01 Mar 2025, 04:02 am

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : পরিবারের অমতে ইজিবাইক চালকের সঙ্গে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেছিল সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসী। বিয়ের পাঁচ মাসের মধ্যে দুই লাখ টাকা যৌতুক চেয়ে তাকে বাবার বাড়িতে রেখে যায় স্বামী। এর মধ্যে আবারো পালিয়ে স্বামীর কাছে চলে যায় জান্নাতুল ফেরদৌসী।

তবে কোনো কিছুই স্বামী রাকিব হোসেনকে ফেরাতে পারেনি যৌতুকের চাহিদা থেকে। অবশেষে যৌতুক না পেয়ে ভাড়া বাসার ছাদ থেকে স্ত্রীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় রাকিব।

বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বরিশাল নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের রূপাতলী হাউজিংয়ের ২২ নম্বর সড়কের সারা-জারা ভবনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে পলাতক স্বামী রাকিব।

আহত গৃহবধূর মা নুপুর বেগম বলেন, আমার মেয়ে এ ওয়াহেদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। সাত মাস আগে রুপাতলী ভাসানী সড়কের বাসিন্দা অটোচালক রাকিব হোসেনের সঙ্গে পালিয়ে বিয়ে করে। মেয়ে নিখোঁজের পর থানায় জিডিও করেছিলাম। পরে ছেলের পরিবার এগিয়ে এসে বিষয়টি জানিয়ে মীমাংসা করেন। দুই মাস আগে মেয়েকে বাসায় দিয়ে যায় জামাই রাকিব। তখন দুই লাখ টাকার ফার্নিচার দিয়ে মেয়েকে পাঠিয়ে দিতে বলেন। এরপর মেয়ে আবারো জামাইয়ের সঙ্গে চলে যায়।

তিনি আরও জানান, গতকাল রাত ১০টার দিকে এক লোক তাকে হাসপাতালে আসতে বলেন। তারা আসার পর মেয়ে শুধু এটুকুই বলেছে, তার স্বামী ছাদ থেকে ফেলে দিয়েছে। আর কিছু তিনি জানেন না।

প্রত্যক্ষদর্শী রিকশাচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, অনেক ভিড় দেখে গিয়ে দেখি পা ভেঙে এক নারী রাস্তায় পড়ে আছে। সে তখন গোঙাচ্ছিল। উপস্থিত কয়েকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই।

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বলেন,  সাগর নামের এক ব্যক্তি তাকে (জান্নাতুল ফেরদৌসী) হাসপাতালে ভর্তি করেন। তখনো আহতের পুরো পরিচয় পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তার পরিচয় পাওয়া যায়।

মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) আমানুল্লাহ আল বারী বলেন, লিখিত অভিযোগ দিতে ওই কিশোরীর বাবা থানায় এসেছেন। আমরা তার কাছ থেকে পুরো ঘটনা জানার চেষ্টা করছি।

তিনি আরও বলেন, গৃহবধূর দুটি পা ভেঙে গেছে বলে হাসপাতাল থেকে জানানো হয়েছে। মাথায়ও প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছে। তার জ্ঞান ফিরলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে আমরাও তদন্ত করছি।

 

বরিশালে যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে ছাদ থেকে ফেলে দিল পাষন্ড স্বামী

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়া ৪ কেজি ১৮০ গ্রাম ওজনের দুটি ইলিশ মাছ ১৬ হাজার ৩৮৪ টাকায় বিক্রি হয়েছে। শুক্রবার (৩১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে দৌলতদিয়া ৫ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় জেলে সদেশ হালদারের জালে ইলিশ দুটি ধরা পড়ে।

স্থানীয়রা জানান, ভোরে জেলে সদেশ হালদার তার সঙ্গীদের নিয়ে পদ্মায় মাছ ধরতে বের হলে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে জাল তুলতেই দেখেন বড় দুটি ইলিশ জালে আটকা পড়েছে। পরে সকালে মাছ দুটি দৌলতদিয়ার মৎস্য আড়তে নিয়ে আসলে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের শাকিল সোহান মৎস্য আড়তের মাছ ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান শেখ প্রতি কেজি ৩ হাজার ৮০০ টাকা দরে মোট ১৫ হাজার ৮৮৪ টাকায় কিনে নেন।

শাকিল-সোহান মৎস্য আড়তের মালিক মাছ ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান শেখ বলেন, শুক্রবার সকালে ইলিশ দুটি ১৫ হাজার ৮৮৪ টাকায় ক্রয় করে বেলা ১১টার দিকে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে রাজধানী ঢাকায় এক ক্রেতার কাছে ৫০০ টাকা লাভে মোট ১৬ হাজার ৩৮৪ টাকায় বিক্রি করেছি।

পদ্মার দুই ইলিশ মাছ ১৬ হাজার টাকায় বিক্রি 

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : সাভারে চাকরি দেওয়ার নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের সময় বেসরকারি টেলিভিশন ‘এখন টিভি’র সাভার প্রতিনিধি  মো. হুমায়ুন কবির ও তার ক্যামেরাম্যানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে ভাঙচুর করা হয়।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাভার মডেল থানায় অভিযোগ দয়ের করেন ভুক্তভোগী ক্যামেরাম্যান নয়ন ইসলাম (২২)। এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের বিপরীতে সাভার ডেইরি ফার্মের ভেতর এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী নয়ন জয়পুরহাট সদরের নতুনহাট গ্রামের মৃত ফয়েজ ইসলামের ছেলে। তিনি সাভারের কলমা এলাকায় ভাড়া থেকে এখন টিভির সাভার প্রতিনিধি হুমায়ুন কবিরের ক্যামেরাম্যান হিসেবে কাজ করেন। হুমায়ুন কবির সাভারের কলমা এলাকার বাসিন্দা। তিনি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এখন টিভি ও দৈনিক কালবেলা পত্রিকার সাভার প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অভিযুক্তরা হলেন- সাভার ডেইরি ফার্মের ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি মো. আসাদুর রহমান (৪৮) ও সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদ মুন্সি (৪২)। এছাড়া অজ্ঞাত আরও ৪০/৫০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ডেইরি ফার্মে চাকরি দেওয়ার কথা বলে বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেন আসাদুর রহমান ও মাসুদ মুন্সি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তথ্য সংগ্রহ করতে সাভার ডেইরি ফার্মে গেলে আসাদুর রহমান ও মাসুদ মুন্সি তাদের লোকজনসহ সাংবাদিক মো. হুমায়ুন কবির ও নয়নকে ঘিরে ফেলে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। পরে তাদের বিরুদ্ধে সংবাদ সংগ্রহ করতে এসেছে এমন চিৎকার করে হামলা করে অভিযুক্তরা। এ সময় ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে ভাঙচুরের পর ক্যামেরাম্যান নয়নকে বেধড়ক মারধর করে। পরে ডেইরি ফার্মের প্রধান ফটক আটকে তাদের প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে অভিযুক্তরা। এ সময় তারা খুন করে লাশ গুম করার হুমকি দেন। পরে খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থল থেকে তাদের উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

প্রত্যক্ষদর্শী সংবাদকর্মী গণকণ্ঠ পত্রিকার সাভার উপজেলা প্রতিনিধি সিফাত মাহমুদ ফাহিম ঢাকা পোস্টকে বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে আমরা ডেইরি ফার্মে যাই। প্রথমে আমাদের সঙ্গে সাভার ডেইরি ফার্মের ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতিআসাদুর রহমানের দেখা হয়। তার সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি হঠাৎ উত্তেজিত হন। এরপরই সাধারণ সম্পাদক মাসুদ মুন্সি সেখানে আসেন। তিনি আসার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের একটি সাইরেন বেজে উঠে। এসময় ডেইরি ফার্মের সকল কর্মচারী একত্রিত হলে ক্যামেরাম্যান নয়ন ভিডিও নিতে থাকেন। ভিডিও ফুটেজ নেওয়া দেখে তারা সদলবলে আক্রমণ চালিয়ে ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে ভাঙচুর করেন এবং নয়নকে মারধর করেন

এখন টিভির সাভার প্রতিনিধি হুমায়ুন কবির বলেন, ওরা আমার ক্যামেরাম্যানের হাত থেকে ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে ভাঙচুর করে। পরে নয়নকে বেধড়ক মারধর করে আমাদের অবরুদ্ধ করে রাখে। এ ব্যাপারে দুইজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ৪০/৫০ জনের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

সাভার মডেল থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সুদীপ কুমার গোপ বলেন, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে অভিযোগের কপি হাতে পেয়েছি। এ বিষয়ে তদন্ত করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তথ্য সংগ্রহের সময় সাভারে সাংবাদিকের ওপর হামলা 

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : অস্ট্রিয়ার জাতীয় সংসদের নিম্নকক্ষে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ভাষণ দেয়ার প্রতিবাদে অস্ট্রিয়ার রুশপন্থী ফ্রিডম পার্টির ২০ জনের বেশি আইনপ্রণেতা ওয়াক আউট  করেছেন।

ফ্রিডম পার্টির এসব রাজনীতিবিদ অভিযোগ করেছেন, এ ভাষণের সুযোগ দেয়ার মাধ্যমে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতে অস্ট্রিয়ার নিরপেক্ষ অবস্থান ক্ষুন্ন হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার জেলেনস্কি ইউক্রেন থেকে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে অস্ট্রিয়ার জাতীয় সংসদের নিম্নকক্ষে ভাষণ দেন। ভাষণে তিনি মানবিক সাহায্য পাঠানো ও স্থলমাইন পরিষ্কার করার ব্যাপারে সাহায্য করার জন্য অস্ট্রিয়াকে ধন্যবাদ জানান।

তবে জেলেনস্কি ভাষণ দেয়ার আগে প্রতিবাদী কয়েকজন সংসদ সদস্য সতর্ক করেন যে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট যদি জাতীয় সংসদের নিম্নকক্ষে ভাষণ দেন তাহলে তারা যেভাবেই হোক বিক্ষোভ করবেন।

অস্ট্রিয়া প্রথম থেকে বলে আসছে তারা রাশিয়া-ইউক্রেন চলমান সংঘাতে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখতে চায়। এজন্য দেশটি এই পর্যন্ত ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেয়া থেকে বিরত থেকেছে এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য ইউক্রেনকে কোনো অস্ত্র দেয়নি।

গতকালের প্রতিবাদ সম্পর্কে ফ্রিডম পার্টির নেতা হারবার্ট কিক্‌ল বলেন, চলমান সংঘাতে অস্ট্রিয়া শুরু থেকেই নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে এসেছে কিন্তু আজকে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির ভাষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সময় শুধুমাত্র ফ্রিডম পার্টির এমপিদের পাওয়া গেল, এখানে অন্য কেউ নেই।

জেলেনস্কির ভাষণের প্রতিবাদে পার্লামেন্ট অধিবেশন থেকে ওয়াক আউট করলেন অস্ট্রিয়ার এমপিরা

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : হেগের আন্তর্জাতিক বিচার আদালত বলেছে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিভিন্ন কোম্পানির প্রায় ২০০ কোটি ডলার মূল্যের সম্পদ আটক করে আমেরিকা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে। একই সাথে আদালত ইরানকে ক্ষতিপূরণ দিতে ওয়াশিংটনের প্রতি নির্দেশ দিয়েছে। আরো পরে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।

গতকাল (বৃহস্পতিবার) আন্তর্জাতিক বিচার আদালত সুস্পষ্ট করে বলেছে, ওয়াশিংটন ইরানের বিভিন্ন ব্যক্তি ও কোম্পানির ১৭৫ কোটি ডলার সমমূল্যের সম্পদ আটক করেছে যার কোনো যুক্তি নেই। আদালত অবশ্য বলেছে যে, ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে যে সম্পদ বাজেয়াপ্ত করেছে আমেরিকা, সে ব্যাপারে রুল দেয়ার কোনো এখতিয়ার নেই তাদের।

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের এই রায়ের পর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, এর মধ্যদিয়ে প্রমাণ হয়েছে যে, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের অবস্থান সঠিক এবং আমেরিকা বেআইনি আচরণ করে আসছে। বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরো বলেছে, জনগণের অধিকার আদায় করা তাদের স্বাভাবিক দায়িত্ব। এজন্য তারা সব ধরনের কূটনৈতিক, আইনগত ও বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে প্রস্তুত।

১৯৫৫ সালে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছিল কিন্তু ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লব সফল হওয়ার পর আমেরিকা সেই চুক্তি লঙ্ঘন করে এবং আদালতকে ব্যবহার করে মার্কিন সরকার ইরানের সম্পদ আটক করে। এর বিরুদ্ধে ২০১৬ সালে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মামলা করেছিল।

মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ২০১৬ সালে রায় দিয়েছিল যে, ১৯৮৩ সালে লেবাননে মার্কিন মেরিন কোরের ঘাঁটিতে ভয়াবহ বোমা হামলায় কয়েকশ সেনা নিহত হওয়ার ঘটনায় তাদের পরিবার পরিজনকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং এক্ষেত্রে ইরানের আটক করা সম্পদ ব্যবহার করা যাবে।

 

 

ইরানের সম্পদ আটক করে আমেরিকা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে : আন্তর্জাতিক বিচার আদালত

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন জানিয়েছে, গত সপ্তাহে সিরিয়ায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটির ওপর ড্রোন হামলায় বেশ কয়েকজন সেনা ট্রমাটিক ব্রেইন ইনজুরির শিকার হয়েছে। গত ২৪ মার্চ সিরিয়ার প্রতিরোধকামী যোদ্ধারা মার্কিন বাহিনীর দখলদারিত্ব অবসানের লক্ষ্যে দেশের পূর্বাঞ্চলীয় হাসাকা প্রদেশের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালায়।

পেন্টাগনের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল প্যাট রাইডার গতকাল (বৃহস্পতিবার) জানান, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে চারজন মার্কিন সেনা ট্রমাটিক ব্রেইন ইনজুরিতে ভুগছেন। এছাড়া, হামলার সময় মিশন সাপোর্ট সাইট গ্রিন ভিলেজে আরও দুই সেনা আহত হয়েছিল। গতকাল প্যাট রাইডার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান।

রাইডারের দেয়া তথ্য অনুসারে, সিরিয়ায় গত সপ্তাহের হামলায় মোট ১২ জন সেনা আহত হওয়ার কথা নিশ্চিত হলো। হাসাকা সামরিক ঘাঁটিতে হামলার ঘটনায় একজন মিলিটারি ঠিকাদার নিহত হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর নীতি অনুসারে কোনো প্রতিরোধগামী সংগঠনের যোদ্ধাদের হামলায় মার্কিন সেনা হতাহত হলে তা সাধারণত স্বীকার করা হয় না বরং তাদেরকে ব্রেইন ইনজুরির শিকার করে চালিয়ে দেয়া হয়।

 

 

ড্রোন হামলায় সিরিয়ায় বেশ কিছু মার্কিন সেনা ‘ট্রমাটিক ব্রেইন ইনজুরির’ শিকার : পেন্টাগন

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : ইরানের হামেদান প্রদেশের রয়েছে ১১০০’রও বেশি গ্রাম। এর মধ্যে ‘ওয়ারকানে’ গ্রামটি অত্যন্ত দর্শনীয় ও পর্যটকদের স্বর্গ হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো গ্রামটি রয়েছে ফার্সি, কূর্দি ও আযেরী ভাষাভাষী মানুষ। তাদের প্রধান পেশা কৃষিকাজ ও পশুপালন।

হামেদানের ১৮ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত ‘ওয়ারকানে’ গ্রামটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২ হাজার ২৫০ মিটার উঁচু। আকাশে হেলান দেয়া পাহাড়ের কোলে অবস্থিত এই গ্রাম প্রাকৃতিক বিস্ময়ের সমারোহে যেন স্বর্গীয় এক নিকুঞ্জ।

‘ওয়ারকানে’ কূর্দী শব্দ। ওয়ার অর্থ পাশ বা কিনার, আর কানে অর্থ ঝর্ণা। তাই ‘ওয়ারকানে’ শব্দের অর্থ হলে পানি বা ঝর্ণার কিনার।

‘ওয়ারকানে’র অপরূপ প্রাকৃতিক শোভা বৃদ্ধি করেছে আশপাশের ‘খান’, ‘তাখতে সাঙ্গ’, ‘যেন্’ ও ‘সে বোলাগ্ব’ নামের পাহাড়ী উপত্যকাগুলো। পর্বতসংকুল এ গ্রামে রয়েছে কয়েকটি মৌসুমী ঝর্ণা বা ছোট নদী। ‘ওয়ারকানে’র পশ্চিম পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ‘আরযান ফার্দ’ নামের একটি নদী। ভূ-গর্ভস্থ কয়েকটি খালকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠছে ‘ওয়ারকানে’ গ্রাম।

‘ওয়ারকানে’ গ্রামের প্রতিটি সড়ক এবং অলি-গলি পাথরের নির্মিত হওয়ায় আপনি পাথরের সুদৃশ্য গালিচার মধ্যে রয়েছেন বলে অনুভব করবেন। রঙিন পাথরের এইসব পথ যেন গোটা গ্রামকে অপরূপ ও সুশৃঙ্খল বিন্যাসে বিন্যস্ত করেছে। এই পথগুলোর পাথরের রঙ্গের সাথে মিল রেখে সড়কের পাশে ফুটপাথে রংবেরংয়ের আলোক-সজ্জার ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে রাতের বেলায় মনে হবে আলোর বর্ণাঢ্য মিছিলে সমুজ্জ্বল হয়ে আছে পুরো গ্রাম।

 

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২ হাজার ২৫০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত ইরানের গ্রাম ‘ওয়ারকানে’

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার একজন পর্ণ তারকাকে গোপনে অর্থ প্রদানের অভিযোগে অভিযুক্ত করার সিদ্ধান্তের নিন্দা করেছেন। এই জন্য তিনি প্রসিকিউটর এবং তার রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
তিনি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং নির্বাচনী ট্রাম্প আরো বলেন, ‘এমনকি আমি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার আগেই উগ্র বাম ডেমোক্র্যাটরা এই দেশের কঠোর পরিশ্রমী পুরুষ ও মহিলাদের শত্রু এবং তারা একটি ‘উইচ-হান্টে’ লিপ্ত হয়েছে।’
অভিযোগের খবর প্রকাশের কয়েক মিনিটের মধ্যে প্রকাশিত একটি পাঁচ অনুচ্ছেদের বিবৃতিতে  ট্রাম্প বলেন, আমি ২০২৪ সালের নির্বাচনে হোয়াইট হাউসে ফিরে প্রতিশোধ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম।
তিনি বলেন, ‘ডেমোক্র্যাটরা ‘ট্রাম্পকে পাওয়ার’ চেষ্টা করার আবেশে মিথ্যা বলেছে, প্রতারণা করেছে এবং চুরি করেছে, কিন্তু এখন তারা অকল্পনীয় কাজ করেছে । সম্পূর্ণ নির্দোষ ব্যক্তিকে নির্বাচনী হস্তক্ষেপের একটি কাজে অভিযুক্ত করেছে।’
‘একজন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে শাস্তি দেওয়ার জন্য আমাদের বিচার ব্যবস্থাকে অস্ত্রোপচার করা, যিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একজন প্রেসিডেন্ট হতে পারেন এবং এখন পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট পদে শীর্ষস্থানীয় রিপাবলিকান প্রার্থীর বিরুদ্ধে আগে কখনো এই ধরনের ঘটনা ঘটেনি।
‘আমি বিশ্বাস করি যে এই ‘উইচ-হান্ট’ জো বাইডেনের উপর ব্যাপকভাবে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করবে,’ তিনি বেেলন।
ট্রাম্প গত সপ্তাহান্তে তার প্রথম ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচার সমাবেশ করেছিলেন এবং বলেছিলেন ‘আমরা জো বাইডেনকে পরাজিত করব, এবং আমরা এই কুটিল ডেমোক্র্যাটদের প্রত্যেককে অফিস থেকে বের করে দেব।’
তার দ্বিতীয় পুত্র এরিকের ফোসকা স্যালভো যোগদান
‘এটি তৃতীয় বিশ্বের প্রসিকিউটরিয়াল অসদাচরণ’, এরিক টুইট করেছেন। ’এটি একটি প্রচারাভিযানের বছরে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার সুপরিকল্পিত ষডযন্ত্র।’

 

ট্রাম্প তার বিরুদ্ধে অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ ও ‘নির্বাচনে হস্তক্ষেপ’ বলে নিন্দা জানালেন

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : বিশ্বের সামনে এখন যেসব হুমকি রয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন সেগুলোর একটি। বিশ্বে ইতোমধ্যেই এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এটি মোকাবিলায় বিশ্বজুড়ে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হলেও এখনও খুব বেশি ফল মেলেনি।

এই পরিস্থিতিতে জলবায়ু সংকটের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের কাছ থেকে শিক্ষা নিতে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রভাবশালী গণমাধ্যম ব্লুমবার্গ। শুক্রবার (৩১ মার্চ) গণমাধ্যমটির মতামত বিভাগে প্রকাশিত একটি লেখায় এই দাবি করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ব্রিটেনে অনেকেই এখন রেকর্ড-উচ্চ তাপমাত্রায় বা বন্যার পানির কারণে কষ্ট পাচ্ছেন, তবে এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ ব্রিটেন জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার জন্য ‘আশ্চর্যজনকভাবে অপ্রস্তুত’। ব্রিটিশ সরকারের জলবায়ু পরিবর্তন কমিটির গত বুধবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের উপসংহারে এই কথাই বলা হয়েছে। ওই কমিটি জলবায়ু নীতি সম্পর্কিত যুক্তরাজ্যের স্বাধীন উপদেষ্টা সংস্থা।

এটি বেশ আশ্চর্যজনক মনে হতে পারে যে, যুক্তরাজ্যের মতো একটি ধনী দেশ এই ধরনের চ্যালেঞ্জের জন্য এতটা প্রস্তুত নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘন ঘন দুর্যোগসহ আবহাওয়া এখন আরও চরমভাবাপন্ন হয়ে উঠেছে। মূলত উন্নয়নশীল দেশগুলোর দুর্বল জনগোষ্ঠীই জলবায়ু পরিবর্তনের এই ক্ষতিকর প্রভাবের সম্মুখীন হয়েছে। তবে এর বিপরীতে সাধারণত অভিযোজন বা মানিয়ে নেওয়ার বিষয়েও কথা শোনা যায়। যা মূলত জলবায়ু সংকটের বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রভাব মোকাবিলা করার প্রক্রিয়া ও কাঠামোর পরিবর্তন বুঝিয়ে থাকে।

কিন্তু জার্মানির ইউনিভার্সিটি অব বনের উন্নয়নমূলক ভূগোলের অধ্যাপক লিসা শিপার এই ধরনের প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন। তিনি বলছেন, ‘বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এমন একটি ছবি আঁকা হয়েছে, যেখানে কার্যত দেখানো হয়েছে- দরিদ্র দেশগুলোতেই কেবল জলবায়ু বিপর্যয় ঘটে থাকে’। আর এটি মানুষকে আত্মতুষ্টির দিকে পরিচালিত করেছে যা থেকে আমরা সম্ভবত জেগে উঠছি।

তবে বেশিরভাগ সময়ই সংকটের মধ্যে থাকা দরিদ্র দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরেই এই ধরনের অভিযোজন প্রক্রিয়ায় আরও স্পষ্টভাবে নজর দিয়েছে। ২০২১ সালে জার্মানির বিপর্যয়কর বন্যায় ১৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেই বন্যার প্রতিক্রিয়ায় ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ’র ডিরেক্টর সালেমুল হক পত্রিকার নিবন্ধে লিখেছিলেন, কীভাবে ধনী দেশগুলো তার নিজের দেশ (বাংলাদেশ) থেকে শিখতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় এবং বন্যা নিয়মিতভাবে আঘাত হানায় সেই ধরনের পরিস্থিতিতে মানুষের প্রাণহানি কমিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশ প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করেছে। এবং মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে আনা ও আশ্রয় দেওয়ার সক্ষমতাসহ প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ‘সর্বোত্তম দুর্যোগ সতর্কীকরণ ব্যবস্থা’ নিশ্চিতের বিষয়টি বাংলাদেশ এখন গর্বের সঙ্গে বলে থাকে।

এর অর্থ এই নয় যে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর টেকসই উন্নয়নের জন্য আরও সাহায্যের প্রয়োজন নেই, বা উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্য এই বিষয়ে ব্যাপকভাবে অপ্রস্তুত। সাম্প্রতিক ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ রিপোর্টের সারাংশ অনুযায়ী, নীতির ফাঁক-ফোকর সব জায়গায় জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা তৈরিতে বাধা দিচ্ছে।

যদিও অভিযোজন ব্যবস্থায় বিনিয়োগ বাড়ছে, তারপরও প্রয়োজনীয় অর্থের চেয়ে সেটি এখনও বেশ কম এবং হাতে থাকা বিশাল কাজের জন্য অপর্যাপ্তও। আমরা যেসব সমস্যা মোকাবিলা করার চেষ্টা করছি সেখানেও অর্থ আটকে থাকছে। এছাড়া ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়লে ভবিষ্যতের সুরক্ষা নিশ্চিতের চেয়ে ক্ষতি মেরামতের কাজেই আরও বেশি অর্থ ব্যয় হয়ে যায়।

চরম তাপমাত্রার কারণে একে অপরের ব্যাক আপ হিসাবে কাজ করার জন্য ডিজাইন করা দু’টি ডেটা সেন্টার এসময় অকার্যকর হয়ে যায়। এতে লন্ডনের বেশ কয়েকটি হাসপাতাল এবং কমিউনিটি পরিষেবা কেন্দ্রের বেশিরভাগ ক্লিনিকাল আইটি সিস্টেম বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, যার ফলে রোগীর সেবা-যত্নে ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটে। এমনকি অন্য দেশের পরিবর্তিত অবস্থার কারণেও ক্ষতির মুখে পড়েছে ইংল্যান্ড: যেমন, স্পেনের অসময়ের ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে যুক্তরাজ্যে সালাদ ঘাটতি দেখা দিয়েছিল।

উদ্বেগজনকভাবে, বর্তমানে যা দেখা যাচ্ছে তা কেবল শুরু। সিসিসি-এর অভিযোজন কমিটির প্রধান জুলিয়া কিং এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘তাপমাত্রার এই বৃদ্ধি আরও ক্রমবর্ধমান প্রভাব সৃষ্টি করবে এবং যতক্ষণ না আমরা নেট জিরো-তে না পৌঁছাই ততক্ষণ পর্যন্ত তাপমাত্রার এই বৃদ্ধি বন্ধ হবে না।’

আমরা মোটামুটি আরও তিন দশক ধরে ক্রমবর্ধমান জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা করছি। আর তাই গ্রীষ্মে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়ায় ছাড়িয়ে যাওয়া মোটামুটি স্বাভাবিক হতে বেশি সময় লাগবে না।

অবশ্য পরিচিত এই ঝুঁকির জন্য প্রস্তুতি এবং সংকট মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য ‘একটি দশক’ হারিয়ে ফেলেছে বলে মনে করেন কিং। যুক্তরাজ্যে সরকারি ব্যয় বহু বছর ধরে অনেক কম, যার মানে হলো- অবকাঠামো এবং পরিষেবাগুলো পুরোনো ও দুর্বল। তবে জ্বালানিখাতে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের ব্যবহারকে ত্বরান্বিত করার জন্য বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা একটি সরকারি পরিকল্পনায় সামান্য কিছু নতুন ব্যয় রয়েছে।

বৈশ্বিক ভাবে এবং অভ্যন্তরীণভাবে যেকোনও দুর্যোগে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইউনিভার্সিটি অব বনের অধ্যাপক লিসা শিপার জোর দিয়ে বলছেন, সকল অভিযোজন পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে হবে সমতা। আর সেটি না হলে ছোট অংশের লোকদের সাহায্য করতে গিয়ে সম্ভবত অন্যদের জন্য পরিস্থিতি আরও খারাপ করে তোলার মতোই কাজ হবে।

সিসিসি-এর চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার ক্রিস স্টার্কের মতে, যুক্তরাজ্যের লোকেরা ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন, বিশেষ করে যাদের অনেকেই প্লাবনভূমিতে বা অত্যধিক গরম হয়ে যাওয়া বাড়িতে বাস করেন এবং তারা এখন এই বিষয়ে পদক্ষেপ চাইছেন। আর তাই অর্থনীতিকে আরও জলবায়ু সহনশীল করার দায়িত্ব পরিবেশ, খাদ্য ও গ্রামীণ বিষয়ক বিভাগের।

যেমন শহুরে নকশায় গাছকে অন্তর্ভুক্ত করা হলে তা বন্যার ঝুঁকি কমাতে পারে, শহরকে শীতল রাখতে সাহায্য করতে পারে, সুস্থতা ও স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে এবং বায়ু দূষণও কমাতে পারে।

ব্রিটিশ সরকার ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে তার তৃতীয় জাতীয় অভিযোজন প্রোগ্রাম প্রকাশ করবে। আশা করা যায়, ওই প্রোগামে সিসিসি-এর সুপারিশগুলো গ্রহণ করা হবে এবং সেইসব দরিদ্র দেশগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে সরকার শিখবে যারা এই বিষয়ে আদর্শ দেশে পরিণত হয়েছে।

 

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা ; বাংলাদেশের কাছ থেকে শিখতে পারে যুক্তরাজ্য : ব্লুমবার্গ

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে জোট নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে আসছে। তবে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটি এখন যুক্তরাষ্ট্র এবং এই অঞ্চলে মার্কিন অংশীদারদের অনুসৃত ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল সম্পূর্ণভাবে গ্রহণ করার কাছাকাছি চলে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।

আর এই ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের লক্ষ্য মূলত চীনকে ঠেকানো বা মোকাবিলা করা। বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এসব বিষয় সামনে এনেছে আন্তর্জাতিক সাময়িকী ফরেন পলিসি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসে বাংলাদেশ তার নিজস্ব ইন্দো-প্যাসিফিক আউটলুকের একটি খসড়া চূড়ান্ত করেছে। এই খসড়াতে এমন উদ্দেশ্যগুলোর ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা হয়েছে যা যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের প্রতিফলন করে। যেমন (ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে) একটি মুক্ত, নিরাপদ এবং শান্তিপূর্ণ অঞ্চলের প্রয়োজন বলে চূড়ান্ত খসড়ায় উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ।

ফরেন পলিসি বলছে, ঢাকা এই পদক্ষেপটি এমন এক সময়ে নিয়েছে যখন যুক্তরাষ্ট্র এবং কয়েকটি মার্কিন প্রধান প্রধান মিত্র ইঙ্গিত দিয়েছে, বাংলাদেশেরও ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের অংশ হওয়া উচিত। গত সপ্তাহে জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা নয়াদিল্লিতে একটি বক্তৃতা দেন।

তার বক্তৃতাকে এই অঞ্চলের জন্য একটি ‘নতুন পরিকল্পনা’ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং সেখানে তিনি নতুন অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তিসহ বাংলাদেশের সাথে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া চলতি মাসেই যুক্তরাজ্যের ইন্দো-প্যাসিফিক মন্ত্রী অ্যান-মেরি ট্রেভেলিয়ান বাংলাদেশ সফর করেন।

ফরেন পলিসি বলছে, এই দেশগুলো কেন বাংলাদেশকে ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলে অংশ হতে বলছে তা বোঝা বেশ সহজ। বাংলাদেশ ভূ-রাজনৈতিক কৌশলগত অবস্থানে অবস্থিত, ভারতের সীমান্তবর্তী হওয়া ছাড়াও এই দেশটি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া; উভয়ের প্রবেশদ্বার হিসেবেই কাজ করে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ঢাকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে, চতুপক্ষীয় নিরাপত্তা সংলাপের অন্যান্য সদস্য (যেটি কোয়াড নামে পরিচিত) এবং অনেক ইউরোপীয় দেশের সঙ্গেও বাংলাদেশের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ। এই দুই বাস্তবতার কারণে বাংলাদেশ সবার কাছেই ভালো অংশীদার।

অন্যদিকে চীন অবকাঠামোগত ঋণের মাধ্যমে বাংলাদেশে তার নিজস্ব প্রভাব বাড়িয়েছে। যদিও চীনের এই ঋণকে মার্কিন কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে ঢাকার জন্য খারাপ চুক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া চীনের প্রতিদ্বন্দ্বীরা ভারত মহাসাগর অঞ্চলের পশ্চিমাঞ্চলে জিবুতিতে অবস্থিত সামরিক ঘাঁটিসহ বেইজিংয়ের বর্ধিত নৌ উপস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন।

আরও একটি কৌতূহলী প্রশ্ন হলো- বাংলাদেশ কেন ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল এবং চীনকে মোকাবিলার বিষয়ে পশ্চিমাদের লক্ষ্যের সাথে যুক্ত হতে চাইবে। বাংলাদেশের কর্মকর্তারা কখনোই পররাষ্ট্র নীতিতে নিরপেক্ষতার নীতি থেকে বিচ্যুত হননি। বাংলাদেশের লক্ষ্য প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখা। ভারতের পররাষ্ট্রনীতিও জোট নিরপেক্ষ, তবে তারা চীনকে কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বী বলে মনে করে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলে অংশগ্রহণ বাংলাদেশকে ওয়াশিংটনের প্রধান বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদার হওয়ার কাছাকাছি নিয়ে যাবে। বাংলাদেশ ও ভারতের বর্তমান সরকার বেশ ঘনিষ্ঠ এবং নয়াদিল্লি সম্ভবত ঢাকাকে এই কৌশলটি গ্রহণ করতে উৎসাহিত করেছে।

দুই বছর আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা গওহর রিজভী স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, ‘আমরা ইন্দো-প্যাসিফিক সম্পর্কের অংশ হতে খুব ইচ্ছুক’ এবং ভারত ‘আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।’

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, নিজস্ব ইন্দো-প্যাসিফিক খসড়াকে ‘নীতি’ বা ‘কৌশল’ না বলে এটিকে একটি আউটলুক বা ‘দৃষ্টিভঙ্গি’ বলার একটি নরম অর্থ রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ এমন ইঙ্গিত এখনও দেয়নি যে, দেশটি চারদেশীয় জোট কোয়াডে যোগ দেবে।

ফরেন পলিসি বলছে, তবে এরপরও চীন উদ্বিগ্ন বলে মনে হচ্ছে। গত সপ্তাহে, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে ঢাকাকে মার্কিন শিবিরে টেনে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ তোলেন। আর তাই চীনের সাথে সম্পর্ক গভীর করার জন্য বাংলাদেশ অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল থেকে সরে আসতে পারে।

এছাড়া ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে নির্ধারিত বাংলাদেশের পরবর্তী নির্বাচন যদি অবাধ এবং সুষ্ঠু হয়নি বলে বিবেচিত হয়, তাহলে পশ্চিমা দেশগুলোও এই সম্পর্ক পিছিয়ে দিতে পারে।

আন্তর্জাতিক এই সাময়িকীটি বলছে, কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশ সরকার জামাআতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বিয়া নামে একটি নতুন সন্ত্রাসী সংগঠনের উত্থানের বিষয়ে সতর্ক করেছে। এই মাসে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) একজন মুখপাত্র বলেছেন, এই দলটি বাংলাদেশে হামলার প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। গত বছরের অক্টোবরে এই জঙ্গি সংগঠনের কথিত সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

এছাড়া র‌্যাবের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। কারণ এই বাহিনী নতুন গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী প্রচেষ্টার নেতৃত্ব দিচ্ছে। ২০২১ সালের শেষের দিকে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র‌্যাবের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

বাংলাদেশে সন্ত্রাস দমনের প্রচেষ্টার সফলতা দেখতে যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় আগ্রহ রয়েছে, তবে একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র শক্তিশালী এই বার্তাও পাঠাতে চায় যে, বাংলাদেশে মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের বিষয়ে ওয়াশিংটন বেশ উদ্বিগ্ন।

 

যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশ : ফরেন পলিসির প্রতিবেদন

স্টাফ রিপোর্টার : এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ৩৪ জন ছাত্র-ছাত্রী জিপিএ -৫ পাওয়ার মধ্য দিয়ে ঝিনাইদহের  মহেশপুরের শীর্ষে স্থান দখল করে নিয়েছেন যাদবপুর কলেজ।

২০২২ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় যাদবপুর কলেজ থেকে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষায় ১২৯ জন ছাত্র-ছাত্রী অংশগ্রহন করে। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে শতভাগ জিপিএ-৫ সহ ১২৮ ছাত্র-ছাত্রী পাস করেছে।

যাদবপুর কলেজের অধ্যক্ষ মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, কলেজের সকল শিক্ষক-শিখিক্ষা আর অভিভাবকদের প্রচেষ্টার কারনেই আজ যাদবপুর কলেজের এ সুনাম অর্জন করতে পেরেছে।

তিনি আরো জানান, অমি প্রতিটা অভিভাবকে কাছে কৃতজ্ঞ।

মহেশপুরের নামি দামি ১০টি কলেজকে টপকিয়ে যাদবপুর কলেজ আজ শীর্ষে উঠল।

 

 

 

 

এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ঝিনাইদহের মহেশপুরের শীর্ষে যাদবপুর কলেজ