April 28, 2026, 12:02 pm
শিরোনামঃ
অসচ্ছল মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী দেশে বর্তমানে কোনো জঙ্গি তৎপরতা নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশে ১ লাখ ৭০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল মজুত রয়েছে : তথ্য উপদেষ্টা জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলো আদানির ৯২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাপানে বিপুল জনশক্তি পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ পাবনার রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং শুরু খাগড়াছড়িতে বিদ্যুৎ বিভাগের ভুলে কৃষকের টিনের ঘরে চলতি মাসের বিদ্যুৎ বিল ১ লক্ষ ৪ হাজার টাকা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে ইরানকে বড় ছাড় দিতে হবে : ফ্রান্স ১ মে এর পর আইনত যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে ট্রাম্পকে জাতিসংঘ পরমাণু সম্মেলনের সহ-সভাপতি হলো ইরান
এইমাত্রপাওয়াঃ

১ মে এর পর আইনত যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে ট্রাম্পকে

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিজ দেশের আইনসভা বা কংগ্রেস। ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ার অ্যাক্ট’ বা যুদ্ধ ক্ষমতা আইন অনুযায়ী, কোনো সশস্ত্র সংঘাত শুরুর ৬০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন না পেলে প্রেসিডেন্টকে সেই অভিযান গুটিয়ে নিতে হয়।

সেই হিসেবে আগামী ১ মে ট্রাম্পের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হতে যাচ্ছে। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প বুধবার (২২ এপ্রিল) ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ালেও তেহরানের ওপর নৌ-অবরোধ অব্যাহত রেখেছেন। তবে ১ মে’র মধ্যে যদি তিনি প্রতিনিধি সভা ও সিনেটের যৌথ অনুমোদন না পান, তবে আইনত তাকে এই সংঘাত বন্ধ করতে হবে।

মার্কিন এই আইন অনুযায়ী, সামরিক পদক্ষেপ শুরু করার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসকে অবহিত করতে হয়। এরপর পরবর্তী ৬০ দিন পর্যন্ত তিনি একক সিদ্ধান্তে সেনা মোতায়েন রাখতে পারেন। এই সময়সীমা আরও ৩০ দিন বাড়ানো সম্ভব যদি প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের কাছে লিখিতভাবে সার্টিফাই করেন, ‘অনিবার্য সামরিক প্রয়োজনে’ এই অভিযান চালানো জরুরি।

কলোরাডো ল স্কুল-এর আইনের সহযোগী অধ্যাপক মরিয়ম জমশিদি বলেন, ৯০ দিনের এই চূড়ান্ত জানালার পরও যদি কংগ্রেস যুদ্ধ ঘোষণা না করে বা অনুমোদন না দেয়, তবে প্রেসিডেন্ট সেনা প্রত্যাহার করতে বাধ্য। তবে তিনি এও মনে করিয়ে দেন, অতীতে অনেক প্রেসিডেন্ট এই আইনকে অসাংবিধানিক বলে দাবি করে তা উপেক্ষা করেছেন এবং কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও প্রেসিডেন্টকে বাধ্য করার মতো স্পষ্ট কোনো আইনি পথ নেই।

বর্তমানে মার্কিন কংগ্রেসে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে গভীর বিভাজন থাকায় ট্রাম্পের পক্ষে এই অনুমোদন পাওয়া বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। গত ১৫ এপ্রিল সিনেটে ট্রাম্পের যুদ্ধ ক্ষমতা খর্ব করার একটি দ্বিপক্ষীয় প্রচেষ্টা ৫২-৪৭ ভোটে ব্যর্থ হয়, যেখানে সদস্যরা মূলত দলীয় অবস্থান অনুযায়ী ভোট দিয়েছেন। অনেক রিপাবলিকান সদস্য ট্রাম্পের পদক্ষেপকে সমর্থন করলেও দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

রিপাবলিকান সিনেটর জন কার্টিস স্পষ্ট জানিয়েছেন, ৬০ দিনের সময়সীমা পার হওয়ার পর কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া তিনি আর এই যুদ্ধের পক্ষে থাকবেন না। ডেমোক্র্যাটরা সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন, এই যুদ্ধ প্রতি সপ্তাহে শতকোটি ডলার ব্যয় করছে, অথচ রিপাবলিকান নেতৃত্ব এর ওপর কোনো তদারকি করছে না।

যুদ্ধবিরতি চললেও রণক্ষেত্রে উত্তেজনা কমেনি। গত সোমবার আরব সাগরে একটি ইরানি জাহাজ আটকের ঘটনা এবং পরবর্তীতে ইরানের পাল্টা পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বোডইন কলেজের ইতিহাসের অধ্যাপক সালার মোহানদেসি মনে করেন, এই যুদ্ধ ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস নামালেও তার ‘জয়ী হওয়ার ভাবমূর্তি’ বজায় রাখতে তিনি হয়তো সংঘাত চালিয়ে যাবেন।

তিনি চাইলে পরাজয় স্বীকার করে সরে আসতে পারেন, কিন্তু ট্রাম্প সম্ভবত তা করবেন না। বরং ২০০১ বা ২০০২ সালের ‘অথোরাইজেশন ফর ইউজ অফ মিলিটারি ফোর্স’ বা সামরিক শক্তি ব্যবহারের অনুমোদন আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে তিনি কংগ্রেসকে এড়িয়ে যেতে পারেন। এর আগে প্রেসিডেন্ট ওবামা ও বিল ক্লিনটনও ভিন্ন ভিন্ন আইনি ব্যাখ্যা দিয়ে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘ সময় সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছিলেন।

আজকের বাংলা তারিখ



Our Like Page