স্টাফ রিপোর্টার : ঝিনাইদহের মহেশপুরে দীর্ঘ তিন মাস ধরে বুকসমান কাদার মধ্যে শিকলবন্দী অবস্থায় থাকা চারটি মহিষকে উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহিষগুলোর দুরবস্থার ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর উপজেলা প্রশাসনের নজরে এলে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মহিষগুলোকে উদ্ধার করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাজ্জাদ হোসেন।
রোববার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার গোকুলনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। উদ্ধার হওয়া মহিষগুলোর মালিক একই গ্রামের মৃত ফরজ আলীর ছেলে আব্দুল আলিম।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় তিন মাস আগে মহিষগুলোকে মাঠে চরাতে নেওয়া বন্ধ করে দেন মালিক। এরপর বাড়ির পাশে চারটি আলাদা গাছের সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। দীর্ঘদিন একই স্থানে আটকে থাকার কারণে বৃষ্টি ও মহিষের চলাচলে গাছগুলোর চারপাশের মাটি ধীরে ধীরে গভীর ও থকথকে কাদায় পরিণত হয়। একপর্যায়ে মহিষগুলো বুকসমান কাদায় আটকে পড়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টির মধ্যে থাকা মহিষগুলোকে পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া হতো না। সামান্য খড় ও পানি দিয়েই দিনের পর দিন তাদের রাখা হয়।
মহিষগুলোর মালিক আব্দুল আলিমকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। তার মা সত্য খাতুন জানান, মহিষগুলোকে এভাবে কষ্ট না দিয়ে বিক্রি করে দেওয়ার কথা তিনি ছেলেকে বলেছিলেন। কিন্তু ছেলে তার কথা শোনেননি।
এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে মহিষগুলোকে আটকে রাখার পেছনে তন্ত্রমন্ত্রের সাধনার গুঞ্জন রয়েছে। তবে এ বিষয়ে মহিষের মালিকের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় পরিবেশকর্মী নাজমুল হোসেন রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহিষগুলোর দুরবস্থার ছবি প্রকাশ করেন। পরে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। খবর পেয়ে ইউএনও মো. সাজ্জাদ হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় শিকল খুলে মহিষ চারটিকে উদ্ধার করে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ ও শুকনো স্থানে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
ইউএনও মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে কাদায় আটকে থাকা চারটি মহিষ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের মহিষগুলোর জন্য নিরাপদ আশ্রয় ও পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে মহিষগুলোর জন্য উপযুক্ত ও মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা না হলে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।