অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সেনা হেফাজতে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলুর (৫০) মৃত্যু হয়েছে। পরিবার ও নেতাকর্মীদের অভিযোগ নির্যাতনে তার মৃত্যু হয়েছে।
তবে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ডাবলুকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে স্ট্রোকজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
নিহত শামসুজ্জামান ডাবলু জীবননগর উপজেলা শহরের হাসপাতালপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সেনাক্যাম্পের সদস্যরা জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালান। এসময় ডাবলু একটি ওষুধের দোকানে অবস্থান করছিলেন। পরে তাকে পাশের নিজস্ব কার্যালয়ের ভেতরে নিয়ে সেনা হেফাজতে রাখা হয়। রাত ১২টার দিকে তার মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।
ঘটনার পরপরই নিহতের স্বজন ও বিএনপির নেতা-কর্মীরা সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ শুরু করেন। জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিয়মিত অস্ত্র উদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে শামসুজ্জামান ডাবলুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে স্ট্রোকজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
অপরদিকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তির দাবিতে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিক্ষোভ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।
নিহতের ভাই শরিফুল ইসলাম কাজল বলেন, ‘আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে।’
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘অভিযানের নামে সেনাবাহিনী বেছে বেছে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। অস্ত্র উদ্ধারের নামে নির্যাতনের পরও যখন কিছু পাওয়া যায় না, তখন লাঠিসোঁটা বা অন্য কিছু দেখিয়ে চালান দেওয়া হয়। নির্যাতনের মাত্রা এতটাই বেশি ছিল যে সহ্য করতে না পেরে শামসুজ্জামান ডাবলু মারা গেছেন।’
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল আমীনের উপস্থিতিতে জীবননগর থানার পুলিশ মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করে।
চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল আল নাসের বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এসপি স্যারসহ আমরা ঘটনাস্থলে আছি।
জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, শামসুজ্জামানের মৃত্যুর পর সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইমরান তাঁকে বিস্তারিত অবহিত করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ‘অভিযান চলাকালে জিজ্ঞাসাবাদের সময় শামসুজ্জামান শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’