর একতরফাভাবে বাধ নির্মাণ করে নদীর গতিপথ বদলে দিয়েছে। তুরস্কের কর্মকর্তারা চাইছেন দজলা, ফোরাত, আরাস ও আরভান্দ নদীর পানি দেশের অভ্যন্তরেই ব্যবহার করতে। একদিকে, দজলা নদীতে তুরস্কের বাধ নির্মাণ প্রকল্প অন্যদিকে বৃষ্টির স্বল্পতার কারণে গত কয়েক বছরে ইরাকে মারাত্মক পানি সংকট দেখা দিয়েছে।

তুরস্ক সরকার দজলা ও ফোরাত নদীর উজানের এলাকায় পানি প্রবাহ বন্ধ করে দেয়ার জন্য দক্ষিণ-পূর্ব আনাতোলিয়া এলাকার নদীগুলোর ওপর এ পর্যন্ত ২২টি বাধ ও  (gap) ‘গ্যাপ প্রকল্প’  নামে পরিচিত ১৯টি জল প্রকল্প নির্মাণ করেছে। এর ফলে ইরাক ও সিরিয়ার নদীর পানি অনেক শুকিয়ে গেছে এবং এর ধ্বংসাত্মক প্রভাব পড়েছে ওই অঞ্চলের জনগণ ও ভূ-প্রকৃতির ওপর।

ইরাকের কর্মকর্তারা বহুবার বলেছেন, দজলা ও ফোরাতের মতো আন্তর্জাতিক নদীর পানি ন্যায়ভিত্তিক বণ্টনের বিষয়ে যদি তুরস্কের সঙ্গে কোনো সমঝোতা না হয় তাহলে ইরাকে মারাত্মক পানি সংকট দেখা দেবে এবং এর ফলে ইরাকের কৃষি ও খাবার পানির পরিমাণ ৫৪ শতাংশ হ্রাস পাবে যা কিনা তাদের জন্য ধ্বংসাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।  উল্লেখ্য, দজলা ও ফোরাত নদীর পানি তুরস্ক থেকে শুরু করে ইরাক ও সিরিয়ার ওপর দিয়ে দুই হাজার ৮০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে তা পারস্য উপসাগরে গিয়ে মিশেছে।

মৃতপ্রায় দজলা নদীর করুণ  চিত্র

ইরাক ও সিরিয়ার কর্মকর্তারা সম্প্রতি এক বৈঠকে পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের জন্য ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিতে সম্মত হয়েছে।

এর আগে তুরস্কের কর্মকর্তারা ওই দুই দেশের কর্মকর্তাদের প্রতিবাদ উপেক্ষা করায় গত বছর অক্টোবরে দামেস্কে ইরাক ও সিরিয়ার বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং নদীর পানি আটকে দেয়ার তুরস্কের পদক্ষেপের পরিণতির বিষয়ে তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ বৈঠকে ইরাকের পানি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এক বিবৃতিতে পানির অধিকার আদায়ের জন্য ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা চালাতে ইরাক ও সিরিয়ার গুরুত্বারোপের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, এই দুই দেশের সহযোগিতা পানি আদায় ও এ অঞ্চলের জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করতে পারবে।

দামেস্ক ও বাগদাদ দজলা ও ফোরাত নদীর পানির প্রবাহ কমিয়ে দেয়ার তুর্কি পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে বলেছে, এতে করে এ অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতি ও জীব-বৈচিত্র্যে বিরূপ প্রভাব পড়বে। দুই দেশই অভিযোগ করেছে নদীর ওপর তুরস্কের বাধ নির্মাণের ফলে নদীর উজানের বিশাল এলাকাজুড়ে মরুকরণ শুরু হয়েছে এবং আবহাওয়ায় পরিবর্তন এনেছে।

এদিকে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানও তুরস্কের গুরুত্বপূর্ণ আরাস নদীর ওপর বাধ নির্মাণ পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা একে বেআইনি ও অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেছে। ইরান ও আর্মেনিয়ার মধ্যকার অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ক যৌথ কমিশনের ১৭তম বৈঠক শেষে ইরানের জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রী আলী আকবর মেহরানিয়ান সাংবাদিকদের বলেছেন, এই নদীর সাথে কয়েকটি দেশ সংযুক্ত থাকলেও এ দেশগুলোর সাথে কোনো সমন্বয় না করেই তুরস্ক সরকার বাধ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বাধ নির্মাণ ও পানি বণ্টনের বিষয়ে এ দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের আহ্বান জানান। কেননা তুরস্ক যেভাবে বাধ নির্মাণ শুরু করেছে তাতে আরাস নদীতে বিপর্যয় সৃষ্টি হতে  পারে।

ইরানের কর্মকর্তারা বহুবার তুরস্কের কাছে এ ব্যাপারে তাদের উদ্বেগের কথা  জানিয়েছেন। এ বিষয়ে আলোচনার জন্য দুদেশের কর্মকর্তারা একাধিক বৈঠকেও মিলিত হয়েছেন। তুরস্কের কর্মকর্তারা বারবারই ইরানকে এ নিশ্চয়তা দিয়েছেন যে ইরানসহ এ অঞ্চলের অন্য দেশের উদ্বেগ দূর করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

ইরান সবসময়ই বলে আসছে আরাস নদীর সাথে যুক্ত দেশগুলোকে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে যাতে ন্যায়সঙ্গতভাবে পানির ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরান, ইরাক ও সিরিয়া এমন সময় অভিন্ন নদীগুলোর ওপর তুরস্ক সরকারের বাধ নির্মাণ প্রকল্পের প্রতিবাদ জানিয়েছে যখন আরাস নদীর সাথে যুক্ত আজারবাইজান সরকার এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ নীরব রয়েছে। কারণ তুরস্কের সাথে আজারবাইজানের আঞ্চলিক রাজনৈতিক সম্পর্ক ভালো। এ অবস্থায় আজারবাইজান কোনো প্রতিবাদে যেতে চায় না যাতে ভবিষ্যতে দেশটির জনগণের জন্য কোনো সমস্যা তৈরি না হয়। বিশেষজ্ঞরা তুরস্কের ব্যাপারে আজারবাইজান সরকারের এ নীতি অবস্থানকে আরাস নদীর সাথে যুক্ত আজারবাইজানসহ এ অঞ্চলের অন্য দেশের সরকার ও জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা বলে মনে করেন। অথচ আরাস নদীতে বেআইনিভাবে তুরস্কের বাধ নির্মাণের ফলে আগামীতে যে দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে তার মধ্যে অন্যত হচ্ছে আজারবাইজান।

গত বেশ ক’বছর ধরে তুরস্কের বাধ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে এ অঞ্চলের দেশগুলোতো ক্ষতিগ্রস্ত হবেই এমনকি তুরস্কের জনগণও এ ক্ষতির বাইরে নয়। বাধ নির্মাণের ফলে তুরস্কের অভ্যন্তরেও বিরাট অংশে পানি সংকট ও শুষ্ক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অনেকেই হয়তো এতে অবাক হবে কেননা তুরস্কের বাধের কারণেই গত কয়েক বছরে ইরাক ও সিরিয়ায় ভয়াবহ পানি সংকট ও মরুকরণ শুরু হয়েছে। এতে সমগ্র ওই অঞ্চলে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে ইরানও তুরস্কের বাধ নির্মাণ প্রকল্পের প্রতিবাদ জানিয়েছে। ইরানের সংসদে মাহাবাদ এলাকার প্রতিনিধি জালাল মাহমুদ যাদেহ বলেছেন, তুরস্কের এ পদক্ষেপ মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা এতে করে ইরানের অংশেও মারাত্মক পানি সংকট দেখা দেবে। ইরাকের কর্মকর্তারাও বলেছেন, তুরস্কের বাধ নির্মাণের ফলে দজলা ও ফোরাত নদীর পানি এরই মধ্যে শুকিয়ে গেছে এবং কৃষিকাজ ব্যহত হচ্ছে। এ ছাড়া পানির অভাবে ধুলাবালি উড়ে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরে তুরস্ক সরকার ইরাক ও সিরিয়ার বিরুদ্ধে অসম ও সর্বাত্মক যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে তুরস্ক বাধ নির্মাণ করে পানি অস্ত্র ব্যবহার করছে যাতে ওই দেশগুলোর কাছ থেকে সুবিধা আদায় করে নেয়া যায়। রজব তাইয়্যেব এরদোগান নিজেকে মুসলিম দরদি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করলেও বাস্তবে পানি বন্ধ করে দিয়ে বিশাল এই মুসলিম ভূখণ্ডকে শুকিয়ে মারার চেষ্টা করছে যা কিনা খুবই অমানবিক ও বর্বরতা।#

 

তুরস্কের বাধ নির্মাণে মুসলিম দেশগুলোর নদী শুকিয়ে যাচ্ছে ; পরিবেশ বিপর্যয়ে গোটা অঞ্চল

অনলাইন সমিান্তবাণী ডেস্ক :  ইহুদিবাদী ইসরাইলের দুর্নীতিবাজ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার সরকারের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কোনো রকম হস্তক্ষেপ না করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে সতর্ক করেছেন।

নেতানিয়াহু বলেছেন, ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করলে তেল আবিব মোটেই বরদাস্ত করবে না, তা যদি সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্রও হয়।
ইসরাইলের বিচার বিভাগের সংস্কারের ব্যাপারে নেতানিয়াহু যে উদ্যোগ নিয়েছেন সে ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন উদ্বেগ প্রকাশ করার পর নেতানিয়াহ এই কথা বললেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে ইসরাইল একাই সিদ্ধান্ত নেবে, বাইরের কোনো চাপের কাছে মাথা নত করবে না।
নেতানিয়াহু গতকাল (মঙ্গলবার) টুইটারে কয়েক দফা পোস্ট দেন। এসব পোস্টে তিনি বলেন, গত ৪০ বছর ধরে তিনি জো বাইডেনকে চেনেন এবং ইসরাইলের প্রতি দীর্ঘদিন ধরে বাইডেনের অঙ্গীকার রয়েছে। তবে নেতানিয়াহু তার সরকারের কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করতে ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানান।
এর আগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইসরাইলের চলমান সরকার-বিরোধী বিক্ষোভের ব্যাপারে বলেন, তিনি বর্তমান পরিস্থিতিতে খুবই উদ্বিগ্ন।

 

 

ইসরাইলের বিষয়ে নাক গলানো থেকে দূরে থাকুন : বাইডেনকে নেতানিয়াহু

অনলাইন সমিান্তবাণী ডেস্ক :  সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফক্স নিউজে সাক্ষাৎকারে মঙ্গলবার দাবি করেন, ইউক্রেন-রাশিয়ার দ্বন্দ্ব চাইলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই শেষ করতে পারেন। এর জন্য শান্তি আলোচনায় সভাপতিত্ব করবেন তিনি। কিন্তু এই যুদ্ধের সমাপ্তির মন্ত্র কী, তা উল্লেখ করেননি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমটিকে সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করে বলেন, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে যদি যুদ্ধ শেষ না হয়, তবে হোয়াইট হাউজে পুনরায় নির্বাচিত হলে একদিনের মধ্যে শান্তি ফিরেয়ে আনতে পারবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে আমার আলোচনা সহজ হবে। যদি এভাবে সমাধান না হয়, তবে আমি জেলেনস্কি এবং পুতিনের সঙ্গে এই সংকট ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমাধান করবো। খুব সহজ আলোচনা হবে। তবে তা কীভাবে এখনই বলতে চাই না। তাহলে কৌশলটি আমি আর কাজে লাগাতে পারবো না।

ফক্স নিউজকে আবারও বলেন, খুব সহজ একটি আলোচনার জায়গা রয়েছে। আমি একদিনে সমাধান করবো, তাদের মধ্যে শান্তিপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।

কিন্তু আগামী দেড় বছরেও শান্তি আলোচনা শুরু হবে না সতর্ক করে বলেন, এটা লম্বা সময়। এই সময়ে যুদ্ধের পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ২০২০ সালে আমি পুনরায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে এ পরিস্থিতি তৈরি হতো না।

পুতিন ইতোমধ্যে মিত্র বেলারুশে পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছেন, তার অবস্থান থেকে সরে আসবেন না বলেও জানিয়ে দেন। রুশ প্রেসিডেন্টের এমন পরিকল্পনায় কঠোর সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেনসহ অন্যান্য পশ্চিমা নেতারা।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তার সামরিক বাহিনীকে ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরুর নির্দেশ দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন। চলমান যুদ্ধে রুশ হামলায় এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার বেসামরিক ইউক্রেনীয় নিহত হয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে লাখ লাখ মানুষ। সূত্র: এনডিটিভি

 

২৪ ঘণ্টায় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করতে পারি : ট্রাম্প

মো. বাবর আলী : ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার কাজিরবেড় ইউনিয়নের ভগবতিতলা গ্রামের পুকুর থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করছেন ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম। ওই গ্রামের আব্দুস ছাত্তারের ৪ বিঘা পুকুর ৩ বছরের লীজ নিয়ে গত এক মাস যাবত বালি উত্তোলন করছেন তিনি। এতে ফসলি জমি ও বসত বাড়িঘর ভাঙনের আশঙ্কায় উদ্বেগ উৎকন্ঠায় দিন পার করছেন আশেপাশের বাসিন্দারা। ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তারা। এলাকার পানি নিষ্কাশনের কালভাট বন্ধ করে বালির স্তুপ করা হয়েছে। এতে ঐ কালভাটের নিচ দিয়ে পানি নিষ্কাশন বন্ধ রয়েছে।
পুকুরের পাড় ঘেঁষে গোপালী খাতুনের বাড়ি। তিনি জানান, ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য শফিকুল ইসলাম এক মাস ধরে ওই পুকুর থেকে মেশিন বসিয়ে বালি উত্তোলন করছেন। অনেক বার নিষেধ করলেও তিনি তা শুনছেন না। স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ করলে তিনি উল্টা-পাল্টা বুঝিয়ে দেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক বরাবর বালি উত্তোলন বন্ধে লিখিত আবেদন করেছেন। তবে স্বীল স্বাক্ষর দিয়ে অভিযোগ পত্র গ্রহণ করেও কেউই বালি উত্তোলন বন্ধে কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেননি। একই অভিযোগ করেন পুকুরপাড়ের আব্দুর রহমান, পুরস্কার আলী, লাভলী খাতুন, খোসনেয়ারা ও মুনছুর আলী
রবিবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ওই পুকুরে ড্রেজার মেশিনের সাহায্যে বালু উত্তোলন করছেন দুই শ্রমিক। সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে শ্রমিকের ফোনে ঘটনাস্থলে আসেন ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম।
শফিকুল ইসলাম জানান, ঐ পুকুরে মাটি কাটার প্রয়োজন ছিলো কিন্তু রাস্তা না থাকায় ৫ফুট করে বালি তুলে নেওয়া হচ্ছে। ঐ বালি কি করা হবে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সরকারি ভাবে গৃহহীনদের জন্য ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে ঐ ঘরে ৩০০ গাড়ি বালি লাগবে। বালি ওই ঘরে দেওয়া হবে। তবে এ কাজের কোন লিখিত অনুমতি আছে কি না ? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উপরের কর্মকর্তা সবাইকে জানিয়েছি তবে লিখিত কোন অনুমতি নেই।
ইউপি চেয়ারম্যান ইয়ানবী বলেন, গৃহহীনদের ঘরে বালি দেয়ার জন্য বালি উত্তোলন করা হচ্ছে। অনুমিত না নিয়ে বালি উত্তোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উপরের কর্মকর্তারা বালি তুলতে বলেছেন তবে কারো যেন অভিযোগ না থাকে এ ব্যাপার দেখতে বলেছেন। কেউ অভিযোগ দিলে বালি তোলা বন্ধ হয়ে যাবে।
স্থানীয় ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন জানান, গত বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলে যেয়ে বালি উত্তোলন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বালি তোলার পাইপ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ড্রেজার মেশিন চালু করার যন্ত্রটি নিয়ে আসা হয়। তবে আজও কিভাবে বালি উত্তোলন করছেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এখনই বালি উত্তোলন বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নয়ন কুমার রাজবংশীর ব্যবহৃত মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ঝিনাইদহের মহেশপুরে পুকুর থেকে বালি উত্তোলন করছেন ইউপি সদস্য ; প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরী

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ আজ বিকেলে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। বিকাল ৪টা ৫০ মিনিটে রাষ্ট্রপতিকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি বিমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা করে।
আট দিনের এই সফরে রাষ্ট্রপ্রধানের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল আই সেন্টারে চোখের চিকিৎসা করার কথা রয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবুল মোমেন, কূটনৈতিক কোরের ডিন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তিন বাহিনীর প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে তাঁকে বিদায় জানান।
সফরে রাষ্ট্রপতির পত্নী রাশিদা খানম এবং বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আবদুল হামিদের সঙ্গে রয়েছেন।
কর্মসূচি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ৫ এপ্রিল দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সিঙ্গাপুর গেলেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ