অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং জনবান্ধব করতে ‘সর্বজনীন পেনশন স্কিম বিধিমালা, ২০২৩’-এ গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন এনেছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে জারি করা সংশোধিত বিধিমালা গত ৭ জুন ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে।
নতুন সংশোধনের মাধ্যমে আউটসোর্সিং কর্মীদের পেনশন স্কিমের আওতায় আনা, এককালীন অর্থ উত্তোলনের সুযোগ এবং পেনশন হিসাবের বিপরীতে ঋণ গ্রহণের নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব পরিবর্তনের ফলে আরও বেশি মানুষ দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হতে উৎসাহিত হবেন।
আউটসোর্সিং কর্মীদের অন্তর্ভুক্তি
সংশোধিত বিধিমালায় প্রথমবারের মতো আউটসোর্সিং সেবাকর্মীদের সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আউটসোর্সিংয়ে নিয়োজিত বাংলাদেশি নাগরিকরা ‘প্রগতি’ স্কিমে অংশ নিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন মাসিক চাঁদা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০০ টাকা। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী বেশি পরিমাণ চাঁদাও জমা দিতে পারবেন।
এ ছাড়া চাকরি বা চুক্তিভিত্তিক কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেলেও পরবর্তীতে বকেয়া পরিশোধ করে পেনশন হিসাব পুনরায় সক্রিয় করার সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে অনিয়মিত আয়ের কর্মীরাও সহজে এই সুবিধার আওতায় আসতে পারবেন।
এককালীন অর্থ উত্তোলনের সুযোগ
নতুন সংশোধনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো পেনশন তহবিল থেকে এককালীন অর্থ উত্তোলনের সুযোগ। বিধিমালা অনুযায়ী, পেনশনযোগ্য বয়সে পৌঁছানোর পর একজন অংশগ্রহণকারী তার সঞ্চিত করপাসের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ একবারে তুলে নিতে পারবেন।
অবশিষ্ট অর্থের ভিত্তিতে মাসিক পেনশনের পরিমাণ পুনর্নির্ধারণ করা হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অবসরের পর জরুরি আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে এই সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ঋণ গ্রহণে নতুন শর্ত
পেনশন হিসাবের বিপরীতে ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রেও নতুন শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। ঋণ পেতে হলে অংশগ্রহণকারীকে কমপক্ষে ২৪ মাস নিয়মিত চাঁদা জমা দিতে হবে এবং তার পেনশন হিসাবের করপাসে ন্যূনতম এক লাখ টাকা থাকতে হবে।
একটি ঋণ চলমান থাকলে নতুন ঋণের আবেদন করা যাবে না। পাশাপাশি ঋণ গ্রহণের পরবর্তী মাস থেকেই কিস্তি পরিশোধ শুরু করতে হবে। গৃহীত ঋণের ওপর ২ শতাংশ সার্ভিস চার্জ প্রযোজ্য হবে, যা সংশ্লিষ্ট করপাসে যুক্ত হবে।
নতুন পেনশন সারণি প্রকাশ
সংশোধিত বিধিমালার সঙ্গে ‘সমতা’, ‘সুরক্ষা’ ও ‘প্রগতি’ স্কিমের জন্য নতুন পেনশন সারণিও প্রকাশ করা হয়েছে। এতে চাঁদার পরিমাণ ও জমাদানের মেয়াদ অনুযায়ী সম্ভাব্য মাসিক পেনশনের হার নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদে নিয়মিত ও উচ্চ হারে চাঁদা জমা দিলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পেনশন পাওয়া সম্ভব। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, কেউ যদি ৪২ বছর ধরে মাসে ১৫ হাজার টাকা করে চাঁদা জমা দেন, তাহলে ভবিষ্যতে তার মাসিক পেনশন পাঁচ লাখ টাকারও বেশি হতে পারে।
সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন সংশোধনের মাধ্যমে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত ও টেকসই করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে আউটসোর্সিং কর্মীদের অন্তর্ভুক্তি এবং এককালীন অর্থ উত্তোলনের সুযোগ সাধারণ মানুষের আগ্রহ ও অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।