অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : জাতীয় সংসদে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানি ভাতা বৃদ্ধির জোরালো দাবি জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই দাবি জানান।
বাজেটে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানি ভাতা ২০ হাজার টাকায় অপরিবর্তিত রাখা এবং খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা মাত্র ৫০০ টাকা বৃদ্ধির প্রসঙ্গটি তুলে ধরেন ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের জন্য মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যা ঠিক আছে। আহতদের জন্য বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। কিন্তু বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানি ভাতার সঙ্গে অন্য কোনো সম্মানি ভাতার তুলনা করা উচিত নয়।”
মুক্তিযুদ্ধকে দেশের শ্রেষ্ঠ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, “যারা মুক্তিযুদ্ধকে শ্রেষ্ঠ মনে করেন, তাদের অবশ্যই মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানি ভাতার সঙ্গে অন্য কারও ভাতার তুলনা করা থেকে বিরত থাকতে হবে। যদি এ ধরনের তুলনা চলতে থাকে, তবে ভবিষ্যতে পাঁচ বছর পর এর বড় খেসারত দিতে হবে।”
তিনি জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়াদের অসম্মান না করার কথা পুনর্ব্যক্ত করলেও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানি বাড়ানোর প্রশ্নে আপসহীন থাকার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, “বিএনপির সংসদ সদস্যদেরও শেষ পর্যন্ত বলতে হয়েছে তারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে। তাই মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাইযোদ্ধাদের ভাতার মধ্যে তুলনা করলে ভবিষ্যতে এর যৌক্তিক উত্তর দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।”
সবশেষে তিনি জোর দিয়ে বলেন, “মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানি ভাতা অন্তত এক টাকা হলেও বাড়াতে হবে। অন্যথায়, বাজেটে তাদের জন্য ভাতার পরিমাণ আরও বেশি হওয়া উচিত।”