ফারুক আহমেদ, মাগুরা জেলা প্রতিনিধি : মাগুরা সদর উপজেলার চাউলিয়া ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামে মহিলা ইউপি মেম্বার সদস্যর স্বামীকে হত্যার উদ্দেশ্য সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা ও গভীর রাতে বাড়িতে লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। চাউলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত মহিলা মেম্বার ঝর্ণা খাতুন (৪৩) এবং তার স্বামী আব্দুল গফফার মধু (৪৫) চাউলিয়া ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং তারা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। মাগুরা সদর থানার এজাহার মামলা নং- ৩০ তারিখ ২৩ মে বৃহস্পতিবার। আসামী ফিরোজ ছকাতী (৪৫) পিং- মন্টু ছকাতী, বাকী মুন্সী (৪৮) পিং- শফি মুন্সী, রকিব মোল্যা (৪৭) পিং- বক্কার মোল্লা, আলামিন মোল্যা (২২) পিং- হিরু মোল্যা, রবিউল ইসলাম (৪২) পিং- জলিল মোল্যা, জিয়া মোল্যা (৪৭) পিং- সাদিবার মোল্যা, লাভলু মোল্যা (৩৮) পিং- আবুল মোল্যা, বাকী মিয়া (৫২) পিং- দলিল উদ্দিন, নাহিদ মোল্যা (৩০) পিং- দাউদ মোল্যা, টিক্কা খান (৪৫) পিং-আহম্মদ খান, এরশাদ জমাদ্দার (৪৫) পিং- লুৎফর জোয়ার্দ্দার, আলামিন মোল্যা (৩৫), মৃত হাচেন মোল্যা, জিয়া ছকাতী (৩৪), পিং- লাল ছকাতী, আকাশ মিয়া (২২) পিং- জাফর মিয়া, হামিদ মোল্যা (৪৫) পিং- আবু শ্যামা মোল্যা, ইসলাম মোল্যা (৫৯) পিং- হুড়ন মোল্যা, ইরান মোল্যা (২১) পিং- ইসলাম মোল্যা, রুবায়েত মোল্যা (২৩), পিং- মুরাদ মোল্যা, এমদাদ বিশ্বাস (২৭), পিং- মৃত ইমারত বিশ্বাস, বাবলু মোল্যা (৪০) পিং-আবুল মোল্যা, মুরাদ মোল্যা (৫৮) পিং- রাশেদ মোল্যা, সর্ব গ্রাম চাঁদপুর, থানা ও জেলা- মাগুরা এরা সবাই সন্ত্রাসী শ্রেণীর লোকজন। আসামীদের সাথে আঃ গফফার মোল্লা মধুর গ্রাম্য দলাদলি নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে শত্রুতা চলে আসতেছে। তারই জের ধরে আসামীরা মেম্বার ঝর্ণার পরিবারের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি করার জন্য অবিরত চেষ্টা চালাই আসতেছিলো। গত ১৫ মে বুধবার সময় রাত ৮:৩০ টার সময় আঃ গফফার মধু ধলহরা বাজার থেকে নিজ বাড়ীতে ফেরার পথিমধ্যে চাঁদপুর দক্ষিনপাড়া জামে মসজিদের পূর্ব পাশে লাইটের নিচে পৌছা মাত্রই সমস্ত আসামীরা পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে ওঁৎ পেতে থেকে হাতে রামদা, ছানদা, চাইনিজ কুরাল, চাপাতি, লোহার রড, হাতুড়ী ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্রে সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে গফফার মধুকে ঘিরিয়া ধরে। ঐ সময় বাকী মিয়া অন্যান্যদের হুকুম দিয়া বলে যে, শালাকে পাওয়া গেছে আমাদের বিরুদ্ধে দল করার সাধ মিটাইয়াদে। হুকুম পাওয়ার সাথে সাথে ফিরোজ ছকাতী তার হাতে থাকা ধারালো চাপাতী দিয়ে ঝর্ণার স্বামীকে খুন করার অসৎ উদ্দেশ্যে মাথা লক্ষ্য করে কোপ মারলে উক্ত কোপ বাম হাতের কনুইয়ের উপরের হাড়ে লাগে। রকিব লোহার শাবল দিয়ে হাতের কনুইয়ে আঘাত করলে হাড় ভেঙ্গে ঝুলে যায়। এরশাদ লোহার রড দিয়ে খুন করার অসৎ উদ্দেশ্যে মাথা লক্ষ্য করে কোপ মারলে ডান হাতের মধ্যম আঙ্গুল ভেঙ্গে ঝুলে যায়। গফফার এসময় মাটিতে পড়ে গেলে বাকী মিয়া রামদা দিয়ে হাঁটুর উপর কোপ দেয়। ঐ সময় লাভলু মোল্যা রামদা দিয়ে বাম পায়ের হাঁটুর নিচে কোপ দেয়। আলামিন লোহার শাবল দিয়ে ডান পায়ের হাটুর নিচে বাড়ী দেয়। আকাশ রামদা দিয়ে ডান পায়ের হাটুর উপরে কোপ দিয়ে জখম করে। রবিউল মোল্যা চাপাতি ডান পায়ের হাঁটুর নিচে কোপ দেয়। হামিদ ধারালো চাইনিজ কুড়াল দিয়ে ডান পায়ের গোড়ালীর উপরে কোপ মেরে ঝুলাইয়া ফেলে। ঐ সময় টিক্কা খান গলা পাড়াই ধরে এবং গ্যাংড়াইতে থাকলে জিয়া ছকাতী শার্টের পকেটে থাকা নগদ ৭০ হাজার টাকা জোর পূর্বক ছিনিয়ে নেয়। অন্যান্য সমস্ত আসামীরা তাদের হাতে থাকা লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে গফফারের শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ী পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। ঐ সময় পথ চলতি জিয়ারুল মোল্যা পিং- জলিল মোল্যা ঘটনা দেখে ডাক চিৎকার করলে স্বাক্ষী আজহারুল মোল্যা পিং- জলিল মোল্যা, ফকরুল মোল্যা পিং- চতুর মোল্যা, সর্ব সাং- চাঁদপুর, থানা ও জেলা- মাগুরাসহ আশ পাশের লোকজন ছুটে এসে গফফারকে উদ্ধার করে। সন্ত্রাসীরা যাওয়ার সময় হুমকি দিয়ে যায় যে, এই বিষয়ে থানা কোর্ট করলে তোর বংশ ধ্বংস করে দিব। ঐ সময় গফফারের অবস্থা গুরুতর আশংকাজনক হওয়ায় ইজিবাইক যোগে দ্রুত মাগুরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়।
সরেজমিনে শনিবার ২৫ মে মেম্বার ঝর্ণা খাতুন বলেন, আমার স্বামী গফফারের উপর অর্তকিত হামলার বিচার আইনের মাধ্যমে করতে চাই এবং পুলিশ আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার করে অপরাধীদের কঠিন শাস্তি ও বিচার দাবি জানান। তিনি আরও বলেন ঐ রাতে আমার বাড়িতে লুটপাট চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা এই লুটপাটে প্রায় ১০ লাখ টাকার মতো মালামালের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।