অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : পারস্য উপসাগরের দক্ষিণ উপকূলীয় দেশগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বাহিনীটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি চলাকালীন গত কয়েক ঘণ্টায় ইরানি সশস্ত্র বাহিনী কোনো ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনা করেনি।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ইরানি হামলার যে খবর প্রচার করা হচ্ছে, তাকে ভিত্তিহীন বলে বর্ণনা করেছে আইআরজিসি। বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এখন পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির সময়সীমার মধ্যে কোনো দেশের ওপর একটি ক্ষেপণাস্ত্রও নিক্ষেপ করেনি।’
আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করেছে, যদি সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত হামলার এই খবরগুলো সত্য হয়ে থাকে, তবে এটি নিশ্চিতভাবেই ‘জায়নবাদী শত্রু’ ইসরায়েল অথবা যুক্তরাষ্ট্রের কাজ। সংস্থাটি দাবি করেছে, অঞ্চলটিকে অস্থিতিশীল করতে এবং বর্তমান যুদ্ধবিরতিকে নস্যাৎ করার জন্য তারা প্রায়ই এ ধরনের উসকানিমূলক ও ভুয়া অভিযান (ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশন) পরিচালনা করে থাকে।
ইরান সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আইআরজিসি যোগ করেছে যে, ইরানি বাহিনী যদি কোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে, তবে তা সাহসের সাথে আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে বিশ্বকে জানিয়ে দেওয়া হবে। তাই ইরানের সরকারি বিবৃতির বাইরে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনার দায়ভার তেহরান গ্রহণ করবে না।
বিবৃতিতে বর্তমান সংবেদনশীল সময়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে শত্রুভাবাপন্ন সংবাদমাধ্যমগুলোর অপপ্রচার চালানোর প্রচেষ্টাকে উন্মোচন করা হয়েছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, ইসরায়েল পশ্চিম এশিয়া জুড়ে তাদের আগ্রাসী নীতি অব্যাহত রাখলেও ইরান এখন পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির শর্তাবলী মেনে চলার বিষয়ে অনড় রয়েছে।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সবসময় প্রস্তুত রয়েছে বলে পুনরায় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়েছে। একই সাথে পারস্য উপসাগরে যেকোনো বিশৃঙ্খলার জন্য প্রকৃত উসকানিদাতাদের চিহ্নিত করার আহ্বান জানিয়েছে বাহিনীটি।
এদিকে ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, যুদ্ধবিরতি সম্মান জানানো এবং লেবাননে হামলা বন্ধ করার জন্য তাদের হাতে সময় ফুরিয়ে আসছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর হামলার মাধ্যমে যে সংঘাতের শুরু হয়েছিল, তার জবাবে ইরান ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’ পরিচালনা করে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি অবস্থানগুলোতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল। ছয় সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের পর এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও মাঠপর্যায়ে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি এখনো বিরাজ করছে।