September 18, 2026, 2:11 am
শিরোনামঃ
যশোরের শার্শায় মাদকবিরোধী অভিযানে ৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ মা ছেলে আটক ঝিনাইদহের মহেশপুরে কোরআন শরীফ পোড়ানোর অভিযোগে যুবক আটক যশোরে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৩৫ জন নতুন আক্রান্ত গুলশান-ধানমণ্ডি- নিকেতন লেকের দূষণ রোধে সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী দেশের পর্যটন খাতকে আন্তর্জাতিক রূপ দিতে বিনিয়োগ বাড়াবে সরকার : পর্যটনমন্ত্রী ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিতে ‘ভূমি দৃষ্টি অ্যাপ’ উদ্বোধন স্থানীয় সরকারের সব প্রতিষ্ঠানের ভবনে বসাতে হবে সৌর প্যানেল টাঙ্গাইলে শিশুপুত্রকে কুপিয়ে হত্যা করলেন মা শরীয়তপুরে কবরস্থানের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে অটোচালককে কুপিয়ে হত্যা মরক্কোর সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করছে ইসরায়েল
এইমাত্রপাওয়াঃ

ঝিনাইদহের শৈলকুপার মরিচ হাট ‘সপ্তপল্লী’

এম কবীর, ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার গ্রামীণ সড়কের দু’পাশ দিয়ে বাড়ি-ঘর আর বিস্তৃত মাঠ। এরই মাঝে গড়ে উঠেছে একটি হাট। নাম ‘সপ্তপল্লী’। হাটটি প্রত্যন্তপল্লীর সাতটি গ্রাম নিয়ে গড়ে ওঠায় এই নামকরণ করা হয়েছে। তবে কয়েকবছর আগেও এখানে এই হাটের অস্তিত্ব ছিল না। হঠাৎ-ই এলাকাজুড়ে বৃদ্ধিপায় কাঁচা মরিচের চাষ। স্বল্পসময়ের ব্যবধানে অধিক মরিচ চাষের খবর ছড়িয়ে পড়ে আশপাশে। এরপর থেকেই স্থানীয় খুচরা বিক্রেতারা সরাসরি কাঁচা মরিচ কিনতে আসা শুরু করে এখানে। কৃষকেরাও মাঠ থেকে মরিচ তুলে রাস্তার উপর খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করতে শুরু করে। এভাবেই মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে এলাকাটিতে গড়ে উঠেছে কাঁচামরিচের হাট। এই হাটে প্রতিদিন বেচা-কেনা হয় প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার কাঁচা মরিচ। হাটটির অবস্থান ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার নিত্যানন্দনপুর ইউনিয়নের আশুরহাট,সাপখোলা ও পীড়াগাতি গ্রামের ঠিক মাঝখানে।

জানা যায়, প্রতিদিন বিকাল হলেই শুরু হয় এই হাট। সারাদিন কৃষকরা মাঠ থেকে মরিচ তুলে বস্তায় ভরে নিয়ে আসেন হাটে। এদিকে দূর-দূরান্ত থেকে ট্রাক নিয়ে পাইকাররা আসেন মরিচ কিনতে। শুধুমাত্র কাঁচামরিচ বিক্রির জন্যই এ হাটটিতে আসেন কৃষক ও ব্যবসায়িরা। মরিচের এই হাটকে কেন্দ্র করে এখানে গড়ে উঠেছে অর্ধ শতাধিক চায়ের স্টল ও হালকা খাবারের দোকান। কর্মসংস্থান হয়েছে কয়েকশত মানুষের। বাইরে থেকে আসা ব্যবসায়িদের সার্বিক নিরাপত্তা ও ক্রয়-বিক্রয়ে সহযোগিতা করতে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি মরিচের আড়ৎ। এখান থেকে মরিচ কিনে ব্যবসায়িরা ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী,রংপুর, গাইবান্ধা, পাবনা, সিলেট সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যান। সপ্তাহের সাতদিনই বসে হাট।  ক্ষেত থেকে কাঁচা মরিচ তুলেই কৃষকেরা নিয়ে আসেন হাটে। মাঠের ধারেই হাট হওয়ায় কৃষককে বাড়তি পরিবহন ভাড়া গুনতে হয়না।

হাট ঘুরে কৃষক ও ব্যবসায়িদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এক কেজি কাচা মরিচের বর্তমান বাজার দর ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। এ বাজারে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ লক্ষ টাকার মরিচ কেনাবেচা হয়। তবে ভারী বৃষ্টিতে মরিচ গাছে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় বর্তমানে তা নেমে এসেছে ১৫ থেকে ২০ লাখে।

স্থানীয় বাসিন্দা সজিব হোসেন বলেন, ‘হাটটিতে মরিচ কেনাবেচা বেশি হয়। তাই হাটটি মরিচের হাট নামে পরিচিতি পেয়েছে। প্রতিদিন এ হাটে লাখ লাখ টাকার মরিচ কেনাবেচা হয়। স্থানীয় অনেকের কর্মসংস্থান হয়েছে এই হাটে। প্রতিদিন হাটটি বসার কারণে স্থানীয় কৃষকেরা সহজে এ হাটে এসে তাঁদের উৎপাদিত মরিচ ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করতে পারেন।’

গ্রামের মরিচ চাষি সালাম বলেন, এ বছর দুই বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছি। ‘ ক্ষেত থেকে ৩০ কেজি মরিচ তুলে এনে বিক্রি করলাম। এখানে প্রতিদিন হাট বসার কারণে আমাদের মরিচ বিক্রি করতে সমস্যা হয় না।’

মরিচ ব্যবসায়ী রহিম মিয়া বলেন, ‘প্রতিদিন সকালে শুরু হয় মরিচ কেনাবেচা। প্রায় ২০ জন মহাজন এই হাটে মরিচ কিনে ট্রাকে করে ঢাকা,খুলনা,রংপুর,গাইবান্ধা,পাবনা রাজশাহী সহ দেশের বিভিন্ন  মোকামে পাঠান। বর্তমানে বৃষ্টিতে মরিচ গাছ নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে বেচাকেনা একটু কমে গেছে।’

শৈলকুপা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান বলেন, ‘আশুরহাট, সাপখোলা, পীড়াগাতি সহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামে অধিক পরিমাণে কাাঁচা মরিচের চাষ হয়। আর তাদের ফলনকৃত মরিচ বিক্রির জন্য এলাকাবাসিরা নিজ উদ্যেগে গ্রামের মধ্যে ‘সপ্তপল্লী’ নামে একটি হাট বসিয়েছে। সেখানেই তারা তাদের উৎপাদিত মরিচ বিত্রি করে। এতে পরিবহণ খরচ বেঁচে যাওয়া সহ নানা দিক দিয়ে লাভবান হচ্ছে তারা। বর্তমানে অতি বৃষ্টির কারণে কৃষকদের মরিচ গাছ ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় বেচাকেনা কিছুটা কমেছে। কেউ কেউ লোকসানের মুখেও পড়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস শুরু থেকেই তাদের নানা পরামর্শ ও সুযোগ-সুবিধা দিয়ে আসছে। চাষ বাড়াতে কৃষকদের পাশে সবসময় থাকবে কৃষি অফিস।’

আজকের বাংলা তারিখ

September ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Aug    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  


Our Like Page