May 4, 2026, 5:41 pm
শিরোনামঃ
তৃণমূলকে হটিয়ে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ঐতিহাসিক জয় বিনিয়োগ বাড়াতে প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী মানানসই হয়নি পুলিশের নতুন পোশাক : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারী এমপিরা সংসদকে প্রাণবন্ত করবেন : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বাংলাদেশ ফার্স্ট নীতি ভারতের লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ : সিআইআই পে-স্কেলের জন্য নতুন বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা ময়মনসিংহে ধান ব্যবসায়ীকে গলা কেটে হত্যা নাটোরে ব্যবসায়ীকে গলা কেটে হত্যা অভিযোগে স্ত্রী-ছেলে আটক ৩৯ দেশের চিকিৎসকদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র ভারতের কোচবিহারে বিজেপি–তৃণমূল ব্যাপক সংঘর্ষ
এইমাত্রপাওয়াঃ

শেখ রাসেলের আর্তিও টলাতে পারেনি পাষাণ খুনিদের হৃদয়

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : আল্লাহর দোহাই দিয়ে না মারার জন্য খুনিদের কাছে আর্তি জানিয়েছিলেন শেখ রাসেল। চিৎকার করে তিনি বলেছিলেন, ‘আল্লাহর দোহাই আমাকে জানে মেরে ফেলবেন না। বড় হয়ে আমি আপনাদের বাসায় কাজের ছেলে হিসেবে থাকবো। আমার হাসু আপা দুলাভাইয়ের সঙ্গে জার্মানিতে আছেন। আমি আপনাদের পায়ে পড়ি, দয়া করে আপনারা আমাকে জার্মানিতে তাদের কাছে পাঠিয়ে দিন।’

সেদিন রাসেলের এই আর্তচিৎকারে খোদার আরশ কেঁপে উঠলেও টলাতে পারেনি খুনী পাষাণদের মন। বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যের মত এই নিষ্পাপ শিশুকেও পঁচাত্তরের পনেরই আগস্ট ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়েছিল।

ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ঘিরে কিছু ঘটনা ও বাংলাদেশ’ গ্রন্থে রাসেলকে এভাবেই নৃশংস হত্যার বর্ণনা করেছেন। তিনি তার গ্রন্থে লেখেন বঙ্গবন্ধুসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যকে হত্যার পর রাসেল দৌড়ে নিচে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করানো বাড়ির কাজের লোকজনের কাছে আশ্রয় নেয়। রাসেলের দীর্ঘকাল দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা আবদুর রহমান শেখ রমা তখন রাসেলের হাত ধরে রেখেছিলেন। আব্দুর রহমান শেখ রমা ঊনসত্তর সাল থেকেই বঙ্গবন্ধুর পরিবারে কাজ করতেন, একাত্তরের ওই পরিবারের সঙ্গে ছিলেন এবং বঙ্গবন্ধু হত্যার দায়ে যে মামলা করা হয়- তার দ্বিতীয় সাক্ষি এই রমা।

ওয়াজেদ মিয়া লেখেন, একটু পরেই একজন সৈন্য রাসেলকে বাড়ির বাইরে পাঠানোর কথা বলে রমার কাছ থেকে তাকে নিয়ে নেয়। রাসেল তখন ডুকরে কাঁদতে কাঁদতে তাকে না মারার জন্য আল্ল¬াহর দোহাই দেয়।

রাসেলের এই মর্মস্পর্শী আর্তিতে একজন সৈন্যের মন গলায় সে তাকে বাড়ির গেটে সেন্ট্রিবক্সে লুকিয়ে রাখে। কিন্তু এর প্রায় আধ ঘণ্টা পর একজন মেজর সেখানে রাসেলকে দেখতে পেয়ে তাকে দোতলায় নিয়ে ঠান্ডা মাথায় রিভলবারের গুলিতে হত্যা করে।

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের কালো রাতের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাসায় অবস্থান করা তার ব্যক্তিগত সহকারী আব্দুর রহমান শেখ রমাও তার সাক্ষ্যতে এভাবেই  বর্ণনা দিয়েছেন রাসেল হত্যার। ভোররাতে ধানমন্ডির বাড়িটি আক্রান্ত হওয়ার দিনে যে ঘরে বঙ্গবন্ধু ছিলেন, তার বাইরের বারান্দায় ঘুমিয়েছিলেন শেখ রমা।

শেখ রমা জানান, দোতলায় হত্যাযজ্ঞ শেষে শেখ রাসেল ও তাকে যখন নিচে নিয়ে আসা হয়। তখন রাসেল বলছিলো, ভাইয়া, আমাকে মারবে না তো? এরকম শিশুকে নিশ্চয়ই খুনিরা মারবে না আশায় মুহিতুল ইসলাম তাকে জড়িয়ে ধরে বলছিলেন, ‘না, ভাইয়া, তোমাকে মারবে না’। পরে রাসেল বলে, ‘আমি মায়ের কাছে যাবো।’

পরে এক  হাবিলদার শেখ রাসেলকে তার হাত ধরে দোতলায় নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর দোতলায় গুলি এবং সেখান থেকে কান্নাকাটির আওয়াজ পাওয়া যায়। আর ওই হাবিলদার নিচে গেটের কাছে এসে মেজর আজিজ পাশাকে বলে, ‘স্যার, সব শেষ।’ এর আগে আজিজ পাশা এবং রিসালদার মোসলেমউদ্দিন বঙ্গবন্ধুর বেডরুমে বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব, শেখ জামাল, শেখ জামালের স্ত্রী ও শেখ কামালের স্ত্রীকে হত্যা করে।

শেখ রাসেলকে হত্যার আগে ঘাতকরা একে একে তার পরিবারের অন্য সদস্য- বড় ভাই শেখ কামাল, শেখ জামাল, মা ফজিলাতুন্নেসা মুজিব এবং বাবা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করে। ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র দুরন্তপ্রাণ শেখ রাসেল এমন সময়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেন- যখন তার পিতার রাজনৈতিক জীবনকে দেখতে শুরু করেছিলেন মাত্র।

১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট ভাই শেখ রাসেল ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু ভবনে জন্মগ্রহণ করেন।  সূত্র: বাসস

আজকের বাংলা তারিখ

May ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Apr    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১


Our Like Page