27 Feb 2025, 06:28 am

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক :  ফিলিস্তিনের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের সাবেক প্রধান ইসমাইল হানিয়াকে হত্যার বিষয়ে ইহুদিবাদী ইসরাইল যে স্বীকারোক্তি দিয়েছে তার কঠোর নিন্দা জানিয়ে একে “জঘন্য অপরাধ” বলে অভিহিত করেছে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান।

জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি গতকাল (মঙ্গলবার) জাতিসংঘ মহাসচিব ও নিরাপত্তা পরিষদের প্রেসিডেন্টকে পাঠানো এক চিঠিতে এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, এই প্রথমবারের মতো ইহুদিবাদী ইসরাইল তার ঘৃণ্য অপরাধের দায়-দায়িত্ব প্রকাশ্যে নির্লজ্জভাবে স্বীকার করলো। এই স্বীকারোক্তির পর ইহুদিবাদী ইসরাইলের সন্ত্রাসবাদ এবং আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব বেড়ে গেল। একই সাথে এও পরিষ্কার হলো যে, গত পহেলা অক্টোবর ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান ইহুদিবাদী ইসরাইলের বিরুদ্ধে যে প্রতিরক্ষামূলক জবাব দিয়েছিল তা ছিল বৈধ এবং আইনগতভাবে যুক্তিপূর্ণ।

আমির সাঈদ ইরাভানি তার চিঠিতে সুস্পষ্ট করে বলেন, ইহুদিবাদী ইসরাইল এখনো আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি এবং নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ইহুদিবাদী ইসরাইল যে অপরাধযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে এবং মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলছে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানান ইরানের এ রাষ্ট্রদূত।

তিনি বলেন, এ সমস্ত অপরাধের বিষয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ যদি অব্যাহতভাবে নীরব থাকে তাহলে তাতে ইহুদিবাদী ইসরাইল এ ধরনের অপরাধযজ্ঞ চালাতে ইসরাইলের উৎসাহ বাড়তেই থাকবে।

গত সোমবার ইসরাইলের যুদ্ধমন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ স্বীকার করেন যে, ইহুদিবাদী ইসরাইল হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়াকে হত্যা করেছে।

গত ৩১ জুলাই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার কয়েক ঘন্টা পর ইসমাইল হানিয়ার ওপর গুপ্ত হামলা চালায় ইহুদিবাদী ইসরাইল এবং তাতে শহীদ হন ইসমাইল হানিয়া। এরপর গত পহেলা অক্টোবর ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান ইহুদিবাদী ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক হামলা চালায়।

 

তেহরানে হানিয়াহকে হত্যার নির্লজ্জ ইসরাইলি স্বীকারোক্তি ; ইরানের তীব্র নিন্দা

সিরিয়া বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত গেইর পেডারসেন

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক সিরিয়া বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত গেইর পেডারসেন সিরিয়ায় কুর্দিপন্থী গেরিলা গোষ্ঠী এবং তুর্কি সমর্থিত সংগঠনগুলোর মধ্যে অব্যাহত শত্রুতার নাটকীয় পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করছেন। তিনি চলমান এই বিরোধ রাজনৈতিকভাবে সমাধানের আহ্বান জানান।

সোমবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে পেডারসেন বলেন, যদি সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পরিস্থিতিকে সঠিকভাবে মোকাবেলা না করা যায় তাহলে পুরো সিরিয়ার জন্য তা খারাপ লক্ষণ হয়ে উঠবে। পেডারসেন জোর দিয়ে বলেন, “আমরা যদি ব্যর্থ হই তাহলে সেটা নাটকীয় পরিণতি বয়ে আনবে এবং বিপুল সংখ্যক মানুষ শরণার্থী হবে।”

গত ৮ ডিসেম্বর সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ক্ষমতা ছেড়ে রাশিয়ায় চলে যাওয়ার পর তুর্কি সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো এবং মার্কিন সমর্থিত কথিত সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্স বা এসডিএফ-এর মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে চলেছে। গত নয় ডিসেম্বর এসডিএফ অধিকৃত মানবিজ শহরের নিয়ন্ত্রণ নেয় তুর্কি সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো। এছাড়া, সিরিয়ার কোবানি শহরে তুর্কি সমর্থিত গরিলারা হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে খবর বেরিয়েছে। এ অবস্থায় কুর্দিপন্থী ওয়াইপিজি’র নেতৃত্বাধীন এসডিএফ ওই এলাকা থেকে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতির জন্য তাদের যোদ্ধাদের প্রত্যাহার করেছে। কিন্তু সিরিয়ার কার্যত শাসক আবু মোহাম্মদ আল-জুলানির সাথে রোববার বৈঠকের সময় তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, ওয়াইপিজি-কে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে। আঙ্কারা ওয়াইপিজি-কে সন্ত্রাসী সংগঠন মনে করে যাদের সাথে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি বা পিকেকের সম্পর্ক রয়েছে।

 

সিরিয়ায় কুর্দি-তুরস্ক উত্তেজনার ‘নাটকীয় পরিণতি’র আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক বড়দিনের আনন্দ ম্লান করে দিয়ে সকালে রাশিয়া ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ও পূর্বাঞ্চলের শহরগুলোতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। খবর রয়টার্সের।

বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) দেশটির জ্বালানি মন্ত্রী এবং স্থানীয় কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রোববার ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার দূরে রাশিয়ার কাজান শহরে ড্রোন হামলা চালায় কিয়েভ। এর জবাবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনের বিরুদ্ধে আরও ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দেন। তারই ধারাবাহিকতায় এই হামলা চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উত্তর-পূর্ব ইউক্রেনের খারকিভ শহরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ছয়জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর ওলেহ সিনিয়েহুবভ। এছাড়া, বেসামরিক আবাসিক এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ডিনিপ্রো অঞ্চলেও রুশ সেনারা ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। আঞ্চলিক গভর্নর সের্হি লিসাক জানিয়েছেন, সেখানে রাশিয়া জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংসের চেষ্টা করছে।

ইউক্রেনের জ্বালানি মন্ত্রী জার্মান গালুশচেঙ্কো জানান, রাশিয়া ধারাবাহিকভাবে জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত হানছে। ক্ষতি নিয়ন্ত্রণে কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার স্থলে দমকলকর্মীরা কাজ করছে। ছবি সংগৃহীত

দেশটির বৃহত্তম বেসরকারি জ্বালানি প্রতিষ্ঠান ডিটিইকে জানিয়েছে, তাদের উৎপাদন ব্যবস্থায় গুরুতর ক্ষতি হয়েছে। চলতি বছরে এটি জ্বালানি খাতে ১৩তম এবং ডিটিইকের অবকাঠামোয় ১০ম বড় হামলা।

রাশিয়ার হামলায় ইতোমধ্যে ইউক্রেনের প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে। এর ফলে দেশজুড়ে দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ বিভ্রাট চলছে।

এই হামলার পর ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী দেশব্যাপী বিমান সতর্কতা জারি করে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও বিমান বাহিনী দেশটির পূর্ব, মধ্য, দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় সতর্কতা বার্তা দেয়।

গত ১৭ নভেম্বর রাশিয়া ইউক্রেনে ১২০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৯০টি ড্রোন ছোড়ে। ওই হামলায় সাতজন নিহত হন এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে ইউক্রেনের অনেক এলাকায় টানা আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়।

ইউক্রেনের জনগণ এমনিতেই দীর্ঘদিন ধরে চলা যুদ্ধের প্রভাবে বড়দিনের আনন্দ হারিয়েছে। তার ওপর এই হামলা তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক :  কাজাখস্তানের আকতাউ শহরের কাছে আজারবাইজান এয়ারলাইন্সের একটি যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে বহু মানুষের হতাহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর রয়টার্সের।

বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) কাজাখস্তানের জরুরি পরিষেবা মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

বিমানটি আজারবাইজান এয়ারলাইন্সের ছিল এবং এটি বাকু থেকে রাশিয়ার চেচনিয়ার গ্রোজনি শহরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল। তবে, গ্রোজনিতে কুয়াশার কারণে বিমানটিকে দিক পরিবর্তন করতে বাধ্য করা হয়।

কাজাখস্তানের জরুরি পরিষেবাগুলো দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এখনো জানা যায়নি।

স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটিতে ৬৭ জন যাত্রী এবং পাঁচজন ক্রু সদস্য ছিলেন। জীবিত যাত্রির সন্ধান পাওয়া গেছে এখন পর্যন্ত ১২ জন। যদিও রয়টার্স এখনো এই তথ্য নিশ্চিত করতে পারেনি।

আজারবাইজান এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে গত সপ্তাহে ব্রাজিলে একটি বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় সকল আরোহী নিহত হয়েছিলেন। একের পর এক বিমান দুর্ঘটনার এই খবর আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।

দুর্ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ এবং উদ্ধার কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো পর্যবেক্ষণ করছে।

 

কাজাখস্তানে যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত ; বহু হতাহতের আশঙ্কা  

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক ইয়েমেনে আমেরিকার সাম্প্রতিক বিমান হামলার সময় দেশটির এফ-১৮ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাকে মার্কিন বিমান বাহিনীর শ্রেষ্ঠত্বের দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তারা যে ইয়েমেনি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা কার্যকরভাবে মোকাবেলা করতে সক্ষম নয় সেটাও গোটা বিশ্বের সামনে প্রমাণিত হয়েছে।

এর আগে ব্রিটিশ ও মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো ইয়েমেনের বিভিন্ন অংশে বহু বার হামলা চালিয়েছে। অবশ্য ইয়েমেনের সেনাবাহিনী কখনোই নতজানু হয়নি, তারা দ্রুত প্রতিশোধ নিয়েছে এবং বারবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে লোহিত সাগরে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্র দেশগুলো বিশেষকরে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের যুদ্ধজাহাজগুলোতে হামলা করেছে। পার্সটুডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড বা সেন্টকমের  এক বিবৃতিতে উদ্ধৃত করে লিখেছে, শনিবার ইয়েমেনের ক্ষেপণাস্ত্র গুদাম এবং কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার লক্ষ্য করে মার্কিন বাহিনী হামলা চালিয়েছে। মার্কিন বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, আমেরিকার বিভিন্ন জাহাজে হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইয়েমেনে তারা আক্রমণ চালিয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইয়েমেনে আমেরিকা ও ব্রিটেন মিলে বিমান হামলা চালানোর পর মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) রোববার জানায় ইয়েমেনে হামলার সময় আমেরিকা একটি এফ/এ-১৮ হর্নেট যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। তাদের দাবি এটা ছিল ফ্রেন্ডলি ফায়ার অর্থাৎ নিজেদেরই হামলা এবং বিমানের উভয় পাইলট বেঁচে গেছেন, তবে তাদের একজন আহত হয়েছেন।

সেন্টকম আরও দাবি করেছে, বিধ্বস্ত এফ-১৮ তাদেরই বিমানবাহী রণতরী হ্যারি এস. ট্রুম্যান থেকে উড্ডয়ন করেছিল। রণতরী বহরের একটি ক্ষেপণাস্ত্রবাহী পাহারাদার যুদ্ধজাহাজ গেটিসবার্গ ‘ভুলবশত’ হর্নেট বিমানটিকে লক্ষ্য করে গুলি করে আর সেটি আঘাতপ্রাপ্ত হয়।

শনিবার রাতে ইয়েমেনে যে হামলা চালানো হয় তা হ্যারি এস. ট্রুম্যান রণতরী বহর থেকেই চালানো হয়েছিল। এটি ছিল এই বহরের এই অঞ্চলে প্রবেশের পর তা থেকে প্রথম অভিযান। ধ্বংসপ্রাপ্ত মার্কিন যুদ্ধবিমানটির দাম ৭ কোটি ডলার।

সেন্টকম যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাকে ফ্রেন্ডলি ফায়ারের ফলাফল হিসেবে দাবি করলেও ইয়েমেনিরা এই ঘটনাটিকে অন্যভাবে বর্ণনা করেছে। ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ বা ভুলে নিজেদের গুলিতে নিজেদের যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত করার যে দাবি মার্কিন বাহিনী করেছিল তা প্রত্যাখ্যান করে ইয়েমেন বলেছে, তারা গুলি করে ওই এফ-১৮ যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত করেছে, বিমানটি ফ্রেন্ডলি ফায়ারের কারণে বিধ্বস্ত হয়নি।

ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি গত রোববার এক বিবৃতিতে বলেন, তারা লোহিত সাগরে একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরীতে আক্রমণ করে ইয়েমেনে আগ্রাসী হামলা চালানোর একটি যৌথ ইঙ্গো-মার্কিন প্রচেষ্টা নস্যাত করে দিয়েছেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, “ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর হামলার ফলে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস হ্যারি এস. ট্রুম্যানকে লোহিত সাগরে নিজের আগের অবস্থান থেকে উত্তর দিকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।”

ওই রণতরী লক্ষ্য করে রোববার আটটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৭টি ড্রোনের সাহায্যে একটি বিশেষ অভিযান চালানো হয় বলে তিনি জনান। জেনারেল সারি বলেন, এ অভিযানে ইয়েমেনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো ধ্বংস করতে আকাশে উড্ডয়ন করা একটি মার্কিন এফ-১৮ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়।

আমেরিকান এফ-১৮ ফাইটার ধ্বংস হওয়ার ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ বার্তা রয়েছে। ইয়েমেনি হামলার মোকাবেলা করা আমেরিকা ও তার মিত্রদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন সর্বাধুনিক অস্ত্র মোকাবেলায় ইয়েমেনের সাফল্য তাদেরকে আরও নতুন নতুন সাফল্যের দিকে নিয়ে যাবে এবং এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ইয়েমেনিরা মার্কিন জাহাজের বিরুদ্ধে তাদের আক্রমণ এমনভাবে সাজাবে যাতে আমেরিকা তাদের অবস্থানে আগ্রাসন চালানোর চিন্তা করতে ভয় পায়।

কেউ কেউ বলছেন,- ইয়েমেনিদের হামলায় মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস হওয়ার ঘটনাটি এমনও হতে পারে যে, আমেরিকার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইয়েমেনিদের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে গিয়ে নিজেদের যুদ্ধবিমানকে ভূপাতিত করেছে। তবে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী স্পষ্টভাবেই বলেছেন- এটা তাদের কাজ, তারা মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছেন। ইয়েমেনিদের হামলা ঠেকাতে গিয়েই যদি মার্কিন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে থাকে তাহলেও এটা তাদের বিমান বাহিনীর বড় ধরণের দুর্বলতা হিসেবেই গণ্য হবে।

 

 

 

 

 

ইয়েমেনে হামলা করতে গিয়ে মার্কিন এফ-১৮ বিধ্বস্ত ; শ্রেষ্ঠত্বের দাবি প্রশ্নবিদ্ধ