July 17, 2026, 1:40 am
শিরোনামঃ
অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা ফ্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি : প্রধানমন্ত্রী কালেমার পতাকা নিয়ে উগ্রবাদী তৎপরতার প্রমাণ নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তালাকের অজুহাতে স্ত্রী ও নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ বন্ধ করা যাবে না : হাইকোর্ট আফগানিস্তানে জাতিসংঘের সহায়তা মিশনের প্রধান হলেন বাংলাদেশের রাবাব ফাতিমা নীলফামারীতে মসজিদে থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার বাগেরহাটে নিজ বাসা থেকে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার লড়বো করবো ; বিজেপির শেষ দেখবো : মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরানকে আবার আলোচনায় বসাতে চাপ সৃষ্টি করবে পাকিস্তান বিশ্বজুড়ে চীনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমছে : পিউরের জরিপ মাগুরায় কথিত ‘জ্বিনের বাদশা’র অপচিকিৎসার সংবাদ সংগ্রহকালে সাংবাদিকের ওপর হামলা
এইমাত্রপাওয়াঃ

সাপের কামড়ের এন্টি ভেনম সব উপজেলায় পাঠাতে ওষুধ প্রশাসনের নির্দেশ

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর দেশের সব উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে সাপের কামড়ের এন্টি ভেনম পর্যাপ্তভাবে সরবরাহ নিশ্চিত করতে সিভিল সার্জনদের নির্দেশ দিয়েছে। প্রতিটি উপজেলা সদরের কমপক্ষে দুটি ফার্মেসিতে ওষুধ রাখার নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

এই তথ্য বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদেরের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রিটের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মীর এ কে এম নুরন্নবী শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য, গত ১৭ আগস্ট হাইকোর্ট উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেন। স্বাস্থ্য সচিব, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের এ আদেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়। রিটের প্রাথমিক শুনানি হয়েছিল ১৮ আগস্ট, যেখানে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুর অংশগ্রহণ করেন। রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মীর এ কে এম নুরন্নবী, সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট ইসমাঈল হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শফিকুর রহমান ও তানিম খান এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইকরামুল কবির।

এর আগে, সাপের কামড়ের ওষুধ সরবরাহের জন্য হাইকোর্টে রিট করেন অ্যাডভোকেট মীর এ কে এম নুরন্নবী। রিটের সঙ্গে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করা হয়েছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত দেশে সাপের কামড়ে ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই পাঁচ মাসে ৬১০ জন সাপের দংশনের শিকার হয়েছেন।

রাজধানীর মহাখালীর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে রাসেলস ভাইপার নিয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন এ তথ্য জানান। তিনি জানান, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলতি বছর জানুয়ারি থেকে ৪১৬ জন সাপের দংশনের শিকার হয়ে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে বিষধর সাপের কামড় ৯১টি এবং চন্দ্রবোড়া (রাসেলস ভাইপার) ১৮টি। এ দংশনের ফলে মোট ১১ জন মারা গেছেন, যার মধ্যে পাঁচজন চন্দ্রবোড়ার কামড়ে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সাম্প্রতিক সময়ে রাসেলস ভাইপার নিয়ে দেশে বিভিন্ন গুজব ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশে সাপদংশনকে জনস্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ২০২২ সালের জাতীয় জরিপ অনুযায়ী দেশে বছরে চার লাখের বেশি মানুষ সাপের কামড়ে আক্রান্ত হন, যার মধ্যে প্রায় ৭,৫০০ জনের মৃত্যু হয়। প্রধান বিষধর সাপের মধ্যে গোখরা, কালাচ্ (ক্রেইট), চন্দ্রবোড়া (রাসেলস ভাইপার) ও সবুজ সাপ অন্যতম। কিছু সামুদ্রিক সাপের কামড়ের তথ্যও আছে।

চন্দ্রবোড়া ভাইপারিড গ্রুপের একটি বিষধর সাপ। বাংলাদেশে চন্দ্রবোড়ার উপস্থিতি ও এর কামড়ে মৃত্যুর ইতিহাস ১৯২০ সাল থেকেই স্বীকৃত। ২০১৩ সালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে চন্দ্রবোড়া বা উলুবোড়া সাপের কামড়ের প্রথম রিপোর্ট লিপিবদ্ধ হয়। প্রাথমিকভাবে রাজশাহী ও বরেন্দ্র অঞ্চলে এর প্রভাব বেশি দেখা গেলেও পরে ধীরে ধীরে ২৭টি জেলায় বিস্তৃত হয়েছে।

ডা. রোবেদ আমিন জানান, বিষধর সাপের কামড়ের কার্যকর চিকিৎসা ওষুধ। দেশের প্রধান বিষধর সাপের বিষ সংগ্রহ করে ঘোড়ার শরীরে প্রয়োগ করা হয় এবং ঘোড়ার রক্ত থেকে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় ওষুধ তৈরি করা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে ওষুধ তৈরি করা হয় না; ভারতে তৈরি চারটি প্রধান বিষধর সাপের ওষুধ সংগ্রহ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে সরবরাহ করে। ওষুধের ক্রয়, বিতরণ, সংরক্ষণ, প্রয়োগ ও প্রয়োগ পরবর্তী নজরদারি সম্পর্কে স্পষ্ট নীতিমালা না থাকলেও, এর সুফল লক্ষ্যণীয়।

আজকের বাংলা তারিখ

July ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Jun    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  


Our Like Page