February 14, 2026, 4:04 pm
শিরোনামঃ
মাগুরায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে আনসার ও ভিডিপি বাহিনী দক্ষতা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন সংবিধান অনুযায়ী নতুন মন্ত্রিসভার শপথ পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি: মন্ত্রিপরিষদ সচিব গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে সবাই এখন মুক্ত : তারেক রহমান নির্বাচন পরবর্তী নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ; সড়কে ফিরেছে সব যানবাহন বিএনপিকে বিজয়ী মেনে নেওয়ার ঘোষণা দিলেন জামায়াতের আমির চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে নিখোঁজের ৭ দিন পর খালে ভেসে উঠলো যুবকের মরদেহ বগুড়ায় বোনকে বিয়ে দিতে রাজি না হওয়া ছাত্রদল নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা চাঁদপুরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করায় নিজ দলীয় কর্মীদের পুলিশে দিলেন বিএনপির নবনির্বাচিত এমপি নির্বাচন–পরবর্তী সহিংসতায় বাগেরহাটে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক নিহত নেপালে নির্বাচনের আগে রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনার দাবিতে বিশাল সমাবেশ
এইমাত্রপাওয়াঃ

মাগুরায় ড্রিম মাশরুম সেন্টারে দুদকের অভিযান

মাগুরা প্রতিনিধি : প্রশিক্ষণের নামে সরকারি অর্থ তছরুপ ও অনিয়মের অভিযোগে সংবাদ প্রকাশের পর আজ দুপুরে মাগুরায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযান চালিয়েছে। দুদকের একটি দল মাগুরা সদর এলাকায় অবস্থিত “ড্রিম মাশরুম সেন্টার” কার্যালয়ে গিয়ে কাগজপত্র যাচাই ও সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী অভিযানে বিল-ভাউচার, প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত নথি ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

বিশ্বব্যাংক ও সরকারের অর্থায়নে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কৃষি বিপণন অধিদপ্তর বাস্তবায়নাধীন পার্টনার–ডিএএম প্রকল্পের ‘অন দ্য জব’ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই মাগুরায় অভিযোগ উঠছিল। প্রকল্প নীতিমালা অনুযায়ী ১২ দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হওয়ার কথা। খাবার, উপকরণ, ভাতা ও লজিস্টিক সহায়তার জন্য সরকারি বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু প্রশিক্ষণার্থীরা অভিযোগ করেছেন, বাস্তবে এসব নিয়ম মানা হয়নি।

প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরকারি অর্থে পিকনিক আয়োজনের কথা থাকলেও জনপ্রতি ৩০০ টাকা করে তাদের কাছ থেকেই আদায় করা হয়। ২৫ জনের একটি ব্যাচ থেকে প্রায় ৯ হাজার টাকা তুলে ঝিনাইদহের একটি পর্যটন স্পটে ঘুরতে নেওয়া হয়। নীতিমালায় যেখানে প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই, সেখানে এই আদায়কে তারা সরাসরি অনিয়ম বলছেন।

আরও অভিযোগ রয়েছে, একাধিক ক্লাস হয়েছে নির্ধারিত প্রশিক্ষক ছাড়াই। “ড্রিম মাশরুম ভ্যালি”-এর মালিক বাবুল নিজেই অন্তত পাঁচটি ক্লাস নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে তিনি প্রকল্পের অনুমোদিত প্রশিক্ষক কি না, সে বিষয়ে কোনো বৈধ তালিকা বা নথি দেখাতে পারেননি।

স্থানীয়দের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের বদলে কেবল কাগুজে উপস্থিতি দেখিয়েই কার্যক্রম শেষ করা হয়েছে।

প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য বরাদ্দ ব্যাগ, এপ্রোন ও টি-শার্ট সরবরাহের কথা থাকলেও অনেকেই তা পাননি। যেসব সামগ্রী দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।খাবারের মান ছিল নিম্নমানের এবং প্রশিক্ষণ চলাকালে অনেক উদ্যোক্তাকে নিজ বাড়ি থেকে যাতায়াত করতে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, মাগুরা জেলায় মোট ৪০০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবে দেওয়া হচ্ছে ৩০০ জনকে। প্রতি বছর তিনটি উপজেলা থেকে ১০০ জন করে প্রশিক্ষণের কথা থাকলেও শালিখা উপজেলা ধারাবাহিকভাবে বাদ পড়েছে। ২০২৪ সাল থেকে প্রকল্প শুরু হলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ১০০ জন প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। স্থানীয়দের প্রশ্ন, তাহলে বাকি বরাদ্দ কোথায় গেল এবং কেন একটি উপজেলা বারবার বাদ পড়ছে। এ ছাড়া ১২ দিনের প্রশিক্ষণ ১১ দিনেই শেষ করে সমাপনী করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মাগুরা জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা মোঃ রবিউল ইসলাম বলেন, “প্রশিক্ষণ যেভাবে হওয়ার কথা, বাস্তবে সব জায়গায় তা শতভাগ মানা যাচ্ছে না। মান নিয়েও কিছু প্রশ্ন উঠেছে।”

ঢাকায় প্রকল্প কার্যালয় সূত্রে জানানো হয়েছে, মাগুরায় নয়টি ট্রেডে প্রশিক্ষণ চালু রয়েছে এবং যেকোনো অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হবে।

এই অনিয়মের অভিযোগের মধ্যেই নতুন করে জনমনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে “ড্রিম মাশরুম সেন্টার”-এর মালিক বাবুলের অস্বাভাবিক সম্পদ বৃদ্ধি। স্থানীয়দের দাবি, সাবেক আনসার সদস্যের ছেলে বাবুল কীভাবে অল্প সময়ের মধ্যে শত কোটি টাকার মালিক হলেন, তার কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। তারা বলছেন, সাধারণ মাশরুম ব্যবসা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম থেকে এমন বিপুল সম্পদ অর্জন বাস্তবসম্মত নয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ,বাবুল আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং অতীতে বিভিন্ন সরকারি প্রণোদনা, বঙ্গবন্ধু সংশ্লিষ্ট প্রকল্প ও কৃষি খাতের নানা সুবিধা পেয়েছেন। এসব প্রকল্পের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে কি না, নাকি কোনো অংশ আত্মসাৎ হয়েছে, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। তারা বলছেন, হঠাৎ আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে যাওয়ার এই ঘটনা কেবল ব্যক্তিগত বিত্ত নয়, বরং সরকারি অর্থের স্বচ্ছতা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলছে।

ড্রিম মাশরুম সেন্টার এমডি বাবুল আক্তার বলেন, “৮–৯ লাখ টাকার বিভিন্ন বিল আসে, সেগুলো উত্তোলন করেছি।” তবে সম্পদের মোট পরিমাণ, আয়-ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব বা প্রশিক্ষকের তালিকা সম্পর্কে তিনি কোনো লিখিত নথি দেখাতে পারেননি।

প্রশিক্ষণার্থীরা জানান, প্রত্যেকে ১১ হাজার টাকা করে ভাতা পেয়েছেন। তবে তাদের মতে, প্রকল্পের মাঠপর্যায়ের ব্যয়, প্রশিক্ষণের মান এবং বাস্তব সুবিধার সঙ্গে ঘোষিত বরাদ্দের বড় ধরনের গরমিল রয়েছে। অংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তা আসমা আক্তার,খাদিজা আক্তার, মুর্শিদা ইসলাম, মিতা রাণী বিশ্বাস,দিপ্তী রানী বিশ্বাস, সৌরভ কুমার বিশ্বাস, মোঃ টুটুল হোসেনসহ অনেকে বলেন, “প্রশিক্ষণটি নিয়ম মেনে হলে আমরা সত্যিই উপকৃত হতাম। অনিয়মের কারণে সেই সুযোগ নষ্ট হয়েছে।”

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সিনিয়র কর্মকর্তা মোঃ জাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পটি সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ এবং যেকোনো অভিযোগ সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেখে। ৬৪ জেলায় প্রকল্পটির মোট বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৭৬০ কোটি টাকা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কোনো ব্যক্তি হঠাৎ বিপুল সম্পদের মালিক হলে তা তদন্তের আওতায় আনা জরুরি। অর্থ আদায়, মানহীন উপকরণ, প্রশিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতার অভাব এবং উপজেলা বৈষম্যের অভিযোগ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

সংবাদ প্রকাশের পর দুদকের অভিযান জনমনে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। এখন মাগুরাবাসীর প্রত্যাশা, পার্টনার–ডিএএম প্রকল্পের সব ব্যয়, বাবুলের সম্পদের উৎস এবং সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হবে। এতে সত্য উদঘাটিত হবে এবং সরকারি অর্থের যথাযথ জবাবদিহি নিশ্চিত হবে।

আজকের বাংলা তারিখ

February ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Jan    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮  


Our Like Page