26 Feb 2025, 12:21 pm

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : মাদারীপুরের শিবচরের কুতুবপুর এলাকায় বাস দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২০ জনে দাঁড়িয়েছে। রোববার (১৯ মার্চ) সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

শিবচর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু নাঈম মো. মোফাজ্জেল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহতদের মধ্যে ১১ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- গোপালগঞ্জের ত্রিনদীর রঞ্জন মন্ডল (৫০), মুকসুদপুরের মো. আমজাদ আলীর ছেলে মাসুদ মিয়া (৩৫), খুলনার সোনাডাঙ্গার শেখ আহমদ মিয়ার ছেলে শেখ আব্দুল আল মামুন (৪২), গোপালগঞ্জ সদরের মো. হেদায়েত মিয়া (৪৭), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী গোপালগঞ্জ সদরের মাসুদ মিয়ার মেয়ে সুইটি আক্তার (২২), নড়াইলের লোহাগাড়ার বকু শিকদারের ছেলে ফরহাদ হোসেন (৬৭), গোপালগঞ্জ সদরের মাসুম মিয়ার ছেলে মোস্তাক শেখ (৪১), গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার মো. কাঞ্চন শেখের ছেলে শেখ কবির হোসেন (৫৭), ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও গোপালগঞ্জ সদরের আবু হেনা মোস্তফার মেয়ে আফসানা মিমি (২৫), গোপালগঞ্জের নওশাদ শেখের ছেলে সজীব (২৭), ফরিদপুর আলফাডাঙ্গা এলাকার শহিদ মুরাদ আলীর ছেলে ইসমাইল হোসেন (২৮)। বাকিদের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়রা জানান, রোববার সকালে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ইমাদ পরিবহনের একটি বাস পদ্মা সেতুর আগে এক্সপ্রেসওয়ের শিবচরের কুতুবপুর এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিচে পড়ে যায়। এ ঘটনায় বাসটি দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ১৪ জন যাত্রী নিহত হন।

শিবচর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু নাঈম মো. মোফাজ্জেল হক বলেন, দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২০ জন নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকেই ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চারজন মারা যান। এছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুইজন মারা যান।

 

মাদারীপুরের এক্সপ্রেসওয়েতে যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রন হারিয়ে খাদে ; ২০ জন নিহত

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : ইউক্রেনের বন্দরে আটকে থাকা শস্য নিরাপদে বের করে নেওয়ার জন্য করা কৃষ্ণ সাগর শস্য রপ্তানি চুক্তির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানো হয়েছে। শনিবার (১৮ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

জাতিসংঘ ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় ২০২২ সালের জুলাইয়ে রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে প্রথম এ চুক্তি হয়। ওই সময় চুক্তির মেয়াদ ছিল ১২০ দিন। মাঝে চুক্তি থেকে বের হয়ে যায় রাশিয়া। তবে অনেক দেন দরবারের পর নভেম্বরেও আবারও চুক্তি নবায়ন করা হয়। যেটির মেয়াদ ২০২৩ সালের ১৮ মার্চ শেষ হয়। এখন নতুন করে আরও ২ মাসের জন্য এটির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

তবে ইউক্রেন চেয়েছিল চুক্তির মেয়াদ নতুন করে আরও ১২০ দিনের জন্য বাড়াতে। কিন্তু রাশিয়া এতে রাজি হয়নি। উল্টো তারা হুমকি দিয়েছে, আবার যখন চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর সময় আসবে তখন কিছু নিষেধাজ্ঞা তুলে দিতে হবে। নয়ত মেয়াদ বাড়বে না।

২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে হামলা করে কৃষ্ণ সাগরের নিয়ন্ত্রণ নেয় রাশিয়া। আর এ কৃষ্ণ সাগর দিয়েই বিশ্বব্যাপী নিজেদের শস্য রপ্তানি করে ইউক্রেন। রুশ নৌ সেনারা কৃষ্ণ সাগরে অবস্থান নেওয়ার পর ইউক্রেনের শস্য রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকটের শঙ্কা দেখা দেয়।

এদিকে পরবর্তীতে এ চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর শর্তও জানিয়ে দিয়েছে রাশিয়া। জাতিসংঘে নিযুক্ত রুশ স্থায়ী দূত ভাসালি নেবেনজিয়া শুক্রবার বলেছেন, ‘রাশিয়ার কৃষি পণ্য এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবকিছু থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যের হাতে এখন দুই মাস সময় আছে, যদি তারা চুক্তির মেয়াদ আরও বাড়াতে চায়।’

পশ্চিমারা রাশিয়ার ওপর অসংখ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও, তাদের কৃষি পণ্য ও সারের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। তবে মস্কোর দাবি, অন্যান্য খাতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কারণে পণ্য সরবরাহ, অর্থ পাওয়াসহ তাদের বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

শুক্রবার রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে জাতিসংঘে নিযুক্ত রুশ দূত আরও বলেছেন, রাশিয়া চায় তাদের কৃষি ব্যাংকগুলোকে যেন আবার সুইফট ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হয় এবং তাদের কৃষি পণ্য, যন্ত্রাংশ ও খুচরা যন্ত্রাংশ পরিবহণ ও বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়।

এছাড়া বন্দরগুলোতে যাওয়ার জন্য রাশিয়ার জাহাজ ও কার্গোগুলোকে ইন্সুরেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে যে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে সেটি তুলে দিতে হবে এবং যে পা্ইপ লাইনের মাধ্যমে কৃষ্ণ সাগরে রাশিয়ার অ্যামোনিয়া যায় সেটি পুনরায় চালু করে দিতে হবে এবং রাশিয়ার সার কারখানাগুলোর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল করে দিতে হবে।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, রাশিয়ার কৃষি পণ্য সরবরাহ নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমানে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি নিয়ে সমস্যা চলছে। সূত্র: রয়টার্স

 

‘কৃষ্ণ সাগর দিয়ে ইউক্রেনের শস্য রপ্তানি’ চুক্তির মেয়াদ বাড়ল

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : মঙ্গলগ্রহে একটি প্রাচীন হিমবাহের অবশিষ্ট অংশের সন্ধান মিলেছে। ফলে বোঝা যাচ্ছে সেখানে এখনো পানির কিছু গঠন রয়েছে। লাল এই গ্রহটিতে একদিন মানুষ পা ফেলবে বলেও আশা করা হচ্ছে। খবর সিএনএনের।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বরফের বিশাল অংশ সেখনে এখন আর নেই। কিন্তু বিজ্ঞানীরা মঙ্গলগ্রহের ইকুয়েটরিয়াল অঞ্চলের ওই জায়গায় এক সময় হিমবাহের অস্তিত্ব ছিল তার সন্ধান পেয়েছে। সেখানে যা জমে রয়েছে তাতে সাধারণত হালকা রঙের সালফেট লবণ থাকে।

গবেষণা দলটি হিমবাহের অভ্যন্তরে তৈরি ক্রেভাস ক্ষেত্র বা ডিপ ওয়েডজ-আকৃতির খোলা অংশও দেখেছে।

সম্প্রতি টেক্সাসের দ্য উডল্যান্ডসে ৫৪তম চন্দ্র-গ্রহ বিজ্ঞান সম্মেলনে মঙ্গলগ্রহের এসব সন্ধানের তথ্য প্রকাশ করা হয়।

এসইটিআই ইনস্টিটিউট ও মার্স ইনস্টিটিউটের সিনিয়র গ্রহ বিজ্ঞানী ডক্টর প্যাসকেল লি এক বিবৃতিতে বলেছেন, আমরা যা পেয়েছি তা বরফ নয় বরং হিমবাহের বিশদ আকারগত বৈশিষ্ট্যসহ লবণের স্তূপ। মূলত হিমবাহের উপরেই এই লবণ তৈরি হয়েছে।

গবেষকরা মনে করছেন, হিমবাহটির দৈর্ঘ ছিল তিন দশমিক সাত মাইল বা ছয় কিলোমিটার এবং এর প্রস্থ ছিল দুই দশমিক পাঁচ মাইল বা ৪ কিলোমিটার।

 

মঙ্গলগ্রহে হিমবাহের অবশিষ্ট অংশের সন্ধান পেলেন গবেষকদল

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : লিবিয়ার একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী দাবি করেছে, দক্ষিণ লিবিয়া থেকে ড্রামভর্তি যে আড়াই টন প্রাকৃতিক ইউরেনিয়াম হারিয়ে গিয়েছিল সেগুলো তারা পেয়েছে। স্বঘোষিত লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির (এলএনএ) মুখপাত্র খালেদ আল মাহজৌব এক ফেসবুক পোস্টে বলেন, যে গুদামে ইউরেনিয়ামের ড্রামগুলো রাখা ছিল সেখান থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে সেগুলো পেয়েছে তারা। মাহজৌবের পোস্ট করা এক ভিডিওতে দেখা যায়, নিখোঁজ ইউরেনিয়ামগুলো সেখানে আছে বলে দাবি করা নীল রঙের ১৮টি ড্রাম শব্দ করে গুণে দেখছেন সুরক্ষা পোশাক পরা এক ব্যক্তি।

অপরদিকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) বুধবার জানায়, জমাট বাঁধা ইউরেনিয়াম আকরিক (ইউওসি) অবস্থায় ‘১০টি ড্রামে’ রাখা প্রায় আড়াই টন প্রাকৃতিক ইউরেনিয়াম খোয়া গেছে। মঙ্গলবার আইএইএ এর পরিদর্শকরা তদরকি করতে যাওয়ার পর বিষয়টি ধরা পড়ে বলে জানিয়েছিল তারা। এলএনএ যেগুলো পেয়েছে সেগুলোই আইএইএ এর উল্লেখ করা হারানো ড্রামগুলো কিনা তা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষক সংস্থাটির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। আইএইএ বলেছে, উপাদানগুলো পাওয়া গেছে গণমাধ্যমের এমন প্রতিবেদনের বিষয়ে আমরা জ্ঞাত আছি ।

লিবিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে কড়া প্রহরাধীন এক গুদামে ইউরেনিয়ামের ড্রামগুলো রাখা ছিল। ফেসবুক পোস্টে মাহজৌব জানান, তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ছড়াতে পারে উদ্বেগে গুদামের ঐ রক্ষীদের কিছুটা দূরে নিয়ে রাখা হয়েছিল। গুদামের এক পাশে ড্রামের আকারের একটি কাটা অংশ পাওয়া যায় বলে মাহজৌব জানিয়েছেন।

মাহজৌবের দাবি, ঐ ড্রামগুলোতে অস্ত্র আছে এমন ধারণা করে শাদের একটি গোষ্ঠী সম্ভবত সেগুলো চুরি করেছিল, কিন্তু ভেতরে কী আছে এটি ঠিকমতো বুঝতে না পেরে সেগুলো ফেলে চলে যায় তারা। তবে তাদের এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেয়নি এলএনএ। তারা আরো জানিয়েছে, আইএইএ ২০২০ সালে গুদামটি পরিদর্শন করে ড্রামগুলোতে ইউরেনিয়াম আছে বলে চিহ্নিত করেছিল, তারপর থেকে গুদামটি পাহারা দেওয়ার জন্য ঐ বাহিনীগুলোকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

 

লিবিয়ায় নিখোঁজ আড়াই টন ইউরেনিয়াম চলে গেছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হাতে

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড নিজেই শঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, তিনি আগামী মঙ্গলবার গ্রেফতার হতে পারেন। এ অবস্থায় তার গ্রেফতার ঠেকাতে সমর্থকদের বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

২০১৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে সাবেক পর্ন তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলসের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের বিষয়টি চেপে যেতে গোপনে অর্থ প্রদান করেন তিনি। ওই অভিযোগে জড়িত একটি মামলায় গ্রেফতার হতে পারেন সাবেক প্রেসিডেন্ট।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শনিবার (১৮ মার্চ) নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে একটি পোস্টে, ট্রাম্প তার তার সমর্থকদের প্রতিবাদের আহ্বান জানিয়েছেন। অভিযোগ প্রমাণ হলে তিনিই প্রথম  সাবেক কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফৌজদারি মামলায় গ্রেফতার হবেন।

২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে সাবেক পর্ন তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলসকে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে বড় অংকের টাকা ঘুষ দেওয়া হয়। এমন অভিযোগ নিয়ে নিউইয়র্কের প্রসিকিউটররা গত পাঁচ বছর ধরে তদন্ত করে আসছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনও অভিযোগ প্রমাণ হয়নি। প্রতিটি অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করে আসছেন ট্রাম্প।

এ নিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে ট্রাম্পের সুনাম তলানিতে ঠেকে। গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেনের কাছে হেরে গেলেও ২০২৪ সালে ফের লড়াইয়ের কথা জানিয়েছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হলেও মনোনয়ন পেতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানোর প্রতিজ্ঞা করেছেন। সূত্র: বিবিসি, আল জাজিরা

 

নিজেই গ্রেফতারের আশংকা প্রকাশ করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : তোশাখানা দুর্নীতি মামলায় পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান আদালতে হাজির হওয়ার পর নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা বাতিল করেছেন বিচারক। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইমরানের আইনজীবী। এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

গতকাল শনিবার (১৮ মার্চ) দিনভর পাকিস্তানের আদালত প্রাঙ্গণে ব্যাপক সংঘর্ষের পর তোশাখানা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরানের শুনানি বাতিল করে ইসলামাবাদের একটি আদালত। পুলিশের দাবি, ইমরানের সমর্থকরা আদালত প্রাঙ্গণে পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর এবং গ্যাস ছুড়ে।

এদিকে ইমরান খানের আইনি দলের ফয়সাল ফরিদ চৌধুরীর আল জাজিরাকে বলেন, রাজধানী ইসলামাবাদের আদালত অধিবেশন স্থগিত করেছে। আগামী ৩০ মার্চ হাজির হওয়ার পরবর্তী তারিখ ধার্য করে  সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরানের উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এ বিষয়ে ফয়সাল চৌধুরী অভিযোগ করে আরও বলেন, ইমরান খান তার গাড়িতে আদালতের বাইরে ছিলেন, আদালতে প্রবেশের চেষ্টা করেন। কিন্তু আদালতে যেন প্রবেশ করতে না পারেন, পুলিশ বাধা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিল। পিটিআই চেয়ারম্যানের সমর্থকদের ওপর নৃশংসভাবে হামলা চালিয়েছে পুলিশ। অনেককে গ্রেফতার করেছে তারা।

শনিবার ইমরান খান যখন শুনানিতে হাজির হতে ইসলামাবাদ রওনা দেয়, এর ঘণ্টাখানেক পর লাহোরে তার বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় ইমরানের বাড়িতে কেবল তার স্ত্রী বুশরা বেগম ছিলেন।

পুলিশ যখন ব্যারিকেড সরিয়ে বাড়ির ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে, তখন বাড়ির সামনে থাকা ইমরানের সমর্থকদের সঙ্গে তাদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ সময় আহত হন ১০ জন, ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয় ৩০ জনকে। সব মিলিয়ে ৬০ জনকে আটক দাবি করেছে পুলিশ।

ইমরানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগসহ একাধিক আদালতে মামলা রয়েছে। নিরাপত্তা ঘাটতির জন্য এসব মামলার শুনানিতে উপস্থিত হচ্ছেন না বলেও দাবি করেছেন তিনি। সূত্র: আল জাজিরা

 

নাটকীয়তার মধ্যে ইমরানের গ্রেফতারি পরোয়ানা বাতিল করলেন আদালত

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : রাশিয়ার দখলে থাকা বিতর্কিত ক্রিমিয়া উপদ্বীপ সফর করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ইউক্রেনের কাছ থেকে উপদ্বীপটি দখলে নেওয়ার নবম বার্ষিকী উপলক্ষে অঘোষিত এক সফরে শনিবার (১৮ মার্চ) ক্রিমিয়ায় যান তিনি।

ক্রিমিয়ায় এমন এক সময়ে পুতিনের এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে তার মাথা ওপর। মূলত তার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ এনেছে আদালত। শনিবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট পুতিনকে শনিবার সেভাস্তোপলের রাশিয়ান-নিযুক্ত গভর্নর মিখাইল রাজভোজায়েভ অভ্যর্থনা জানান এবং পরে তাকে নতুন একটি শিশু কেন্দ্র এবং আর্ট স্কুল দেখতে নিয়ে যাওয়া হয়। রুশ এই কর্মকর্তা পুতিনের এই সফরকে সারপ্রাইজ বলে উল্লেখ করেছেন।

মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে রাজভোজায়েভ বলেছেন, ‘আমাদের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানেন কীভাবে সারপ্রাইজ দিতে হয়। তিনি এটি বেশ ভালো উপায়েই পারেন।’

মস্কো-নিযুক্ত এই কর্মকর্তা আরও বলেছেন, ‘ভ্লাদিমির পুতিন ব্যক্তিগতভাবে এখানে এসেছিলেন। নিজেই গাড়ি চালিয়ে। এমন একটি ঐতিহাসিক দিনে, রুশ প্রেসিডেন্ট সর্বদা সেভাস্তোপল এবং সেভাস্তোপলের জনগণের সাথেই আছেন।’

আল জাজিরা বলছে, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মিডিয়া অবশ্য তাৎক্ষণিকভাবে পুতিনের কোনও মন্তব্য সম্প্রচার করেনি। মূলত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) পুতিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার এবং তাকে ইউক্রেন থেকে শত শত শিশুকে অবৈধভাবে নির্বাসনের জন্য যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত করার একদিন পর এই সফরটি অনুষ্ঠিত হলো।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট পুতিন এখনও প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি। তবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র এটিকে ‘অকার্যকর’ বলে অভিহিত করে বলেছেন, আইসিসির উত্থাপিত বিষয়গুলোকে ‘আপত্তিকর এবং অগ্রহণযোগ্য’ বলে মনে করছে রাশিয়া।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণ মাত্রায় সামরিক আগ্রাসন শুরু করে রাশিয়া। এর আট বছর আগে ২০১৪ সালে ইউক্রেনের কাছ থেকে ক্রিমিয়া উপদ্বীপটি দখল করে নেয় মস্কো। তবে ইউক্রেন বলেছে, তারা ক্রিমিয়াসহ অন্যান্য সকল অঞ্চল থেকে রাশিয়াকে বিতাড়িত করতে লড়াই চালিয়ে যাবে।

পুতিন অবশ্য রাশিয়ার দখল করে নেওয়া কোনও এলাকা ত্যাগ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেননি। এর পরিবর্তে তিনি শুক্রবার ক্রিমিয়ায় দখলদারিত্ব ধরে রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

ক্রিমিয়ার বৃহত্তম শহর সেভাস্তোপলের কথা উল্লেখ করে পুতিন সেদিন বলেন, ‘অবশ্যই, নিরাপত্তা সমস্যাগুলো এখন ক্রিমিয়া এবং সেভাস্তোপলের জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। যেকোনো হুমকি প্রতিহত করার জন্য আমরা যা যা করা দরকার তাই করব।’

এর আগে ইউক্রেনে যুদ্ধাপরাধ করার অভিযোগে গত শুক্রবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। পুতিনের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ, তিনি বেআইনিভাবে ইউক্রেনের শিশুদের রাশিয়াতে সরিয়ে নিয়েছেন।

আদালত বলছে, এই অপরাধ গত বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেনে অভিযান শুরুর পর থেকেই ঘটে চলেছে। একই অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে রুশ প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের শিশু অধিকার বিষয়ক কমিশনার মারিয়া এলভোভা-বেলোভার বিরুদ্ধেও।

মূলত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের হাতে বিচারিক ক্ষমতা থাকলেও কোনও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা নেই। আইসিসি যা করতে পারে তা হলো, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বিভিন্ন দেশের সহায়তায় গ্রেপ্তার করা এবং গ্রেপ্তারের পরে তাকে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে বিচারের জন্য হাজির করা।

এছাড়া আইসিসি তার বিচারিক ক্ষমতাও শুধু সেসব দেশে প্রয়োগ করতে পারে, যে দেশগুলো এই আদালত গঠন করতে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল। চুক্তিটি রোম সংবিধি নামে পরিচিত। রাশিয়া এই সংবিধিতে স্বাক্ষর করেনি। তাই পুতিন বা মারিয়া এলভোভা-বেলোভাকে আপাতত এই আদালতের হাতে সমর্পণের কোনও সুযোগ নেই।

আইসিসি’র গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে হঠাৎ ক্রিমিয়া সফরে পুতিন

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : উত্তর কোরিয়া ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। ইয়নহুপ বার্তা সংস্থার খবরে এ কথা বলা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বৃহৎ সামরিক মহড়ার প্রেক্ষাপটে ১৯ মার্চ রোববার উত্তর কোরিয়া সর্বশেষ এ ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাল।
সিউলের জয়েন্ট চিপস অব স্টাফের উদ্ধৃতি দিয়ে ইয়নহুপের খবরে বলা হয়, উত্তর কোরিয়া পূর্ব সাগরে ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে।
উত্তর কোরিয়ার রেকর্ডভাঙা পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা ও দেশটির পক্ষ থেকে পরমাণু হুমকির প্রেক্ষিতে ওয়াশিংটন ও সিউল নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করেছে। দেশদুটি গত পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড়ো সামরিক মহড়া গত ১৩ মার্চ শুরু করে। ফ্রিডম শিল্ড নামে পরিচিত এই মহড়া চলবে ১০ দিন।
এদিকে উত্তর কোরিয়া এ মহড়াকে হামলার পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে বিবেচনা করছে।
দেশটি একাধিকবার সতর্ক করে বলেছে, তারা এ মহড়ার জবাবে ‘অপ্রতিরোধ্য’ পদক্ষেপ নেবে।

ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণ করলো উত্তর কোরিয়া

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : পাকিস্তানকে সহজে আর কোনো অর্থ সহায়তা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি আরব। শনিবার (১৮ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডেল ইস্ট আই।

সুদ-বিহীন ঋণ এবং সহজে আর্থিক সহায়তা দিতে সৌদি আরবের অপরাগতা প্রকাশের বিষয়টি পাকিস্তান সরকারের জন্য বড় একটি ধাক্কা এবং চমকের বিষয় ছিল।

এরইমধ্যে পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, পাকিস্তানে যখন অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থা চলছে, তখন বন্ধু রাষ্ট্রগুলোও তাদের সহায়তা করছে না।

আন্তর্জাতিক ঋণদাতারা পাকিস্তানের কাছে প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলার পাবে। যা আগামী ২-৩ বছরের মধ্যে শোধ করতে হবে। আর এমন সময়ে দেশটির দরকার ডলার। যদি তারা ডলার না পায় তাহলে দেশটির নাম ঋণ খেলাপির তালিকায় ওঠবে। বর্তমানে পাকিস্তানের বৈদশিক রিজার্ভ ৪ বিলিয়ন ডলারেরও কম রয়েছে।

চলমান অর্থনৈতিক দুরাবস্থা কাটাতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে ঋণ পাওয়ার চেষ্টা করছে ইসলামাবাদ। কিন্তু এ ঋণ বিতরণটি থমকে আছে। যদি পাকিস্তান আইএমএফের কাছ থেকে ঋণ না পায় তাহলে অন্য দেশের কাছ থেকেও সহায়তা পাওয়ার বিষয়টি ঝুলে যাবে।

একজন অর্থনৈতিক বিশ্লেষক জানিয়েছেন, সৌদি আরব পাকিস্তানকে শর্ত দিয়েছে, ঋণ পেতে হলে অর্থনৈতিক অবকাঠামো ঢেলে সাজাতে হবে। এই একই রকম শর্ত দিয়েছিল আইএমএফও।

সৌদি আরবের কিং ফয়সাল সেন্টার ফর রিসার্চ এন্ড ইসলামিক স্টাডিসের সহকারী ফেলো উমর করিম বলেছেন, ‘পাকিস্তান সরকার সৌদির সিদ্ধান্তে অবাক হয়েছে। আগে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অথবা প্রধানমন্ত্রীর ফোনেই গালফ দেশগুলো আর্থিক সহায়তা দিত। কিন্তু এবার পাকিস্তানকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।’

ধারণা করা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব গিয়েছিলেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান। আর্থিক সহায়তার ব্যাপারে কথা বলতে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। কিন্তু পাক সেনা প্রধান ক্রাউন প্রিন্সকে বোঝাতে ব্যর্থ হন।

সৌদি আরবের নীতির পরিবর্তন : ঋণ ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে সৌদি আরব তাদের নীতি পরিবর্তন করেছে। জানুয়ারিতে সৌদি অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-জাদান জানান, ‘আমরা অতীতে সহজে ঋণ সহায়তা দিয়েছি। কিন্তু এ নীতি পরিবর্তন করা হবে।’

আটলান্টিক কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ ফেলো কামাল আলম বলেছেন, সৌদি আরবের নীতি পরিবর্তনের বিষয়টি পাকিস্তানের মাথায় নেওয়া উচিত।

তার মতে পাকিস্তান এমন একটি ভ্রান্ত ধারণায় আছে যে, তারা হলো পারমাণবিক শক্তিসমৃদ্ধ দেশ। তাদের আছে ২২ কোটি জনসংখ্যা। আর এত বড় একটি দেশকে বিশ্ব ফেলে দিতে পারবে না। এ কারণে দেশটির সরকার ও সেনাবাহিনী মনে করে তারা সহজেই প্রয়োজনীয় ঋণ পেয়ে যাবে। সূত্র: মিডেল ইস্ট আই

সহজে আর পাকিস্তানকে অর্থ দিবে না সৌদি আরব