October 8, 2026, 3:20 am
শিরোনামঃ
ঝিনাইদহের মহেশপুরে ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি ঝিনাইদহের মহেশপুরে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত যশোরে গরু চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে প্রতিবন্ধী হত্যার দায়ে মামলা ; পুরুষ শূন্য গ্রাম দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে মুক্তিযোদ্ধাদের নির্ভুল তালিকা করা হবে : মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী হামের টিকার আওতায় ২ কোটি শিশু ; এক মাসে দেওয়া হবে আরও ৩৫ লাখ : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী অর্থপাচার করে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ; সুইস নাগরিকের তথ্য চাইলো ইউএই শিগগিরই আসছে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি নওগাঁয় বয়লার বিস্ফোরণে শ্রমিকের মৃত্যু ; আহত ৪ জন রাজশাহীতে পুলিশের অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় ২৩৪ জন আটক ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৮১ সামরিক বিমান হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
এইমাত্রপাওয়াঃ

ঝিনাইদহের মহেশপুরে বিলুপ্তপ্রায় কালোমুখো হনুমান রক্ষায় অভয়ারণ্য গড়ার দাবি

অসীম মোদক, মহেশপুর : ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ভবনগর গ্রামের বনাঞ্চলে বসবাস করছে প্রায় ২০০টি বিরল প্রজাতির কালোমুখো হনুমান। কবে থেকে এসব হনুমান এখানে বসবাস করছে, তা জানা না থাকলেও গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে এদের গড়ে উঠেছে গভীর সখ্য।

এলাকার প্রবীণদের ধারণা, ব্রিটিশ আমল থেকেই এসব হনুমান দলবদ্ধভাবে এ গ্রামে বসবাস করে আসছে। এদের মধ্যে বয়োবৃদ্ধ, শিশু ও মধ্যবয়সী হনুমান রয়েছে। আগে হনুমানের সংখ্যা কম থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা বেড়েছে।

দিনের বেলায় হনুমানগুলো একসঙ্গে কিংবা একাধিক দলে বিভক্ত হয়ে শামকুড় মাঠপাড়া, স্বরূপপুর ও শ্রীনাথপুর গ্রামের মাঠে-ঘাটে খাবারের সন্ধানে ঘুরে বেড়ায়। রাত হলে আবার ভবনগর গ্রামে ফিরে আসে। তবে খাবারের সন্ধানে গিয়ে এসব হনুমান ফসলের ক্ষতি করে। কেউ বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে দেখলেও কেউ কেউ ফসল নষ্টের কারণে হনুমানগুলোকে তাড়িয়ে দেন এবং কখনো আহতও করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০২০ সাল থেকে বন অধিদপ্তরের তৎকালীন সিসিএফ আমির হোসেন চৌধুরীর প্রচেষ্টায় সরকারি উদ্যোগে প্রতিদিন এসব হনুমানের খাবারের জন্য ১৬ কেজি কলা, দুই কেজি বাদাম, দুই কেজি পাউরুটি (৫০ পিস) ও দুই কেজি সবজি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ভবনগর গ্রামের নাজমুল হাসান হনুমানগুলোকে খুঁজে খুঁজে এসব খাবার খাওয়ান। নাজমুলের ডাক শুনলেই হনুমানগুলো লাফাতে লাফাতে তার কাছে ছুটে আসে এবং তার হাত থেকে নির্ভয়ে খাবার খায়।

তবে বন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দেওয়া খাবার প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। হনুমানের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় খাদ্যসংকটও দেখা দিয়েছে। ফলে খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে গিয়ে ফসলের ক্ষতি করছে তারা।

এলাকার সচেতন ও মানবিক মানুষের দাবি, বিরল প্রজাতির এসব কালোমুখো হনুমান দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ। তাই এদের রক্ষায় নিরাপদ আবাসস্থল তৈরি এবং একটি অভয়ারণ্য গড়ে তুলতে সরকারি উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

হনুমান দেখভালকারী নাজমুল হাসান বলেন, বন অধিদপ্তর থেকে যে পরিমাণ খাবার দেওয়া হয়, তা চাহিদার তুলনায় খুবই কম। এ কারণে খাবারের সন্ধানে হনুমানগুলো এদিক-সেদিক ছুটে বেড়ায় এবং মানুষের ফসলের ক্ষতি করে। এছাড়া এলাকার বনজঙ্গল কমে যাওয়ায় তারা লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়ছে। বর্তমানে তাদের নিরাপদ থাকার জায়গা ও পর্যাপ্ত খাবার প্রয়োজন।

ভবনগর গ্রামের মিকাইল হোসেন বলেন, দিন দিন এলাকায় গাছপালা কমে বসতভিটা বাড়ায় হনুমানদের অবাধ বিচরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য খাবার দেওয়ায় তারা ফসলের ক্ষতি করছে। এ কারণে ফসল রক্ষায় স্থানীয়রা অনেক সময় হনুমানগুলোকে তাড়িয়ে দেন। সরকার পর্যাপ্ত খাবার ও নিরাপদ আবাসস্থলের ব্যবস্থা করলে দেশের প্রাণিসম্পদ রক্ষার পাশাপাশি হনুমানগুলোও নিরাপদে বসবাস করতে পারবে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এখানকার হনুমানগুলো রক্ষায় গাছপালা ও বন সৃষ্টি করা অত্যন্ত জরুরি।

বন বিভাগের কর্মকর্তা শফিকুল রহমান বলেন, এসব হনুমানের ওপর প্রতিবেদন করে খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তারা বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে। কখনো সংখ্যা বেশি দেখা যায়, আবার কখনো কম। তবে এসব হনুমানের রক্ষণাবেক্ষণে অভয়ারণ্য তৈরি করা গেলে সেটিই সবচেয়ে ভালো হবে।



Our Like Page