ফারুক আহমেদ, মাগুরা জেলা প্রতিনিধি : মাগুরায় এস আই মাসুম বিল্লাহ কর্তৃক অহেতুক হয়রানী ও নির্যাতনেরহাত থেকে মুক্তি পেতে সংবাদ সম্মেলন করে।
আজ রবিবার ১৯ মে দুপুরে ইছাখাদা পুরাতন বাজারে এলাকাবাসীর আয়োজনে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, মাগুরা সদর উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সোনিয়া সুলতানা, সেতু সর্দ্দার, মাছুমা বেগম, ইরানি বেগম ও ভুক্তভোগী অনিক মাহমুদ।
সংবাদ সম্মেলনে সবাই বক্তব্য বলেন, আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আইনের মাধ্যমে উক্ত ঘটনার সঠিক সমাধান চান এবং পুলিশের হয়রানি না করার অনুরোধ করেন।
নবনির্বাচিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সোনিয়া সুলতানা অভিযোগ করেন, সদ্য অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনের প্রতিপক্ষ বর্তমান হাজরাপুর ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেনের সাথে দ্বন্দ্ব হয়। এরই সূত্র ধরে তার আত্মীয় সদর থানার এসআই মাসুম বিল্লাহর নেতৃত্বে অনিক মজুমদারের কাছ থেকে মাদক উদ্ধারের নামে গত ১৩ই মে তার বাড়িতে ব্যাপক তল্লাশি করে ব্যর্থ হয় পুলিশ। এরপর থেকে পুলিশ তাকে মাদকসহ চালান দিবে বলে নানা ধরনের হুমকি দিয়ে আসছে বলে অভিযোগ করেন।
দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে ওই এস আইয়ের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং হয়রানি বন্ধের দাবিতে পুলিশ সুপার সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বরাবর এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে দরখাস্ত দেয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ কবির হোসেনের ইন্ধনে এসআই মাসুম বিল্লাহ পরিবারটিকে পুলিশী হয়রানী করছেন বলে দাবী করা হয়। একজন পুলিশ কর্মকর্তা কেন একজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের আজ্ঞাবহ হয়ে কাজ করছেন তা খতিয়ে দেখতে মাগুরা পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। এর আগে এ বিষয়ে খুলনা বিভাগের ডিআইজির কাছেও লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবী করা হয়।
এবিষয়ে এসআই মাসুম বিল্লাহ জানান, কবির চেয়ারম্যান আমার কোন আত্মীয় হয় না, আমি প্রশাসনের নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করি।
হাজরাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ কবির হোসেন জানান, উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে হেলিকপ্টার প্রতীক নিয়ে হেরে যাওয়ায় আমরাই কোলঠাসা হয়ে গেছি, আমাদের নামে মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে।
পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সুফিয়া বেগম, স্বামী- মৃতঃ জামিল হোসেন, গ্রাম- ইছাখাদা পুরাতন বাজার, ডাকঘর- হাজরাপুর, উপজেলা- মাগুরা সদর, জেলা-মাগুরা, গত সোমবার ১৩ মে ২০২৪ ইং তারিখে দুপুর ২ টার সময় ৫ নং হাজরাপুর ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত এস. আই মাসুম বিল্লাহ পরিকল্পিত ভাবে সিভিল ড্রেসে এবং ডিবি এর পোশাক পড়া ১০-১২ জন সদস্য নিয়ে অতর্কিত ভাবে আমার বাড়ীতে প্রবেশ করে। আমি এস.আই সাহেবকে জিজ্ঞাসা করি যে, আপনারা আমার বাড়ীতে কেন আসিয়াছেন। উত্তরে এস,আই বলেন যে, আমরা আপনার ছেলে অনিক মাহমুদ কে গ্রেফতার করার জন্য এসেছি। আপনি আমার ছেলের গ্রেফতারী পরোয়ানার ওয়ারেন্ট দেখান। এস,আই মাসুম বিল্লাহ কোন কথার উত্তর না দিয়ে সরাসরি আমার ঘরে প্রবেশ করে এবং আমার ছেলেকে খোঁজাখুঁজি করে। আমার ছেলে অনিক মাহমুদ বাড়ীতে না থাকার কারণে আমার বাড়ীর আসে পাশের বাড়ীতেও সার্চ করে। পরবর্তীতে পোশাক পড়া ৪-৫ জন পুলিশ সদস্য আমার বাড়ীতে আসে। স্যার আমার প্রশ্ন, আমার ছেলে যদি প্রকৃত আসামী হয়, তাহা হইলে আমার ছেলের গ্রেফতারী নোটিশ থাকতে হবে এবং নোটিশের ক্ষমতাবলে আমার ছেলেকে গ্রেফতার করবে। স্যার আমি আমার পরিবারের একমাত্র অভিভাবক। আমাদের মহল্লার ছেলে সেতু সর্দার, পিতা- খায়রুল সর্দার, গ্রাম- ইছাখাদা পুরাতন বাজার, ডাকঘর- হাজরাপুর, উপজেলা- মাগুরা সদর, জেলা-মাগুরাকে এস.আই মাসুম বিল্লাহ বলেছেন অনিক মাহমুদকে মাদকসহ ধরে দিতে পারলে তোমাকে পুরষ্কৃত করা হবে। আমার ছেলে একথা জানার সাথে সাথে এস.আই মাসুম বিল্লাহ সংগে মোবাইল ফোনে কথা বলে এবং এস.আই সাহেবকে অনুরোধ করে আপনি এলাকায় এ ধরণের কথা বার্তা ছড়াচ্ছেন কেন। প্রতিউত্তরে আমার ছেলে অনিক মাহমুদকে বিভিন্ন ভাবে গালি গালাজ করে মা- বাবা তুলে। তাতে আমার ছেলে এস.আই মাসুম বিল্লাকে বলেন আমার মামাতো ভাইয়ের সাথে আমি পুলিশ সুপারের নিকট যাবো। আপনি এভাবে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করিতে পারেন না। এতে করে এস.আই মাসুম বিল্লাহ চড়াও হয়ে পুলিশ প্রশাসনকে উত্তক্ত করে আমার বাড়ীসহ এলাকায় সন্ত্রাসী কায়দায় তান্ডব চালায়। প্রকৃত পক্ষে আমার ছেলে অনিক মাহমুদ এবং সেতু সর্দার কেহই মাদক ব্যবসায়ী নয়। আমার ছেলে এবং সেতু সর্দারকে পরিকল্পিত ভাবে মাদক ব্যবসায়ী বানিয়ে তাদের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করিতেছে। এহেন পরিস্থিতিতে বর্তমানে আমি সহ আমার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা সার্বক্ষণিক আতঙ্কের মধ্যে জীবন যাপন করিতেছি। উক্তরূপ প্রতিহিংসার হাত থেকে আমাদেরসহ এলাকাবাসীকে মুক্ত করার জন্য আবেদন জানাচ্ছি।