অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখ থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি মনুষ্যবিহীন সাবমেরিন বা ডাইভ-এলডি ড্রোন আটক করেছে ইরানের ইসলামিক রিভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। এর ফলে তেহরান যানটি পর্যবেক্ষণ ও ‘রিভার্স-ইঞ্জিনিয়ারিং’ করার সুযোগ পেতে পারে, যা পেন্টাগন এবং ড্রোন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিলের জন্য একটি বড় ধাক্কা।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানান, বিকল হয়ে পড়া ড্রোনটি তুলনামূলক পুরানো মডেলের ছিল এবং এটি থেকে কোনো সংবেদনশীল তথ্য পাওয়া যাবে না। ড্রোন প্রস্তুতকারক অ্যান্ডুরিল জানিয়েছে, তাদের তৈরি ড্রোনটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য হলেও কারিগরি ত্রুটির কারণে এটি অকেজো হয়ে ভাসছিল।
বিশ্বজুড়ে ইরানি দূতাবাসগুলো এই ড্রোন আটকের বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি উপহাস শুরু করেছে। ঘানার ইরানি দূতাবাস এক বার্তায় জানায়, হরমুজ প্রণালিতে ভেসে থাকা ড্রোনটিকে তাদের কর্মীরা অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে। এছাড়া হায়দ্রাবাদের ইরানি দূতাবাস রিভার্স-ইঞ্জিনিয়ারিং শুরু করার কথা নিশ্চিত করেছে।
ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসির ফারজিন নাদিমি এবং হাডসন ইনস্টিটিউটের ব্রায়ান ক্লার্ক জানান, সফটওয়্যারে শক্তিশালী সুরক্ষা থাকায় ইরানের জন্য তা ভেদ করা কঠিন হলেও তারা যান্ত্রিক ব্যবস্থা সহজেই ‘রিভার্স-ইঞ্জিনিয়ার’ করে নিজস্ব নকশা উন্নত করতে পারে। এর আগে ২০১১ সালে মার্কিন আরকিউ-১৭০ ড্রোন আটক করার পর ইরান সফলভাবে নিজস্ব ড্রোন তৈরি করেছিল।
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের পরিচালক মোনা ইয়াকুবিয়ান জানান, তেহরান এই ঘটনাকে ওয়াশিংটনের অদক্ষতা তুলে ধরতে এবং হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ জাহির করতে প্রচারণামূলক সাফল্য হিসেবে ব্যবহার করছে।