অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : রাশিয়ায় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ৩০ বাংলাদেশি যুবককে পাঠানোর ঘটনায় জড়িত তিনটি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল ও জামানত বাজেয়াপ্ত করেছে সরকার। একই সঙ্গে প্রতারণার শিকার এসব যুবককে দ্রুত ও নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
মঙ্গলবার (২ জান) সকালে রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, ‘প্রতারণামূলকভাবে রাশিয়ায় পাঠানো এই ৩০ বাংলাদেশিকে দ্রুত ও নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’
মস্কোয় বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূতকে তাৎক্ষণিকভাবে ফোন করে ভুক্তভোগীদের সুরক্ষায় সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান আরিফুল হক চৌধুরী।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘দেশের নাগরিকদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা এবং প্রতারণামূলকভাবে বিদেশে পাঠানোর মতো জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িত কোনো চক্র, সংস্থা, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে ছাড় দেওয়া হবে না। কোনো এজেন্সির অসততার কারণে বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেওয়া হবে না এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে তদারকি আরো জোরদার করা হবে।’
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, উচ্চ বেতন এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণামূলকভাবে ৩০ বাংলাদেশি যুবককে রাশিয়ায় নেওয়া হয়। পরে জনপ্রতি প্রায় ৩০ লাখ টাকার বিনিময়ে তাদের রুশ সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দিয়েছে জাবালে নুর নামে এক এজেন্সি ও দালাল চক্র।
ঘটনার পর যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো হলো- আর এস ইন্টারন্যাশনাল (আরএল-১৪২৮) এবং জাবাল-ই-নূর (আরএল-২৫০৫) এবং টিএস ওভারসিস লিমিটেড (আরএল-১৭৫৫)। এসব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলের পাশাপাশি জামানতও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
এদিকে, বিদেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যেতে ইচ্ছুকদের কোনো রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের আগে প্রতিষ্ঠানটির বৈধতা, কাজের ধরন ও চুক্তির শর্তাবলি ভালোভাবে যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।