April 17, 2026, 1:02 pm
শিরোনামঃ
আজ রাতে হজ ফ্লাইটের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী দারিদ্র্য দূর করে জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করতে চাই : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী দেশে হামের প্রকোপ কিছুটা কমেছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী শিক্ষক নিয়োগে মেধাবীদের নির্বাচন নিশ্চিত করা হবে : শিক্ষামন্ত্রী ঝিনাইদহের শৈলকুপায় বাকিতে চা না দেওয়াই দুই পক্ষের সংঘর্ষে ১২ জন আহত রাজশাহীতে চাঁদা না দেওয়ায় মুদি দোকানিকে হত্যা মুষ্টিমেয় স্বৈরশাসক যুদ্ধ দিয়ে পৃথিবীকে ধ্বংস করছে : পোপ হোয়াইট হাউসে শান্তি সংলাপে বসবে ইসরায়েল-লেবানন : ট্রাম্প হরমুজ থেকে মাইন অপসারণে লিটোরাল কমব্যাট শিপ ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করলে ট্রিগারে আবার আঙুল রাখবো : হিজবুল্লাহ
এইমাত্রপাওয়াঃ

ছাত্রী হেনস্তার অভিযোগে ইবির ছাত্রী হল উত্তাল

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) এক ছাত্রীকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। খালেদা জিয়া হলের সিট নিয়ে রেষারেষিতে বাংলা বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী পপি খাতুনকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হাসান হাফিজ কর্তৃক এই হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এই হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার সহপাঠীরা।

বিষয়টিকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের খালেদা জিয়া হলের আবাসিক ছাত্রীরা ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হাসান হাফিজের বিচারের দাবিতে আন্দোলন করছে।

আন্দোলন চলাকালীন শিক্ষার্থীরা ‘আমার বোনকে আঘাত কেন- জবাব চাই, জবাব চাই’, ‘ক্ষমতার অপব্যবহার: চলবে না, চলবে না’, ‘সনদপত্র বাতিল চাই’, ‘মেয়েদের নিরাপত্তা চাই’, ‘সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন এখনই চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দেয়।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী পপির সহপাঠীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, খালেদা জিয়া হলের ২০৪ নম্বর রুমে সিট পরিবর্তন নিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের সৈয়দা সায়মা রহমান নামে এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে বৃহস্পতিবার সকালে পপির বাকবিতণ্ডা হয়। মূলত সেখান থেকেই ঘটনার সূত্রপাত। এসময় সায়মা রহমান নামের মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসা কেন্দ্রের দায়িত্বরত চিকিৎসক প্রাথমিক পরীক্ষার পর তাকে সার্বিকভাবে সুস্থ ঘোষণা করেন।

তারা আরও বলেন, পরে সায়মা রহমানের সিনিয়র হাফিজ সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে পপির গায়ে হাত তুলেছে। আমাদের বন্ধুরা হাফিজকে আটকানোর পরেও সে পপির গায়ে হাত তোলে। আমরা এর বিচার চাই। বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলমান থাকবে। এখানে ছাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয় জড়িত।

সায়মার সহপাঠীরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সকালে সায়মা রহমানকে তার হলের সিনিয়ররা মানসিক নির্যাতন করে। ফলে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সায়মা এখনো অসুস্থ। তাকে আবারও রাতে চিকিৎসা কেন্দ্রে নেয়া হয়েছে চিকিৎসার জন্য।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী পপি খাতুন বলেন, আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এদিন জনসম্মুখে আমার গায়ে হাত তুলেছে। এই লজ্জাজনক ঘটনার বিচার চাই। জুনিয়রের বয়ফ্রেন্ড আমাকে মারধর করেছে। প্রশাসন সেই ছেলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করলে আন্দোলন থামবে না। আর এইসব ঘটনার মূলে থাকা জুনিয়রকে এই মূহুর্তে হল থেকে বহিষ্কার করার পাশাপাশি আমাদের সকল দাবি মানতে হবে। আমি নিরাপত্তা চাই। বিচার চাই।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মেহেদী হাসান হাফিজ বলেন, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। পপির সাথে আমার কোনো ঝামেলা হয়নি। বহিরাগত এক ছেলের সাথে আমার কথা কাটাকাটি হয়। তখন ওই ছেলের সঙ্গে পপি সেখানে উপস্থিত ছিল। আমি পপির গায়ে কোনও প্রকার হাত তুলিনি।

এ সম্পর্কে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী প্রত্যক্ষদর্শী শাহীন বলেন, ঘটনার সময় আমি হাফিজের সঙ্গে ছিলাম। শেখ পাড়ার জাসেম নামে এক ছেলের সঙ্গে হাফিজের কথা কাটাকাটি হয়। তখন সে হাফিজকে গালি দেয় এবং তাকে মারার হুমকি দেয়। এসময় পপি ওই ছেলের সঙ্গেই ছিল। কিন্তু হাফিজ পপির গায়ে হাত তোলেনি।

 

এ বিষয়ে সায়মা রহমানের সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তিনি হল প্রভোস্টের তত্ত্বাবধানে থাকায় তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে সহকারী প্রক্টর ড. শফিক বলেন, এই সব বিষয়ে আমারা এখনই কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। আমরা প্রক্টরকে বিষয়টি জানিয়েছি। শুক্রবার তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত নিবেন।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর হোসেনের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

খালেদা জিয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন আরা সাথী বলেন, আমার মেয়ের গায়ে হাত তোলা মানে আমার গায়ে হাত তোলা। এর যথাযথ বিচার করা হবে। মেয়েদের দাবির একাংশ ছিলো জুনিয়র মেয়েকে হল থেকে আজকেই বের করে দেওয়া। আমি তাকে নিয়ে যাচ্ছি। কালকে হল বডিকে নিয়ে প্রশাসনের সাথে এ বিষয়ে কথা বলা হবে। এছাড়াও মেয়েদের বাকী দাবিগুলোও পূরণ করতে প্রসাশনের সাথে কথা বলার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জয় বলেন, বিষয়টি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। এর সাথে ছাত্রলীগের কেউ জড়িত থাকলে আমরা আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

আজকের বাংলা তারিখ

April ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Mar    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  


Our Like Page