October 2, 2026, 5:07 am
শিরোনামঃ
যশোরের কেশবপুর পৌর আওয়ামী লীগ নেতা ইকবাল আটক মাগুরায় আয়ুর্বেদিক কলেজে নানা অনিয়মের অভিযোগ ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে উৎপাদন বৃদ্ধির তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর মিষ্টির পদত্যাগপত্র পেয়েছি ; আজ থেকেই কার্যকর : স্পিকার হাজার ৫৯২ জনবল নিয়ে হচ্ছে সাইবার পুলিশ ইউনিট ; থাকবে ক্রিপ্টো ও ডার্ক ওয়েব অ্যানালিস্ট : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদত্যাগ করলেও পরবর্তী নির্বাচনে অযোগ্য হবেন না মিষ্টি : অ্যাটর্নি জেনারেল সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স এলো ৩৪ হাজার কোটি টাকা বরিশালে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকার হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার নারায়ণগঞ্জে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার জেরে শ্বশুরবাড়িতেই আগুন দিলেন জামাতা গাজায় ইসরায়েলি হামলায় সাংবাদিকসহ ৮ জন নিহত
এইমাত্রপাওয়াঃ

দক্ষিণ এশিয়ায় একটি শক্তিশালী জঙ্গি সংগঠন বানাতে চেয়েছিলেন আনিসুর : র‍্যাব

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেছেন, নতুন জঙ্গি সংগঠন ‘জামাতুল আনসার ফীল হিন্দাল শারক্বীয়া’কে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে একটি শক্তিশালী জঙ্গি সংগঠন বানাতে চেয়েছিলেন মো. আনিসুর রহমান ওরফে মাহমুদ। সংগঠনকে সংগঠিত করে টার্গেট কিলিংয়ের পরিকল্পনা ছিল তার।

সোমবার (২৪ জুলাই) দুপুরে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

রোববার ভোর রাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মুন্সিগঞ্জের লৌহজং এলাকায় একটি বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে নতুন জঙ্গি সংগঠনের আমির মো. আনিসুর রহমান ওরফে মাহমুদসহ তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-১০ এর একটি দল।

বাকি দুই গ্রেপ্তার হলেন কাজী সরাজ উদ্দিন ওরফে সিরাজ (৩৪) ও মাহফুজুর রহমান বিজয় ওরফে বাবুল ওরফে জাম্বুলি (২৮)। এই দুই জন হলেন আমিরের দেহরক্ষী। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছে থেকে দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, বোমা তৈরির সরঞ্জাম, উগ্রবাদী বই জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব জানায়, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী জঙ্গি সংগঠন বানাতে চেয়েছিলেন শারক্বীয়া’র আমির মো.আনিসুর রহমান ওরফে মাহমুদ। দেশের বাইরে হামলার কোনো পরিকল্পনা না থাকলেও দেশের মধ্যে হামলার পরিকল্পনা ছিল তাদের। তারা টার্গেট কিলিং মিশনের পরিকল্পনা করেছিল। মুক্তমনা মানুষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের টার্গেট করে কিলিং মিশন করার পরিকল্পনা ছিল। আর তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর সসস্ত্র হামলার পরিকল্পনা করছিলেন আমির মাহমুদ।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব মুখপাত্র বলেন, গ্রেপ্তার আনিসুর রহমান নতুন জঙ্গি সংগঠনের আমির। তিনি মাদ্রাসা থেকে দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করে কুমিল্লা সদর দক্ষিণের একটি সিএনজি রিফুয়েলিং পাম্পে ম্যানেজার হিসেবে চাকরি করতেন। তিনি ইতিপূর্বে হুজি’র সদস্য ছিলেন। পরে তার সঙ্গে কুমিল্লার একটি রেস্টুরেন্টে আনসার আল ইসলামের রক্সি ও ফেলানীর সঙ্গে পরিচয় হয়। পরে তারা যাত্রাবাড়ীতে একটি মিটিং করে নতুন একটি সংগঠন তৈরি ও বিস্তারের পরিকল্পনা করে জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার কার্যক্রম শুরু করে।

খন্দকার আল মঈন বলেন, আনিসুর রহমান ২০১৬ সাল পরবর্তী বিভিন্ন সময় বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির বিভিন্ন মসজিদে গিয়ে সংগঠনের দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। তিনি ২০২০ সালে বান্দরবানের গহীন এলাকায় আসলাম নামক এক ব্যক্তির কাছে প্রায় এক মাস সামরিক বিভিন্ন কৌশল, অস্ত্র চালনা, প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকাসহ বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। আমির মাহমুদ কুমিল্লায় তার বাড়ি জমিসহ বিক্রি করে দেন, এর মধ্যে কিছু টাকা তিনি সংগঠনে দান করেন। অবশিষ্ট টাকা দিয়ে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে সাড়ে ৩ বিঘা জমি কিনে ওই বছরই সেখানে পরিবার নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে এবং পোল্ট্রি ফার্ম, চাষাবাদ ও গবাদি পশুর খামার পরিচালনা করতেন।

তিনি আরও বলেন, আনিসুর রহমানের আগে নতুন জঙ্গি সংগঠনটির আমির ছিলেন মাইনুল ইসলাম ওরফে রক্সি। ২০২১ সালে রক্সি গ্রেপ্তার হলে আনিসুর রহমানকে আমির করা হয়। এদিকে পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থানের সময় মাহমুদের সঙ্গে ‘কেএনএফ’ সদস্যদের পরিচয় হয়। কেএনএফ প্রধান নাথান বম ও সেকেন্ড ইন কমান্ড বাংচুংয়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি হয় আনিসুরের। পরে তাদের মধ্যে পাহাড়ে জামাতুল আনসারের সদস্যদের সশস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়ে তাদের মধ্যে চুক্তি হয়।

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, চুক্তি অনুযায়ী কেএনএফ ২০২৩ সাল পর্যন্ত নতুন জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেবে। এর বিনিময়ে কেএনএফকে ৩-৪ লাখ টাকা দিতো তারা। এই টাকা দিতে জঙ্গি সংগঠন দেশ-বিদেশে অর্থ সংগ্রহ শুরু করে। আমিরের নির্দেশে কেএনএফ থেকে ১৭ লাখ টাকার বিভিন্ন ধরনের ভারি অস্ত্র ও বিদেশি অগ্নেয়াস্ত্র কিনে সংগঠনটি। এই অস্ত্র ব্যবহার করে প্রশিক্ষণ নিতো। এছাড়া মাহমুদের নির্দেশে দেশের বিভিন্ন স্থানে আনসার হাউজ তৈরি এবং পরিচালিত হতো।

পলাতক জঙ্গি নেতা চাকরিচ্যুত মেজর জিয়ার সঙ্গে মাহমুদের একাধিকবার দেখা হয়েছে জানিয়ে র‍্যাবের মুখপাত্র বলেন, আমির মাহমুদের সঙ্গে আনসার আল ইসলামের নেতাদের সুসম্পর্ক ছিল। শীর্ষ জঙ্গি চাকরিচ্যুত মেজর জিয়ার সঙ্গে তার বেশ কয়েকবার দেখা হয়েছিল। ২০২২ সালে কিশোরগঞ্জে আনসার আল ইসলামের সঙ্গে একটি মিটিংয়ে মাহমুদের সঙ্গে আনসার আল ইসলামের একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। আনসার আল ইসলাম মাহমুদকে ১৫ লাখ টাকা দেয়।

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে র‌্যাবসহ অন্যান্য বাহিনীর অভিযান শুরু হলে গ্রেপ্তার আনিসুর রহমান ওরফে মাহমুদ পাহাড় থেকে পালিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপনে থাকেন। সংগঠনকে পুনরায় সংগঠিত করার জন্য তিনি পলায়নকৃত সূরা সদস্য ও অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে; ক্লোজ গ্রুপের মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করছিল। এ সময় কেএনএফের শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। কেএনএফ প্রধান নাথান বম পার্শ্ববর্তী দেশের মিজোরামে অবস্থান করছে। বিভিন্ন সময়ে কেএনএফের হামলা ও আক্রমণের বিষয়ে তার ইন্ধন থাকতে পারে। টাঙ্গাইল, নোয়াখালী, ময়মনসিংহ, বরিশাল ও ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনের পর ৭-১০ দিন আগে তিনি মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ের একটি বাসা ভাড়া নেয় ও সংগঠনের বেশকিছু সদস্য নিয়মিত বাসায় আসা-যাওয়া করত। নিরাপত্তার জন্য তিনি সবসময় তার সঙ্গে দুজন সশস্ত্র দেহরক্ষী রাখতেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মুন্সিগঞ্জের যে বাসা থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সেখানে বোমা তৈরির জন্য বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জামাদি পাওয়া গেছে। এছাড়া তার কাছে যে অস্ত্র ছিল সেটি তার আত্মরক্ষার জন্য ব্যবহার করতেন। তাদের প্রশিক্ষণের বিভিন্ন কৌশল দেখেন মনে হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের নাশকতার মাধ্যমে সংগঠনের জানান দিতে চেয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, এই সংগঠনটি এখন পর্যন্ত কেএনএফ ছাড়া বাইরের কারও সঙ্গে কোনো যোগাযোগ ছিল না। এছাড়া দেশের বাইরে এই সংগঠনের কোনো কাজ নেই।

আজকের বাংলা তারিখ

October ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Sep    
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  


Our Like Page