ফারুক আহমেদ, মাগুরা জেলা প্রতিনিধি : মাগুরা সদর উপজেলার বগিয়া ইউনিয়নের আলোকদিয়া বাজার সংলগ্ন গৃহগ্রামে বাড়ির জমির সীমানা ও রাজহাঁসকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী ৪ জনকে দিনে দুপুরে মারাত্মক ভাবে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে।
আখিয়া খাতুন (২৭) জানান, গত বৃহস্পতিবার ১৬ মে বিকাল ৪-৫ টার সময়ে গৃহগ্রামের মালেক বিশ্বাসের পুত্র ভ্যানচালক রবিউল বিশ্বাস (৫০), তার পুত্র ইমরান বিশ্বাস (২১), ফরিদা বেগম (৪৫) ও শেফালী খাতুন (২৫) আমার পরিবারের বড় ভাই মফিজ বিশ্বাস (৪০), ছোট ভাই হাফিজ বিশ্বাস(৩০), বোন মায়া বেগম (৪২), ভাগ্নে রিয়াদ বিশ্বাস ও আমি আখিয়া খাতুন (২৭) কে রামদা, ছ্যানদা, কোপের দা, ছুরি, লোহার রড, বটি ও মেহগনির ডাল দিয়ে জীবননাশের হত্যার উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসী কায়দায় মারাত্মকভাবে মারধর ও কুপিয়ে জখম করে। আখিয়া খাতুনদের বাড়ির সীমানা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছে রবিউল বিশ্বাসদের সাথে। এর মধ্যে ইমরান বিশ্বাস লোহার রড নিয়ে মারার জন্য নবগঙ্গা নদীর মাঠে গিয়ে হাফিজ বিশ্বাসকে বলে তোদের রাজহাঁস আমাদের রাজহাঁসকে ঠুকিয়েছে এই বলেই তাকে রড দিয়ে বেদম আকারে প্রহার করে। তখন হাফিজের বোন মায়া বেগম মারধরের কথা শুনতে গেলে রবিউল বিশ্বাস কাঠের বাটাম ও তার স্ত্রী ফরিদা বেগম মেহগনির ডাল দিয়ে বাড়ির পথের সামনে নবগঙ্গা নদীর দক্ষিণ পাশে নিয়ে তার ডান চোখে ঘুষি, ডান হাতে ও শরীরে আঘাত করে। এসময় হোটেল ব্যবসায়ী মফিজ বিশ্বাস ঘুম থেকে উঠে গেলে রবিউল বিশ্বাস মাটিতে ফেলে দেয় এবং ইমরান বিশ্বাস রামদা ও ফরিদা বেগম মেহগনির ডাল দিয়ে আঘাত করে। রবিউল খাটো কোপের দা ও ইমরান রাম দা দিয়ে কোপ মারতে গেলে মফিজ বিশ্বাস মাথা সরালে ইমরানের কোপ সরাসরি ফরিদার কপালে লাগে। আখিয়া খাতুন ঘটনাস্থলে গেলে রবিউল বিশ্বাস তাকে ধাক্কা দিয়ে তার বাড়ির গেটের মধ্যে ফেলে শেফালী খাতুন বটি ও ছ্যান্দা দিয়ে বগলের নিচে ও ডান হাতে কোপ দেয়। এরপর হাফিজ বিশ্বাসকে রবিউল খাটো দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপায়। গোপন সূত্রে জানা যায়, রবিউল ও ফরিদার কাছে লালু বিশ্বাস, আলম বিশ্বাস ও সায়েদ বলে ৪-৫ লাখ টাকা লাগলে আমরা দিবো তবুও ওদেরকে মেরে ফেলতে হবে। হাফিজ বিশ্বাসের মাথায় ১৩ টা সেলাই ও পিটে ২ স্থানে সেলাই, মফিজ বিশ্বাসের অবস্থা আশংকাজনক পিটে ২ টা কোপ, ঘাড়ে কান বরাবর, বাম হাতের রগ কেটে গেছে ও আঙ্গুলের ৪ টি রগ কেটে গেছে মোট ৭ স্থানে ১০০ টি সেলাই লেগেছে, রিয়াদ বিশ্বাসের বাম হাত ও ঘাড়ে আঘাত ও আখিয়া খাতুনে বাম পাশে বগলের নিচে ১২ টি সেলাই ও ডান হাতে ২ টি সেলাই লেগেছে।

মাগুরা সদর থানার গত শুক্রবার ১৭ মে মামলা নং-২২ সূত্রে জানা যায়, গৃহগ্রামের মোঃ রিয়াদ বিশ্বাস (২১), -মৃত পাচু বিশ্বাস, বাদী হয়ে আসামী ইমরান বিশ্বাস (২১), পিং-মোঃ রবিউল বিশ্বাস, মোঃ রবিউল বিশ্বাস (৪৮) পিং- মৃত মালেক বিশ্বাস শেফালী খাতুন (২৫), পিং-মোঃ রবিউল বিশ্বাস, মোছাঃ ফরিদা বেগম (৪৫), স্বামী-মোঃ রবিউল বিশ্বাস, আলম বিশ্বাস (৪০), পিতা-মৃত মালেক বিশ্বাস, ৬। লালু বিশ্বাসের পিতা- মৃত ছালেক বিশ্বাস, সর্বসাং-গৃহগ্রাম, থানা ও জেলা- মাগুরার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৮৬০ সালের আইনের ১৪৩, ৪৪৭, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ৩৭৯, ৫০৬ ও ১১৪ ধারায় এজাহার দায়ের করা হয়। রিয়াদ বিশ্বাসের পিতার মৃত্যুর পর ভাই ও মাকে নিয়ে আপন বড় মামা মোঃ মফিজ বিশ্বাস (৩৮), পিতা- মোঃ বাবর আলী বিশ্বাস, সাং-গৃহগ্রামে বাড়ীতে বসবাস করি। আসামীরা সম্পর্কে রিয়াদের চাচাতো মামা ও তার আপন মামা মোঃ মফিজ বিশ্বাস, হাফিজ বিশ্বাসের বাড়ী পাশাপাশি হওয়ায় বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো। উক্ত বিষয় নিয়ে আসামীরা রিয়াদের মামাকেসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের খুন জখমের হুমকি দেয়। এরই জের ধরে গত বৃহস্পতিবার ১৬ মে বিকাল ৪ টার সময় আপন মামা মোঃ হাফিজ বিশ্বাস (২৭) সামনের নবগঙ্গা নদীর ফাঁকা মাঠে ঘাস কাটতে গেলে ইমরান বিশ্বাসের সহিত কথা কটাকাটির এক পর্যায়ে তার হাতে থাকা কাঠের বাটাম দিয়ে ছোট মামা মোঃ হাফিজ বিশ্বাসকে খুন করার উদ্দেশ্যে মাথার উপরে আঘাত করে ফাঁটা গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। ছোট মামা মাঠিতে পড়ে গেলে ইমরান বিশ্বাস ঘাস কাটা কাচি দিয়ে পিঠের বাম পাশে কোপ মেরে রক্তাক্ত জখম করে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিল ঘুষি মেরে জখম করে। ছোট মামা মাঠের মধ্যে পড়ে থাকলে আসামী ইমরান বিশ্বাস মাঠ থেকে বাড়ীতে এসে অন্যান্য সকল আসামীকে সঙ্গে নিয়ে বেআইনী জনতাবদ্ধে হাতে রামদা, ছ্যানদা, লোহার রড, বাঁশের লাঠি নিয়ে মামা মোঃ মফিজ বিশ্বাসকে বেদম আকারে মারধর ও কোপায়।
বাড়ীতে অনধিকার প্রবেশ করিয়া রবিউল বিশ্বাস ও আলম বিশ্বাস হুকুম দিয়া বলে যে, সকলকে আজ খুন করিয়া ফেল এবং আমাদের সাথে বিবাদ করার সাধ মিটাইয়াদে। তখন আসামি ইমরান বিশ্বাস তার হাতে থাকা রামদা দিয়ে বড় মামা মোঃ মফিজ বিশ্বাসকে খুন করার উদ্দেশ্যে মাথা লক্ষ্য করে কোপ মারলে মামার মাথা সরিয়ে নিতে গেলে উক্ত কোপ মামার ডান পাশে লেগে কান কেটে ঘাড়ের উপর লাগিয়া কাটা গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। উক্ত কোপ খেয়ে মামা মাঠির উপর পড়ে গেলে ইমরান বিশ্বাস মামাকে খুন করার উদ্দেশ্যে ধারালো রামদা দিয়ে পিঠের নিলদাড়ার পাশে কোপ মেরে হাড় মাংস কেটে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। উক্ত সময় রবিউল বিশ্বাসের হাতে থাকা রামদা দিয়ে বড় মামা মোঃ মফিজ বিশ্বাসরে মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য পিঠের উক্ত কোপের নিচে কোপ মেরে কাটা গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। ইমরান রামদা দিয়ে বড় মামাকে খুন করার জন্য মাথা লক্ষ্য করে কোপ মারিলে উক্ত কোপ মামার বাম হাত দিয়ে ঠেকালে বাম হাতের মাঝের ৪ টি আঙ্গুল কেটে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়ে আঙ্গুল ঝুলতে থাকে। তখন রবিউল বিশ্বাস রামদা দিয়ে মামার ডান পাশে কাধের নিচে কোপ মারিয়া কাটা রক্তাক্ত জখম করে। উক্ত সময় আপন সেজো খালা আখিয়া বেগম (২৫), পিতা-মোঃ বাবার আলী বিশ্বাস আসামীদের হাত থেকে বাঁচাতে গেলে শেফালী খাতুন এর হাতে থাকা ছ্যানদা দিয়ে খালাকে খুন করার উদ্দেশ্যে মাথা লক্ষ্য করে কোপ মারিলে খালার মাথা সরিয়ে নিলে উক্ত কোপ খালার বাম পাশের বগলের নিচে কমরের একটু উপরে লাগিয়া কাটা গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। খালা পড়ে গেলে ছ্যানদা দিয়ে ডান বাহুর উপর কোপ মারিয়া কাটা রক্তাক্ত জখম করে। তখন মা মায়া বেগম (৫৯), মামাকে ও খালাকে বাঁচাতে গেলে আলম বিশ্বাস ও লালু বিশ্বাস মায়ের শরিরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি মারপিট করে নীলাফুলা জখম করে। আসামীরা মারপিট করার সময় ফরিদা বেগম খালা আখিয়া বেগমের গলায় থাকা ৮ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন যাহার মুল্য ৫২ হাজার টাকা নিয়ে নেয়। লালু বিশ্বাস মায়ের গলায় থাকা একটি ৭ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন যাহার মূল্য ৪৮ হাজার টাকা নিয়ে নেয়। উক্ত সময় আসামীদের হাত থেকে ভিকটিমদের বাঁচাতে রিয়াদ এগিয়ে গেলে আসামীরা তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারপিট করে নীলাফুলা জখম করে। তখন ইমরান রামদা দিয়ে কোপ মারতে গেলে রিয়াদ দৌড়ে আসামীদের হাত থেকে বাঁচে। ভিকটিমদের ডাক চিৎকারে সাক্ষী ইমন মোল্যা (২২), পিতা- ওহিদ মোল্যা, শাহিনুর বেগম (৪৫), স্বামী- আব্দুর রাজ্জাক বিশ্বাস, মোঃ জিহাদ বিশ্বাস (২৩), পিতা-মৃত পাচু বিশ্বাস, সর্ব সাং-গৃহগ্রাম, থানা ও জেলা- মাগুরাগণসহ স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে আসামীরা খুন জখমের হুমকি প্রদান করে ঘটনাস্থল হতে চলে যায়। সাক্ষীগণসহ রিয়াদসহ ভিকটিমদের উদ্ধার করে পথচলতি ইজিবাইকে করে দ্রুত মাগুরা সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। মোঃ মফিজ বিশ্বাসের অবস্থা আশংঙ্কাজনক হওয়ায় মাগুরা সদর হাসপাতাল হতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। বর্তমানে মোঃ মফিজ বিশ্বাস মুমূর্ষু অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে। মোঃ হাফিজ বিশ্বাস ও আখিয়া বেগম মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি আছে।

সরেজমিনে শুক্রবার ২৪ মে দুপুরে গৃহগ্রামের আলোকদিয়া বাজারের মাছ ব্যবসায়ী সিরিজদিয়ার সাগর শেখ (৪৫), পুকুরিয়ার ইমন মোল্লা (২৩), গৃহগ্রামের রিয়াদ বিশ্বাস (২১), রেখা বেগম (২৭), হালিমা বেগম (৫৫), রিকশাচালক আব্দুর রাজ্জাক (৫৫), রোকেয়া বেগম ও রুবেল বিশ্বাস বলেন, ভ্যানচালক রবিউল বিশ্বাস, ইমরান বিশ্বাস, শেফালী খাতুন ও ফরিদা বেগম ৫ জন লোক হাফিজ, মফিজ, আখিয়া, রিয়াদ ও মায়াকে ব্যাপক আকারে মারধর ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করেছে। ভুক্তভোগী আখিয়া ও তার মা দোষী ও অপরাধীদের আইনের আওতায় বিচার ও শাস্তি দাবি করেন। এছাড়াও এলাকাবাসীর গোপন সূত্রে জানা যায়, শিল্পী বেগম স্বামী- কলম বিশ্বাস, চম্পা বেগম স্বামী ইকবাল বিশ্বাস ও ইকবাল বিশ্বাসের পুত্র ছালেক বিশ্বাস বলছে হাফিজ, মফিজ আখিয়া, মায়া ও রিয়াদ এদেরকে মেরে ফেললে কে দেখবে ওদের কেউ নাই এই বলে সন্ত্রাসী মূলক হুমকি ও ভীতি প্রদর্শন কথা বার্তা বলে বেড়াচ্ছে।
মামলার তদন্ত সাব ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মোঃ ইমরুল হুসাইন জানান, ২ নং আসামি রবিউল বিশ্বাসকে ভায়না মোড় থেকে ও ৬ নং আসামি লালু বিশ্বাসকে বাড়ির সামনে থেকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি আরও বলেন, বাকী সব আসামিরা পলাতক রয়েছে এবং তাদের ফোন নম্বর বন্ধ, তবে আসামিদের গ্রেফতারের জন্যে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।