March 31, 2026, 11:06 am
শিরোনামঃ
নারায়ণগঞ্জে সালিশের বিরোধে প্রবাসী যুবককে কুপিয়ে হত্যা খারাগ দ্বীপে সৈন্য পাঠানো ট্রাম্পের হাতে আর ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত আমাদের হাতে : ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট চীনের কাছাকাছি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করলো জাপান ইরান যুদ্ধের লক্ষ্য অর্ধেকেরও বেশি অর্জিত হয়েছে : নেতানিয়াহু ইসরাইল পার্লামেন্টে ফিলিস্তিনিদের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিল অনুমোদন ঝিনাইদহের মহেশপুরে জ্বালানি পাম্পে নজরদারি বাড়াতে টাস্কফোর্স গঠন ৪র্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা হবে বাধ্যতামূলক : প্রধানমন্ত্রী তৃণমূল থেকে প্রতিভা অন্বেষণ দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে সমৃদ্ধ করার প্রকৃত পথ : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী অবৈধ তেল মজুতের তথ্য দিলেই মিলবে ১ লাখ টাকা পুরস্কার ১০ এপ্রিলের মধ্যে এমপিরা বাসা বরাদ্দ পাচ্ছেন
এইমাত্রপাওয়াঃ

সাতক্ষীরা জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখিয়ে অন্য ব্যক্তিকে ভাতার কার্ড প্রদান ! 

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়নে ছকিনা বিবি নামের এক বৃদ্ধাকে মৃত দেখিয়ে তার বয়স্ক ভাতার কার্ড অন্য ব্যক্তিকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান ও মেম্বরের বিরুদ্ধে।

এ বিষয় নিয়ে ইতোমধ্যে তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের অবহিত করেছেন ভুক্তভোগী ছকিনা বেগমের পরিবার। ভুক্তভোগী ছকিনা বেগম (৮৯) তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়ের শাহজাতপুর গ্রামের শুকুর আলীর স্ত্রী।

ছকিনা বেগম জানান, তার নামে বয়স্ক ভাতার কার্ড ছিলো। ৪ বার বয়স্ক ভাতার টাকা পেয়েছে। হঠাৎ তিনি জানতে পারেন, তাকে মৃত দেখিয়ে তার কার্ড মোখছেদ শেখ নামে এক ব্যক্তির নামে দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি জানতে পেরে রোববার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে ছকিনার পরিবারের সদস্যরা তালা উপজেলা সমাজসেবা অফিসে যায়। সেখানে সব কিছু বলার পরে সমাজসেবা অফিসার সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের মেম্বর ওবাইদুর রহমান মিঠুকে অফিসে আসতে বলেন।

খেশরা ইউপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ওবাইদুর রহমান মিঠু বলেন, ছকিনা বিবিকে আগে চিনতাম না। আজকে এ বিষয় নিয়ে কথা বলার কারণে তাকে চিনলাম। সমাজসেবা অফিসের ম্যাডাম আমাকে ডেকেছিলেন। পরে আমি ইউনিয়ন পরিষদে এসে দেখি আমি যেটা করেছি সেটা সঠিক করেছি। ছকিনা বিবি নামের বৃদ্ধা কি এখনও বেঁচে আছে এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আমি এখনও বলতে পারবো না তিনি বেঁচে আছেন কিনা।’

খেশরা ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম লাল্টু বলেন, ‘মেম্বররা সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কে মারা গেলো সেই তথ্য যাচাই বাছাই শেষে স্বাক্ষর করে আমার কাছে আনলে আমি স্বাক্ষর করি। ২১টি গ্রাম নিয়ে আমার ইউনিয়ন। আমি তো সব লোককে চিনি না। তাছাড়া যদি কারও নামে চলমান বয়স্ক ভাতার কার্ড থাকে তাহলে তাকে বাদ দিতে গেলে তার মৃত সনদপত্র লাগবে। কেউ মারা গেলে ইউনিয়ন পরিষদ রেজিস্ট্রারে তার নাম লিপিবদ্ধ করা থাকে।’

ছকিনা বিবি বেঁচে আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তিনি বেঁচে আছেন কি না জানি না।’

তালা উপজেলা সমাজসেবা অফিসার সুমনা শারমিন বলেন, খেশরা ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম লাল্টু ইউনিয়ন পরিষদ থেকে একটি রেগুলেশন জমা দিয়েছেন। যেখানে জীবিত ব্যক্তিকে মৃত বানানো হয়েছে। যে নম্বর দিয়েছে তার নাম ছকিনা বিবি। তিনি জীবিত আছেন। তার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তার পরিবারের সদস্যরা ভাতার বই নিয়ে অফিসে এসেছিলেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যকে ফোন করে অফিসে আসতে বলা হয়। কিছু সময় পরে ইউপি সদস্য কালো চশমা পড়ে আমার অফিসে ঢুকে আমাকে চ্যালেঞ্জ করে বলেন, তিনি ইউএনও স্যারের কাছে প্রমাণ করবেন বিষয়টি সত্য। এটা বলে তিনি চলে যান। পরবর্তীতে বিষয়টি ইউএনও স্যার, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানকে জানানো হয়। উপজেলা চেয়ারম্যান বলেছেন, বিষয়টি মাসিক মিটিং চলাকালে উপস্থাপন করতে।

তালা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার জানান, ছকিনা বিবি বেঁচে আছেন, বিষয়টি সত্য। চেয়ারম্যান ও মেম্বর যোগসাজশ করে জীবিত ব্যক্তিতে মৃত বানিয়েছে। বিষয়টি আগামী মিটিংয়ে উপস্থাপন করা হবে এবং ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস জানান, ছকিনা বিবির বিষয়টি সমাজসেবা অফিসার আমাকে ফোনে জানিয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আজকের বাংলা তারিখ



Our Like Page