October 12, 2026, 2:58 pm
শিরোনামঃ
নারী-শিশুর সহিংসতা ও যৌন হয়রানিতে ‘জিরো টলারেন্স’ কঠোরভাবে বাস্তবায়নের বিকল্প নেই : রাষ্ট্রপতি রোহিঙ্গাদের দীর্ঘ অবস্থানে অর্থনীতি ও পরিবেশে চাপ বাড়ছে : প্রধানমন্ত্রী নারীর ক্ষমতায়নকে কেবল একটি সাধারণ ধারণা হিসেবে দেখলে হবে না : গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিতে সৌদিতে বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান রংপুরে কাঁঠাল গাছ থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার সিলেটে স্ত্রীর ছবি তোলার প্রতিবাদ করায় যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের ঘুম উড়ে গেছে : রাহুল গান্ধী  এয়ারলাইনসগুলোকে সৌদি আকাশসীমা এড়িয়ে চলার হুঁশিয়ারি দিলো ইয়েমেন বিদ্রোহী গোষ্ঠী  ঝিনাইদহের মহেশপুরে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির অক্টোবর মাসের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত ভারতে উচ্চস্বরে আজান দেওয়ায় মুয়াজ্জিন আটক
এইমাত্রপাওয়াঃ

যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চলছে : জাতিসংঘ

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক :  হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পরও গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা অব্যাহত রয়েছে বলে জাতিসংঘ জানিয়েছে।

জাতিসংঘের ফিলিস্তিনবিষয়ক বিশেষ দূত ফ্রান্সেসকা আলবানিজ তার সর্বশেষ প্রতিবেদনে গাজার মানবিক পরিস্থিতিকে ‘স্পষ্ট গণহত্যা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির চুক্তিগুলো লঙ্ঘন করে এখনো ফিলিস্তিনিদের হত্যা, বাস্তুচ্যুত করা ও অনাহারে রাখার নীতি চালিয়ে যাচ্ছে।

এই প্রতিবেদনে শুধু সামরিক হামলার দিক নয়, বরং যৌন সহিংসতা, চিকিৎসাকেন্দ্র ধ্বংস এবং হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে বন্দি রাখার বিষয়গুলোও তুলে ধরা হয়েছে।

আলবানিজ উল্লেখ করেছেন, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও ২০০-র বেশি ফিলিস্তিনি শহীদ হয়েছেন, যা ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোর প্রতি সম্পূর্ণ অবহেলার প্রমাণ। তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলকে অস্ত্র ও রাজনৈতিক সহায়তা প্রদানকারী দেশগুলোও এই গণহত্যায় সহযোগী এবং তাঁদেরও দায় বহন করতে হবে।

প্রতিবেদনের আরেক অংশে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতালগুলোর ইচ্ছাকৃত ধ্বংসের কথাও বলা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, “আল-বাসমা” হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে সরাসরি হামলায় হাজার হাজার ফিলিস্তিনি ভ্রূণ ধ্বংস হয়েছে; আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি ফিলিস্তিনিদের প্রজন্ম বিলুপ্ত করার উদ্দেশ্যমূলক প্রচেষ্টা।

এই অপরাধগুলোর পাশাপাশি, ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি এখনো ইসরায়েলি কারাগারে আটক আছেন, অথচ ইসরায়েলি বন্দিরা ইতোমধ্যে মুক্তি পেয়েছেন। বন্দিদের প্রতি এই বৈষম্যমূলক আচরণকে জাতিসংঘ ‘বর্ণবৈষম্যমূলক ব্যবস্থা’র অংশ হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং তা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। আলবানিজ আরও বলেন, ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের ভয় দেখানো ও নির্যাতনের হাতিয়ার হিসেবে যৌন সহিংসতা ব্যবহার করছে।

এদিকে, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আবারও যুদ্ধবিরতি রক্ষা ও দখলদারিত্বের অবসান ঘটিয়ে ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি গাজার যুদ্ধবিরতি বারবার লঙ্ঘনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন অব্যাহত থাকাকে গভীরভাবে উদ্বেগের সাথে দেখছি।” গুতেরেস গাজার ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের কথা উল্লেখ করে শিক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠন ও জরুরি সেবাগুলোর পুনরুদ্ধারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

গাজা উপত্যকায় ইহুদিবাদী সেনাবাহিনী কর্তৃক ফিলিস্তিনিদের গণহত্যা অব্যাহত রাখা সম্পর্কে জাতিসংঘের কঠোর সতর্কতা, এই দুর্যোগপীড়িত অঞ্চলে আক্রমণ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি, এই অবৈধ রাষ্ট্রের অপরাধী চরিত্রকে নির্দেশ করে, যা যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরেও নির্যাতিত গাজাবাসী হত্যা করে চলেছে।

তবে এসব সতর্কবার্তার পরও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া দুর্বল ও অপ্রতুল রয়ে গেছে। স্পষ্টতই, যুক্তরাষ্ট্রের ‘সবুজ সংকেত’ ছাড়া গাজায় ইসরায়েলের এসব অপরাধ সম্ভব নয়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে এই বিষয়টি স্বীকারও করেছেন। তিনি বলেছেন, গাজায় ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলাগুলো কোনোভাবেই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন নয়, বরং ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, “গাজার যুদ্ধবিরতির কোনো কিছুই বিপন্ন হয়নি।”

এখানে প্রশ্ন আসে—ট্রাম্পের দৃষ্টিতে আসলে ইসরায়েলের কোন পদক্ষেপ যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে? নিঃসন্দেহে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের দৃষ্টিতে, যদি হামাস নিজেকে রক্ষা করার অথবা ইসরাইলের বর্বর হামলার জবাব দেয়ার জন্য সামান্যতম কোনো কাজও করে, তাহলে সেই কাজটি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। এই অবস্থানটি প্রমাণ করে যে, ইসরায়েলের উপর হামলা বন্ধ করার জন্য চাপ দেয়ার কোনো ইচ্ছা ট্রাম্পের নেই, কারণ তিনি এই রাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডকে নিরাপত্তা হুমকির প্রতি বৈধ প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখেন।

অন্যদিকে, প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি আলোচনার সময় ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রতি চুক্তি মেনে চলার নিশ্চয়তা দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে; কিন্তু যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের পর তিনি কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেননি। এই অবস্থান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যগত ইসরায়েল-সমর্থন নীতিরই ধারাবাহিকতা এবং প্রমাণ করে যে, ট্রাম্প প্রশাসন নিরপেক্ষতার চেয়ে ইসরায়েলের কৌশলগত স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ফলে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের পরও ট্রাম্পের নিষ্ক্রিয়তা দুর্বলতা নয়, বরং রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত মিত্রতার প্রকাশ।

আজকের বাংলা তারিখ

  • ১২ই অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৭শে আশ্বিন, ১৪৩৩
  • ১লা জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪৮
October ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Sep    
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  


Our Like Page