অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : ইসলামাবাদ-এ অনুষ্ঠিত বহুল প্রত্যাশিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা কোনো ধরনের চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। আলোচনার ব্যর্থতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ‘অযৌক্তিক ও অতিরিক্ত দাবি’কে দায়ী করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।
রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি এক বিবৃতিতে জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে ইরানি প্রতিনিধি দল টানা ২১ ঘণ্টা ধরে নিবিড় আলোচনা চালায়। এসময় তেহরান একাধিক গঠনমূলক প্রস্তাব দিলেও মার্কিন পক্ষের কঠোর অবস্থানের কারণে কোনো অগ্রগতি সম্ভব হয়নি।
ইরানের প্রভাবশালী সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই আলোচনা ভেস্তে দেওয়ার অজুহাত খুঁজছিল। একইসঙ্গে প্রেস টিভি জানিয়েছে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের এমন কিছু শর্ত ছিল, যা মেনে নেওয়া ইরানের পক্ষে সম্ভব নয়।
উল্লেখ্য, ইসলামি বিপ্লব ১৯৭৯-এর পর এটিই ছিল দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ ও সরাসরি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ‘শেষ এবং সেরা প্রস্তাব’ দিয়ে আলোচনা ত্যাগ করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
এর আগে ভ্যান্স অভিযোগ করেন, ইরান দীর্ঘমেয়াদে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি পরিত্যাগে সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিতে ব্যর্থ হয়েছে। যদিও তেহরান এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানায়, জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দিয়ে কোনো চুক্তিতে তারা সম্মত হবে না।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাত ইতোমধ্যে বিশ্ব অর্থনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এ প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করলেও উভয় পক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও মাঠপর্যায়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এদিকে হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণকারী জাহাজ মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র যে চাপ সৃষ্টি করছে, তাকে ইরান ‘উসকানিমূলক’ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের শর্তে নমনীয়তা না দেখালে এবং ইরান অবস্থান পরিবর্তন না করলে এই সংকটের দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।